‘সমলয়’ প্রকল্পের শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ
jugantor
ঝিনাইদহ কৃষি অধিদপ্তর
‘সমলয়’ প্রকল্পের শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ

  মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ‘সমলয়’ পদ্ধতিতে চাষাবাদ (একইসঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ) প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্নার মাঠে সার, বীজ ও চারা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো হাইব্রিড ধানের ‘সমলয়’ প্রকল্প গাগান্না গ্রামের হাজরাতলা ও আদরী-বটতলা মাঠে গ্রহণ করা হয়। এতে ১৩৯ জন কৃষকের ৫০ একর জমি বেছে নেওয়া হয়। একর প্রতি ১০০ কেজি, ডিএপি ৫০ কেজি, এমওপি ৫০ কেজি, জিপসাম ৪০ কেজি, দস্তাসার চার কেজি দেওয়ার কথা। একইসঙ্গে যন্ত্র দিয়ে জমিতে চারা রোপণসহ সব কার্যক্রম সরকারি খরচে করার কথা। হলিধানী ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামের কৃষক রকমন অভিযোগ করেন, তাকে সার ও ধানের চারা দেওয়া হয়নি। যারা সার পেয়েছে তাদের ওজনে কম দেওয়া হয়েছে।

দিন-রাত খেটে ধানের চারা প্রস্তুতকারী গাগান্না গ্রামের কৃষক আলমাস আলী বলেন, তার ১৮ শতক জমির জন্য সার দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩০ শতক জমির সার দেওয়া হয়নি। রাজনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, প্রকল্প এলাকার মাঠের ৫০ একর জমিতে যন্ত্র দিয়ে চারা লাগানোর কথা থাকলেও ২০ একরের কিছু বেশি জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। ৩০ একরের জন্য সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধানের চারা ২০ ডিসেম্বর খাতা-কলমে দেখানো হলেও কৃষকরা পরিবর্তে এখনো হাতে ধানের চারা লাগাচ্ছেন। বিলম্বে চারা লাগানোর ফলে ‘সমলয়’ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রকল্প কৃষকরা। তার আরও অভিযোগ, এক কৃষি কর্মকর্তা পাশের বৈডাঙ্গাবাজারে বেনামে সার মজুদ করে বিক্রি করছেন।

কৃষকরা জানান, অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপার ভাইজার) লতিফুল কবীর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। কৃষকরা আরও জানান, বেনামে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন লতিফুল কবীর। এলাকার বৈডাঙ্গাবাজারে বেনামে তার সারের দোকান রয়েছে। সব অভিযোগ অস্বীকার করে লতিফুল কবীর বলেন, আমি সারের ব্যবসা করি না। তবে কয়েকজন কৃষককে এখনো সার দেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

কৃষকদের অভিযোগ স্বীকার করেছেন গাগান্না কৃষি ব্লকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপারভাইজার) নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লতিফুল কবীর সার বীজের হিসাব তাকে বুঝিয়ে দেননি। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, প্রকল্পটিতে কত টাকা খরচ হচ্ছে তা তার জানা নেই। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, উপপরিচালকের দপ্তর থেকে খরচের হিসাব রাখা হচ্ছে।

শনিবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোশাররফ হোসেন ও অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী জিনহাসহ অনেকে। তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্প এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো হাইব্রিড ধানের ‘সমলয়’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি করে কৃষি ব্লকে ভাগ করে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বীজতলা তৈরিসহ ‘এরাইজ তেজগোল্ড’ জাতের ধানের চারা রোপণ শুরু হয়। এ প্রকল্পের অধীন প্রদর্শনী খামার হিসাব ৫০ একর জমি বেছে নেওয়া হয়। মাঠে বীজতলা তৈরি, যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপণ এবং ধান কেটে দেওয়ার কথা।

ঝিনাইদহ কৃষি অধিদপ্তর

‘সমলয়’ প্রকল্পের শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ

 মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ‘সমলয়’ পদ্ধতিতে চাষাবাদ (একইসঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ) প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্নার মাঠে সার, বীজ ও চারা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো হাইব্রিড ধানের ‘সমলয়’ প্রকল্প গাগান্না গ্রামের হাজরাতলা ও আদরী-বটতলা মাঠে গ্রহণ করা হয়। এতে ১৩৯ জন কৃষকের ৫০ একর জমি বেছে নেওয়া হয়। একর প্রতি ১০০ কেজি, ডিএপি ৫০ কেজি, এমওপি ৫০ কেজি, জিপসাম ৪০ কেজি, দস্তাসার চার কেজি দেওয়ার কথা। একইসঙ্গে যন্ত্র দিয়ে জমিতে চারা রোপণসহ সব কার্যক্রম সরকারি খরচে করার কথা। হলিধানী ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামের কৃষক রকমন অভিযোগ করেন, তাকে সার ও ধানের চারা দেওয়া হয়নি। যারা সার পেয়েছে তাদের ওজনে কম দেওয়া হয়েছে।

দিন-রাত খেটে ধানের চারা প্রস্তুতকারী গাগান্না গ্রামের কৃষক আলমাস আলী বলেন, তার ১৮ শতক জমির জন্য সার দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩০ শতক জমির সার দেওয়া হয়নি। রাজনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, প্রকল্প এলাকার মাঠের ৫০ একর জমিতে যন্ত্র দিয়ে চারা লাগানোর কথা থাকলেও ২০ একরের কিছু বেশি জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। ৩০ একরের জন্য সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধানের চারা ২০ ডিসেম্বর খাতা-কলমে দেখানো হলেও কৃষকরা পরিবর্তে এখনো হাতে ধানের চারা লাগাচ্ছেন। বিলম্বে চারা লাগানোর ফলে ‘সমলয়’ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রকল্প কৃষকরা। তার আরও অভিযোগ, এক কৃষি কর্মকর্তা পাশের বৈডাঙ্গাবাজারে বেনামে সার মজুদ করে বিক্রি করছেন।

কৃষকরা জানান, অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপার ভাইজার) লতিফুল কবীর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। কৃষকরা আরও জানান, বেনামে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন লতিফুল কবীর। এলাকার বৈডাঙ্গাবাজারে বেনামে তার সারের দোকান রয়েছে। সব অভিযোগ অস্বীকার করে লতিফুল কবীর বলেন, আমি সারের ব্যবসা করি না। তবে কয়েকজন কৃষককে এখনো সার দেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

কৃষকদের অভিযোগ স্বীকার করেছেন গাগান্না কৃষি ব্লকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপারভাইজার) নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লতিফুল কবীর সার বীজের হিসাব তাকে বুঝিয়ে দেননি। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, প্রকল্পটিতে কত টাকা খরচ হচ্ছে তা তার জানা নেই। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, উপপরিচালকের দপ্তর থেকে খরচের হিসাব রাখা হচ্ছে।

শনিবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোশাররফ হোসেন ও অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী জিনহাসহ অনেকে। তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্প এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো হাইব্রিড ধানের ‘সমলয়’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি করে কৃষি ব্লকে ভাগ করে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বীজতলা তৈরিসহ ‘এরাইজ তেজগোল্ড’ জাতের ধানের চারা রোপণ শুরু হয়। এ প্রকল্পের অধীন প্রদর্শনী খামার হিসাব ৫০ একর জমি বেছে নেওয়া হয়। মাঠে বীজতলা তৈরি, যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপণ এবং ধান কেটে দেওয়ার কথা।