হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল
jugantor
এমসি কলেজে গণধর্ষণ
হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল
হাইকোর্টে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেন না। এছাড়া গণধর্ষণের পেছনে হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায় অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে মতামতে এসব কথা বলা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি ওই প্রতিবেদন জমা দেয়। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

গৃহবধূকে গণধর্ষণের ওই ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সেপ্টেম্বরে আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। শুনানি নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা নিরূপণে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়ে তা অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়- সাক্ষী, পরীক্ষা ও সামগ্রিক বক্তব্য পর্যালোচনা করে কমিটির সর্বসম্মত মতামত হলো, সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় মূলত হোস্টেলের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক, হোস্টেলের মূল গেটের ডে গার্ড, ৫ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ড (নৈশপ্রহরী) এবং ৭ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ডের দায়িত্বে অবহেলা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় কলেজ বন্ধ থাকার পরও কয়েকজন ছাত্র ও সাবেক ছাত্র হোস্টেলে অবস্থান করেন। একজন সাবেক ছাত্র ৫ নম্বর ব্লকের হোস্টেল সুপারের বাসভবন দখল করে থাকেন। সাবেক ওই ছাত্ররা অবৈধভাবে কলেজে হোস্টেলের সিট দখল করে থাকায় এবং সাবেক ছাত্র সাইফুর রহমান হোস্টেল সুপারের বাসভবন জোর করে দখল করে থাকার কারণেই তারা সেখানে গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পায়। ফলে হোস্টেল ক্যাম্পাসে ওই ঘটনার নেপথ্যে মূলত হোস্টেল সুপারদের তদারকির ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলাই দায়ী। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে কলেজের অধ্যক্ষের ওপরও এ দায়ভার চলে আসে।

চার সদস্যের কমিটিতে ছিলেন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মমিনুন নেসা, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন সুলতানা।

এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য ১৫ দফা সুপারিশ করেছে চার সদস্যের ওই কমিটি। যেখানে বলা হয়েছে- কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে হোস্টেলে আসন নিশ্চিত করতে হবে এবং অছাত্র বা সাবেক ছাত্রদের হোস্টেলে বসবাস কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, একজন শিক্ষককে একাধিক হোস্টেলের দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে একক দায়িত্ব দিতে হবে, হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়কদের দায়দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, কলেজের হোস্টেলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, হোস্টেলের মূল গেটে এবং প্রতিটি ব্লকে পর্যাপ্তসংখ্যক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ব্যবস্থা করতে হবে, হোস্টেলের যেসব স্থানে সীমানাপ্রাচীর নেই, সেসব স্থানে সুউচ্চ দেয়াল নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, পুরো হোস্টেল এলাকায় প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সুপারিশ করেছে কমিটি।

এমসি কলেজে গণধর্ষণ

হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল

হাইকোর্টে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেন না। এছাড়া গণধর্ষণের পেছনে হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায় অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে মতামতে এসব কথা বলা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি ওই প্রতিবেদন জমা দেয়। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

গৃহবধূকে গণধর্ষণের ওই ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সেপ্টেম্বরে আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। শুনানি নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা নিরূপণে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়ে তা অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়- সাক্ষী, পরীক্ষা ও সামগ্রিক বক্তব্য পর্যালোচনা করে কমিটির সর্বসম্মত মতামত হলো, সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় মূলত হোস্টেলের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক, হোস্টেলের মূল গেটের ডে গার্ড, ৫ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ড (নৈশপ্রহরী) এবং ৭ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ডের দায়িত্বে অবহেলা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় কলেজ বন্ধ থাকার পরও কয়েকজন ছাত্র ও সাবেক ছাত্র হোস্টেলে অবস্থান করেন। একজন সাবেক ছাত্র ৫ নম্বর ব্লকের হোস্টেল সুপারের বাসভবন দখল করে থাকেন। সাবেক ওই ছাত্ররা অবৈধভাবে কলেজে হোস্টেলের সিট দখল করে থাকায় এবং সাবেক ছাত্র সাইফুর রহমান হোস্টেল সুপারের বাসভবন জোর করে দখল করে থাকার কারণেই তারা সেখানে গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পায়। ফলে হোস্টেল ক্যাম্পাসে ওই ঘটনার নেপথ্যে মূলত হোস্টেল সুপারদের তদারকির ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলাই দায়ী। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে কলেজের অধ্যক্ষের ওপরও এ দায়ভার চলে আসে।

চার সদস্যের কমিটিতে ছিলেন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মমিনুন নেসা, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন সুলতানা।

এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য ১৫ দফা সুপারিশ করেছে চার সদস্যের ওই কমিটি। যেখানে বলা হয়েছে- কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে হোস্টেলে আসন নিশ্চিত করতে হবে এবং অছাত্র বা সাবেক ছাত্রদের হোস্টেলে বসবাস কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, একজন শিক্ষককে একাধিক হোস্টেলের দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে একক দায়িত্ব দিতে হবে, হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়কদের দায়দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, কলেজের হোস্টেলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, হোস্টেলের মূল গেটে এবং প্রতিটি ব্লকে পর্যাপ্তসংখ্যক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ব্যবস্থা করতে হবে, হোস্টেলের যেসব স্থানে সীমানাপ্রাচীর নেই, সেসব স্থানে সুউচ্চ দেয়াল নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, পুরো হোস্টেল এলাকায় প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সুপারিশ করেছে কমিটি।