কুলাউড়ায় সালিশ না মানায় তিন পরিবার সমাজচ্যুত
jugantor
কুলাউড়ায় সালিশ না মানায় তিন পরিবার সমাজচ্যুত

  মৌলভীবাজার প্রতিনিধি  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কোরবানপুর গ্রামে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ না মানায় তিন পরিবারকে ৫ বছরের জন্য সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজল আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তার ভাই আকমল হোসেন ও সমাজচ্যুত অন্য একটি পরিবারের সদস্য জুবেল আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে কাজল বলেন, জায়গাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার দাদার ভাই তোরাব আলীর নাতি পাখি মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশকারী ও পঞ্চায়েত কমিটির কাছে গেলে তারা উভয়পক্ষের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জামানত নিয়ে সালিশের সময় দেন ২০২০ সালের ১৯ জুন। সালিশের দিন জায়গার কাগজপত্র নেন। সালিশে তিনি কাগজ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের দাবি করেন। রেকর্ডে এক শতাংশ জায়গার মালিক হলেও গ্রাম্য পঞ্চায়েতে সালিশকারীরা তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেননি। এটি নিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা (মামলা নং ৯৭/২০২০) করেন কাজল। আদালতে মামলা করায় সালিশকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মামলার বিবাদীর বাড়িতে বসে তার পরিবারকে কোরবানপুর গ্রাম থেকে সমাজচ্যুত করে। সালিশকারীরা এলাকার লোকদের তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গেলে তাদেরও পরিণতি তার মতো হবে বলে হুমকি দেন। সমাজচ্যুত করার পর মসজিদের ইমামের বেতন ও মক্তবের সাপ্তাহিক ওই পরিবারের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে না। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ টাকা বকেয়া আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তিনি অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমনকি তার পরিবারের কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে বাড়িতে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করেছেন মোড়লরা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সমাজচ্যুত করার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি, মৌলিক অধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিবাদী পাখি মিয়া, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া, সদস্য চেরাগ মিয়া, চুনু মিয়া, হান্নান মিয়া, কাদির মিয়ার নাম উল্লেখ করে সমাজচ্যুত করার কারণ জানতে চেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এটির কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি তারা। উপরন্তু লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করায় আরও ক্ষিপ্ত হন সালিশকারীরা। বিবাদী পাখি মিয়ার বাড়িতে আবারও বসে তাদের ৫ বছরের জন্য চূড়ান্তভাবে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেন।

কাজল আহমদ অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়। এ বিষয়ে গ্রাম্য পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। তবে পঞ্চায়েত কমিটির অপর সদস্য চুনু মিয়া সমাজচ্যুতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ পঞ্চায়েত কমিটির মধ্যে সমস্যা আছে। তারা একেক সময় একেক পরিবারকে সমাজচ্যুত করে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। এরকম হয়ে থাকলে ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সভ্য সমাজে এ রকম সমাজচ্যুতের ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুলাউড়ায় সালিশ না মানায় তিন পরিবার সমাজচ্যুত

 মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কোরবানপুর গ্রামে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ না মানায় তিন পরিবারকে ৫ বছরের জন্য সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজল আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তার ভাই আকমল হোসেন ও সমাজচ্যুত অন্য একটি পরিবারের সদস্য জুবেল আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে কাজল বলেন, জায়গাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার দাদার ভাই তোরাব আলীর নাতি পাখি মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশকারী ও পঞ্চায়েত কমিটির কাছে গেলে তারা উভয়পক্ষের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জামানত নিয়ে সালিশের সময় দেন ২০২০ সালের ১৯ জুন। সালিশের দিন জায়গার কাগজপত্র নেন। সালিশে তিনি কাগজ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের দাবি করেন। রেকর্ডে এক শতাংশ জায়গার মালিক হলেও গ্রাম্য পঞ্চায়েতে সালিশকারীরা তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেননি। এটি নিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা (মামলা নং ৯৭/২০২০) করেন কাজল। আদালতে মামলা করায় সালিশকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মামলার বিবাদীর বাড়িতে বসে তার পরিবারকে কোরবানপুর গ্রাম থেকে সমাজচ্যুত করে। সালিশকারীরা এলাকার লোকদের তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গেলে তাদেরও পরিণতি তার মতো হবে বলে হুমকি দেন। সমাজচ্যুত করার পর মসজিদের ইমামের বেতন ও মক্তবের সাপ্তাহিক ওই পরিবারের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে না। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ টাকা বকেয়া আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তিনি অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমনকি তার পরিবারের কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে বাড়িতে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করেছেন মোড়লরা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সমাজচ্যুত করার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি, মৌলিক অধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিবাদী পাখি মিয়া, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া, সদস্য চেরাগ মিয়া, চুনু মিয়া, হান্নান মিয়া, কাদির মিয়ার নাম উল্লেখ করে সমাজচ্যুত করার কারণ জানতে চেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এটির কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি তারা। উপরন্তু লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করায় আরও ক্ষিপ্ত হন সালিশকারীরা। বিবাদী পাখি মিয়ার বাড়িতে আবারও বসে তাদের ৫ বছরের জন্য চূড়ান্তভাবে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেন।

কাজল আহমদ অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়া প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়। এ বিষয়ে গ্রাম্য পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নজরুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। তবে পঞ্চায়েত কমিটির অপর সদস্য চুনু মিয়া সমাজচ্যুতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ পঞ্চায়েত কমিটির মধ্যে সমস্যা আছে। তারা একেক সময় একেক পরিবারকে সমাজচ্যুত করে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। এরকম হয়ে থাকলে ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সভ্য সমাজে এ রকম সমাজচ্যুতের ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।