মৃত্যুর পর লাশ লাগেজে ভরে ফেলা হয় পানিতে
jugantor
লাশের রহস্য উন্মোচন
মৃত্যুর পর লাশ লাগেজে ভরে ফেলা হয় পানিতে

  ময়মনসিংহ ব্যুরো  

৩০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সড়কের পাশে লাগেজের ভেতর থেকে আড়াই মাসের বেশি সময় আগে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। একই সঙ্গে হত্যারহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রকৌশলী ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, নগরীর একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত ওই নারী। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উজান ঘাগড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সিরুর মেয়ে সাবিনা। দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের ফলে সাবিনা শুকিয়ে শীর্ণকায় হয়ে যায় এবং অমানুষিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এরপর গত ৯ নভেম্বর সাবিনার লাশের সঙ্গে পাঁচটি ইটসহ বস্তায় ঢুকিয়ে লাগেজে ভরে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গৌরীপুর উপজেলার গঙ্গাশ্রম এলাকার জোড়া সেতুর নিচে পানিতে ফেলে দেন স্বামী-স্ত্রী। পরে লাশ উদ্ধার করা হলেও তার পরিচয় মিলছিল না। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ১১ নভেম্বর অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ উদ্যোগী হয়ে ওঠে। পরে লাশের ছবি সোশ্যাল ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা করে। ময়মনসিংহ জেলা এবং আশপাশে লাশের ছবিসহ পোস্টারিং করা হয়। ময়মনসিংহ হতে চলাচলকারী বিভিন্ন বাসের পেছনেও পোস্টার টানানো হয়। কিন্তু কোনো কিনারা করতে পারছিলেন না পুলিশ। জব্দকৃত আলামত পরীক্ষার এক পর্যায়ে লাগেজে একটি আইডি কার্ড পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরেই শুরু হয় মামলার তদন্ত কার্যক্রম। তদন্তের সূত্র ধরে বুধবার রাতে সদর উপজেলার বাড়েরা থেকে ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের ওরফে জাকির হোসেন সোহাগ ও তার স্ত্রী রিফাত জেসমিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এদিকে নিহত সাবিনার বাবা ও মা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। গ্রেফতারদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

লাশের রহস্য উন্মোচন

মৃত্যুর পর লাশ লাগেজে ভরে ফেলা হয় পানিতে

 ময়মনসিংহ ব্যুরো 
৩০ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সড়কের পাশে লাগেজের ভেতর থেকে আড়াই মাসের বেশি সময় আগে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। একই সঙ্গে হত্যারহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রকৌশলী ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, নগরীর একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত ওই নারী। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উজান ঘাগড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সিরুর মেয়ে সাবিনা। দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের ফলে সাবিনা শুকিয়ে শীর্ণকায় হয়ে যায় এবং অমানুষিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এরপর গত ৯ নভেম্বর সাবিনার লাশের সঙ্গে পাঁচটি ইটসহ বস্তায় ঢুকিয়ে লাগেজে ভরে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গৌরীপুর উপজেলার গঙ্গাশ্রম এলাকার জোড়া সেতুর নিচে পানিতে ফেলে দেন স্বামী-স্ত্রী। পরে লাশ উদ্ধার করা হলেও তার পরিচয় মিলছিল না। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ১১ নভেম্বর অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ উদ্যোগী হয়ে ওঠে। পরে লাশের ছবি সোশ্যাল ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা করে। ময়মনসিংহ জেলা এবং আশপাশে লাশের ছবিসহ পোস্টারিং করা হয়। ময়মনসিংহ হতে চলাচলকারী বিভিন্ন বাসের পেছনেও পোস্টার টানানো হয়। কিন্তু কোনো কিনারা করতে পারছিলেন না পুলিশ। জব্দকৃত আলামত পরীক্ষার এক পর্যায়ে লাগেজে একটি আইডি কার্ড পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরেই শুরু হয় মামলার তদন্ত কার্যক্রম। তদন্তের সূত্র ধরে বুধবার রাতে সদর উপজেলার বাড়েরা থেকে ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের ওরফে জাকির হোসেন সোহাগ ও তার স্ত্রী রিফাত জেসমিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এদিকে নিহত সাবিনার বাবা ও মা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। গ্রেফতারদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন