করোনার টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে বাংলাদেশ
jugantor
অক্সফোর্ডের তথ্য
করোনার টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে বাংলাদেশ

  ইকবাল হোসেন  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সোমবার পর্যন্ত (গণটিকাদান কর্মসূচির ১৩তম দিন) ২৩ লাখ ৮ হাজার ১৫৭ জন মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। যা শতকরা হিসাবে যা প্রায় দেড় শতাংশের কাছাকাছি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা টিকাদানে বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। শুধু এ অঞ্চলেই নয় টিকদানে বিশ্বের শীর্ষ ২৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা ওয়েবসাইটে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, ভারত শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ, নেপাল শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ ও পাকিস্তান শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ মানুষকে টিকা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দেশ মালদ্বীপে এখন পর্যন্ত ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে, যা শতাংশের দিক থেকে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু মালদ্বীপের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৫ লাখ, সেখানে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। তাই শতাংশের দিক থেকে বাংলাদেশের দিক থেকে এগিয়ে আছে দেশটি। মালদ্বীপকে বাদ দিলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় ভুটান ও আফগানিস্তানের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

এখন পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসা এ ৮৬টি দেশের মধ্যে ৫৬টি উন্নত বিশ্বের দেশ, ৩০টি মধ্যম আয়ের দেশ। তবে এ তালিকায় কোনো দরিদ্র দেশ এখনও যোগ হয়নি। ১৮ ফেব্র“য়ারি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনেশনের আওতায়ই আসেনি। সোমবার পর্যন্ত বিশ্বের ২০ কোটির বেশি মানুষকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে; বিশ্বের মোট জনসংখ্যার হিসাবে যা ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে ইসরাইলে। আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের ৮৭ দশমিক ০৬ শতাংশ, সিচিলিসে ৬২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাহরাইনে ১৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সার্বিয়ার ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ডেনমার্কে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, তুরস্কে ৮ দশমিক ১১ এবং রোমানিয়ায় ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসাবে ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ। তবে দেশব্যাপী গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় ৭ ফেব্র“য়ারি থেকে। প্রতিদিনই বাড়ছে টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা। দেশে প্রতিদিন ২ লাখের বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধ করেছেন ৩৫ লাখের বেশি মানুষ। টিকা নেয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় গণটিকাদান পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে সরকার। প্রথম মাসে ৩৫ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৬০ লাখ করা হয়েছে। সারা দেশের ১ হাজার ৬টি টিকাদান কেন্দ্রে ২ হাজার ৪০০টি দল ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৪০ বছরের ঊর্ধ্ব নাগরিকদের কোভিড-১৯ এর টিকা দিচ্ছে।

অক্সফোর্ডের তথ্য

করোনার টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে বাংলাদেশ

 ইকবাল হোসেন 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সোমবার পর্যন্ত (গণটিকাদান কর্মসূচির ১৩তম দিন) ২৩ লাখ ৮ হাজার ১৫৭ জন মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। যা শতকরা হিসাবে যা প্রায় দেড় শতাংশের কাছাকাছি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা টিকাদানে বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। শুধু এ অঞ্চলেই নয় টিকদানে বিশ্বের শীর্ষ ২৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা ওয়েবসাইটে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, ভারত শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ, নেপাল শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ ও পাকিস্তান শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ মানুষকে টিকা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দেশ মালদ্বীপে এখন পর্যন্ত ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে, যা শতাংশের দিক থেকে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু মালদ্বীপের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৫ লাখ, সেখানে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। তাই শতাংশের দিক থেকে বাংলাদেশের দিক থেকে এগিয়ে আছে দেশটি। মালদ্বীপকে বাদ দিলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় ভুটান ও আফগানিস্তানের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

এখন পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসা এ ৮৬টি দেশের মধ্যে ৫৬টি উন্নত বিশ্বের দেশ, ৩০টি মধ্যম আয়ের দেশ। তবে এ তালিকায় কোনো দরিদ্র দেশ এখনও যোগ হয়নি। ১৮ ফেব্র“য়ারি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনেশনের আওতায়ই আসেনি। সোমবার পর্যন্ত বিশ্বের ২০ কোটির বেশি মানুষকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে; বিশ্বের মোট জনসংখ্যার হিসাবে যা ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে ইসরাইলে। আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের ৮৭ দশমিক ০৬ শতাংশ, সিচিলিসে ৬২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাহরাইনে ১৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সার্বিয়ার ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ডেনমার্কে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, তুরস্কে ৮ দশমিক ১১ এবং রোমানিয়ায় ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসাবে ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ। তবে দেশব্যাপী গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় ৭ ফেব্র“য়ারি থেকে। প্রতিদিনই বাড়ছে টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা। দেশে প্রতিদিন ২ লাখের বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধ করেছেন ৩৫ লাখের বেশি মানুষ। টিকা নেয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় গণটিকাদান পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে সরকার। প্রথম মাসে ৩৫ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৬০ লাখ করা হয়েছে। সারা দেশের ১ হাজার ৬টি টিকাদান কেন্দ্রে ২ হাজার ৪০০টি দল ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৪০ বছরের ঊর্ধ্ব নাগরিকদের কোভিড-১৯ এর টিকা দিচ্ছে।