আওতা বাড়লেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না
jugantor
চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি
আওতা বাড়লেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহানগরে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম বাড়লেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ছড়াছড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক, অনুমোদনবিহীন রুট চালুসহ নানা কারণে সড়কে নৈরাজ্য দিন দিন বাড়ছে। নগরীর ট্রাফিক বিভাগে ‘পর্স’ মেশিনে মামলার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু না থাকায় জরিমানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। থানা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেকটরদের বিরুদ্ধে অবৈধ রুট বাণিজ্য, কতিপয় সার্জেন্টের বিরুদ্ধে টোকেন ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বছরের পর বছর সিএমপিতে থাকার কারণে অনেক ট্রাফিক সদস্য দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

নগরীর যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি ট্রাফিক বিভাগে দুটি জোনকে বিভক্ত করে চারটি জোন করা হয়। প্রতিটি জোনে রয়েছে চারটি থানা। এরপরও যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরেনি। বিশেষ করে বাস-হিউম্যান হলারগুলো যাত্রী নিতে একই রুটের অপর গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়াসহ যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। অধিকাংশ বাস-হিউম্যান হলারের নেই ফিটনেস। অর্ধেকের বেশি গাড়িচালকের নেই লাইসেন্স। এরপরও সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গাড়িগুলো।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে মামলার পাশাপাশি অবৈধ গাড়ি জব্দ করছে ট্রাফিক বিভাগ। চারটি জোনের সবচেয়ে বেশি মামলা হচ্ছে ট্রাফিকের উত্তর ও পশ্চিম জোনে। নগর ট্রাফিক ইনস্পেকটর (উত্তর-প্রশাসন) মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ট্রাফিক উত্তর বিভাগে দৈনিক ৬০-৭০টি করে মামলা করা হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশ মামলা হয় পর্স মেশিনে। বাকি মামলা হয় কাগজে। জরিমানার অর্থ নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। তবে একাধিক ধারায় মামলা হলে উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) চাইলে কয়েকটি ধারায় জরিমানা মওকুফ করতে পারেন। ট্রাফিক পশ্চিম জোনের ট্রাফিক ইনস্পেকটর-টিআই (প্রশাসন) বিপ্লব পাল যুগান্তরকে বলেন, এ জোনে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০টি মামলা হয়। বুধবার হয়েছে ৭১টি মামলা। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ মামলা হচ্ছে পর্স মেশিনে। তবে কাগজের মামলার অর্থ কমানোর সুযোগ আছে একমাত্র ডিসি স্যারের। গত জানুয়ারিতে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের চার জোনে পর্স মেশিনে মামলা হয় ৭৩০টি। এখানে সর্বনিু জরিমানার হার ২ হাজার ৫০০ টাকা।

মহানগরীর অটোরিকশা-অটোটেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, জেলার হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা সার্জেন্টদের টোকেনে নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে অহরহ অবৈধ টমটম, ইজিবাইক, টুকটুকি টেম্পো, ব্যাটারি রিকশা মাসিক টোকেনে চলাচল করে, যা দেখার কেউ নেই। অবৈধ যানবাহনের কারণে নগরীতে যানজট কমছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ভিআইপি সড়ক হিসাবে পরিচিত বিমানবন্দর সড়কেও চলাচল করছে বিআরটিএ-এর অনুমোদনহীন শত শত টমটম, ম্যাক্সিমা ও মাহিন্দ্রা। বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানার ট্রাফিক ইনস্পেকটররা (টিআই) সৃষ্ট অবৈধ রুট ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ আছে। নুরুল আবছার নামে এ রুটের এক টমটম চালক জানান, প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা পুলিশকে দিতে হয়। নগরীর রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত চলাচল করে অন্তত ২০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব গাড়ি চান্দগাঁও থানা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেকটরের নামে চলছে।

আবুল মনসুর নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকার টোকেনে রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা চালানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বহদ্দারহাট-বলিরহাট পর্যন্ত অবৈধ রুটসহ চান্দগাঁওয়ে আছে অন্তত ৮টি অবৈধ রুট। জয়নাল, কাদের, আলম, জাহাঙ্গীর বিপ্লব ও নাছির নামের কতিপয় ব্যক্তি এসব রুট তদারকি করে। তারা নিজেদের টিআই-এর লোক বলে পরিচয় দেয়। চান্দগাঁও থানা এলাকার ট্রাফিক ইনস্পেকটর আশীষ কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। অবৈধ গাড়ি পেলেই জব্দ করা হচ্ছে। বুধবারও ১১টি গাড়ি জব্দ করা হয়। আমার অধীনে সার্জেন্ট আছেন মাত্র তিনজন। জনবল সংকটের কারণে সব অবৈধ গাড়ি একসঙ্গে জব্দ করা যাচ্ছে না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সিএমপিতে মামলা ও জরিমানা আদায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না এবং এর জন্য কারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি

আওতা বাড়লেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহানগরে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম বাড়লেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ছড়াছড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক, অনুমোদনবিহীন রুট চালুসহ নানা কারণে সড়কে নৈরাজ্য দিন দিন বাড়ছে। নগরীর ট্রাফিক বিভাগে ‘পর্স’ মেশিনে মামলার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু না থাকায় জরিমানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। থানা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেকটরদের বিরুদ্ধে অবৈধ রুট বাণিজ্য, কতিপয় সার্জেন্টের বিরুদ্ধে টোকেন ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বছরের পর বছর সিএমপিতে থাকার কারণে অনেক ট্রাফিক সদস্য দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

নগরীর যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি ট্রাফিক বিভাগে দুটি জোনকে বিভক্ত করে চারটি জোন করা হয়। প্রতিটি জোনে রয়েছে চারটি থানা। এরপরও যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরেনি। বিশেষ করে বাস-হিউম্যান হলারগুলো যাত্রী নিতে একই রুটের অপর গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়াসহ যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। অধিকাংশ বাস-হিউম্যান হলারের নেই ফিটনেস। অর্ধেকের বেশি গাড়িচালকের নেই লাইসেন্স। এরপরও সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গাড়িগুলো।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে মামলার পাশাপাশি অবৈধ গাড়ি জব্দ করছে ট্রাফিক বিভাগ। চারটি জোনের সবচেয়ে বেশি মামলা হচ্ছে ট্রাফিকের উত্তর ও পশ্চিম জোনে। নগর ট্রাফিক ইনস্পেকটর (উত্তর-প্রশাসন) মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ট্রাফিক উত্তর বিভাগে দৈনিক ৬০-৭০টি করে মামলা করা হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশ মামলা হয় পর্স মেশিনে। বাকি মামলা হয় কাগজে। জরিমানার অর্থ নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। তবে একাধিক ধারায় মামলা হলে উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) চাইলে কয়েকটি ধারায় জরিমানা মওকুফ করতে পারেন। ট্রাফিক পশ্চিম জোনের ট্রাফিক ইনস্পেকটর-টিআই (প্রশাসন) বিপ্লব পাল যুগান্তরকে বলেন, এ জোনে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০টি মামলা হয়। বুধবার হয়েছে ৭১টি মামলা। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ মামলা হচ্ছে পর্স মেশিনে। তবে কাগজের মামলার অর্থ কমানোর সুযোগ আছে একমাত্র ডিসি স্যারের। গত জানুয়ারিতে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের চার জোনে পর্স মেশিনে মামলা হয় ৭৩০টি। এখানে সর্বনিু জরিমানার হার ২ হাজার ৫০০ টাকা।

মহানগরীর অটোরিকশা-অটোটেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, জেলার হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা সার্জেন্টদের টোকেনে নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে অহরহ অবৈধ টমটম, ইজিবাইক, টুকটুকি টেম্পো, ব্যাটারি রিকশা মাসিক টোকেনে চলাচল করে, যা দেখার কেউ নেই। অবৈধ যানবাহনের কারণে নগরীতে যানজট কমছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ভিআইপি সড়ক হিসাবে পরিচিত বিমানবন্দর সড়কেও চলাচল করছে বিআরটিএ-এর অনুমোদনহীন শত শত টমটম, ম্যাক্সিমা ও মাহিন্দ্রা। বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানার ট্রাফিক ইনস্পেকটররা (টিআই) সৃষ্ট অবৈধ রুট ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ আছে। নুরুল আবছার নামে এ রুটের এক টমটম চালক জানান, প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা পুলিশকে দিতে হয়। নগরীর রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত চলাচল করে অন্তত ২০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব গাড়ি চান্দগাঁও থানা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেকটরের নামে চলছে।

আবুল মনসুর নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকার টোকেনে রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা চালানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বহদ্দারহাট-বলিরহাট পর্যন্ত অবৈধ রুটসহ চান্দগাঁওয়ে আছে অন্তত ৮টি অবৈধ রুট। জয়নাল, কাদের, আলম, জাহাঙ্গীর বিপ্লব ও নাছির নামের কতিপয় ব্যক্তি এসব রুট তদারকি করে। তারা নিজেদের টিআই-এর লোক বলে পরিচয় দেয়। চান্দগাঁও থানা এলাকার ট্রাফিক ইনস্পেকটর আশীষ কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। অবৈধ গাড়ি পেলেই জব্দ করা হচ্ছে। বুধবারও ১১টি গাড়ি জব্দ করা হয়। আমার অধীনে সার্জেন্ট আছেন মাত্র তিনজন। জনবল সংকটের কারণে সব অবৈধ গাড়ি একসঙ্গে জব্দ করা যাচ্ছে না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সিএমপিতে মামলা ও জরিমানা আদায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না এবং এর জন্য কারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন