হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ছাড়াই পদ্মাজুড়ে বালুমহাল ঘোষণা
jugantor
হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ছাড়াই পদ্মাজুড়ে বালুমহাল ঘোষণা
বন্ধের দাবি উপেক্ষিত

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

০২ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মাপাড়ের মানুষ বালুমহাল বন্ধের দাবি জানিয়ে এলেও তা আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন। বরং রাজশাহী জেলা প্রশাসন চলতি বছরে বালুমহাল, মৌজা ও দাগের সংখ্যা ছাড়াও আয়তন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন। গত রোববার জারিকৃত ইজারা নোটিশে রাজশাহীতে পদ্মাজুড়ে বালুমহাল ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রকার হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ও সরেজমিনে জরিপ ছাড়াই জেলা প্রশাসন পদ্মাজুড়ে নতুন বালুমহাল সৃষ্টি করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ শুধু ভয়ংকরই নয়, পরিবেশের জন্য মারাÍক হুমকিস্বরূপ।

জানা গেছে, বিদ্যমান ৬টির সঙ্গে নতুন আরও ১২টি এলাকা বাড়িয়ে মোট ১৮টি করা হয়েছে এ বছর। পদ্মার উজানে গোদাগাড়ী থেকে ভাটিতে চকরাজাপুর পর্যন্ত এলাকায় পদ্মাজুড়ে এসব বালুমহালের অবস্থান। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাঘার পাকুড়িয়া ইউপি এলাকাবাসী ওই এলাকার রাজাপুর চক, কিশোরপুর ও লক্ষীপুর বালুমহাল বন্ধের আবেদন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসনে। ঘনবসতিপূর্ণ গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর, উজানপাড়া, ভাটোপাড়া, মাটিকাটা, বারইপাড়া, কেল্লা বারুইপাড়া মিলে ৭৩ একর এলাকাজুড়ে নতুন বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে। গোদাগাড়ীর দক্ষিণ নির্মলচর, শেখেরপাড়া, এলাহিনগর, চরবার্নিশ, পদ্মা নদী ও প্রেমতলী এলাকা মিলে পদ্মার ২৭০ একর এলাকাজুড়ে বালুমহাল ইজারার নোটিশ হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঘার বালু ইজারাদাররা ইজারাকৃত এলাকার বাইরে পদ্মার বিশাল এলাকাকে বালু খাদান বানিয়ে বালু ছাড়াও নদীর পলি মাটি লুট করে চলেছেন। এতে এলাকার কোটি কোটি টাকার সড়ক অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। বালু ট্রাক ও ডাম্পারের দাপটে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ দিনের বেলা ঘর থেকে বের হতে পারেন না। গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু ও পলিমাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার। ড্রেজার দিয়ে নদীর মধ্য থেকে বালু তোলার নির্দেশ থাকলেও নদী পাড় থেকে বালু ও মাটি লোপাট করছে। যা পরিবেশকে দূষিত করছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার বালুমহালগুলো বন্ধের দাবি জানিয়ে বহু আবেদন করা হলেও প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খানের অভিযোগ, নদী থেকে বালু তোলার নিয়ম কোনো ইজারাদারই মানেন না। বালু ইজারা দিয়ে সরকার যে পরিমাণ টাকা পাচ্ছে, বালু পরিবহণের কারণে ক্ষতি হচ্ছে তার দশ গুণ। তাছাড়া বালুদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের বাধা দিতে পারছে না।

রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে রাজশাহী পাউবোর কাছে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের বিষয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু এত কম সময়ে সেটা করা সম্ভব নয় বলে আমরা জানিয়েছি। বালুমহাল ইজারা দেওয়ার আগে সার্ভে করে মজুদ বালুর পরিমাণ নিরূপণ বাধ্যতামূলক। রাজশাহীতে তা করা হয়নি। আরও বলেন, ইজারাদার নির্ধারিত স্থান ও পরিমাণ ঠিক রেখে তুলছেন কি না- তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা জরুরি। এটা প্রশাসনের কাজ।

বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৩ নামে একটি আইন আছে। জেলায় জেলায় ডিসি সাহেবরাই বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। তবে এভাবে নির্বিচারে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার আগে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা ছাড়াও প্রশাসনের মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন। এলাকাবাসীর আপত্তি আমলে নিয়ে দেখা উচিত। উন্নয়ন কাজে বালু প্রয়োজন হলেও তাতে অবকাঠামো ও পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম করা দরকার। অধীনস্থ প্রশাসনকে সেই নির্দেশ দিয়েছি।

হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ছাড়াই পদ্মাজুড়ে বালুমহাল ঘোষণা

বন্ধের দাবি উপেক্ষিত
 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
০২ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মাপাড়ের মানুষ বালুমহাল বন্ধের দাবি জানিয়ে এলেও তা আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন। বরং রাজশাহী জেলা প্রশাসন চলতি বছরে বালুমহাল, মৌজা ও দাগের সংখ্যা ছাড়াও আয়তন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন। গত রোববার জারিকৃত ইজারা নোটিশে রাজশাহীতে পদ্মাজুড়ে বালুমহাল ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রকার হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ও সরেজমিনে জরিপ ছাড়াই জেলা প্রশাসন পদ্মাজুড়ে নতুন বালুমহাল সৃষ্টি করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ শুধু ভয়ংকরই নয়, পরিবেশের জন্য মারাÍক হুমকিস্বরূপ।

জানা গেছে, বিদ্যমান ৬টির সঙ্গে নতুন আরও ১২টি এলাকা বাড়িয়ে মোট ১৮টি করা হয়েছে এ বছর। পদ্মার উজানে গোদাগাড়ী থেকে ভাটিতে চকরাজাপুর পর্যন্ত এলাকায় পদ্মাজুড়ে এসব বালুমহালের অবস্থান। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাঘার পাকুড়িয়া ইউপি এলাকাবাসী ওই এলাকার রাজাপুর চক, কিশোরপুর ও লক্ষীপুর বালুমহাল বন্ধের আবেদন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসনে। ঘনবসতিপূর্ণ গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর, উজানপাড়া, ভাটোপাড়া, মাটিকাটা, বারইপাড়া, কেল্লা বারুইপাড়া মিলে ৭৩ একর এলাকাজুড়ে নতুন বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে। গোদাগাড়ীর দক্ষিণ নির্মলচর, শেখেরপাড়া, এলাহিনগর, চরবার্নিশ, পদ্মা নদী ও প্রেমতলী এলাকা মিলে পদ্মার ২৭০ একর এলাকাজুড়ে বালুমহাল ইজারার নোটিশ হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঘার বালু ইজারাদাররা ইজারাকৃত এলাকার বাইরে পদ্মার বিশাল এলাকাকে বালু খাদান বানিয়ে বালু ছাড়াও নদীর পলি মাটি লুট করে চলেছেন। এতে এলাকার কোটি কোটি টাকার সড়ক অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। বালু ট্রাক ও ডাম্পারের দাপটে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ দিনের বেলা ঘর থেকে বের হতে পারেন না। গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু ও পলিমাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার। ড্রেজার দিয়ে নদীর মধ্য থেকে বালু তোলার নির্দেশ থাকলেও নদী পাড় থেকে বালু ও মাটি লোপাট করছে। যা পরিবেশকে দূষিত করছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার বালুমহালগুলো বন্ধের দাবি জানিয়ে বহু আবেদন করা হলেও প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খানের অভিযোগ, নদী থেকে বালু তোলার নিয়ম কোনো ইজারাদারই মানেন না। বালু ইজারা দিয়ে সরকার যে পরিমাণ টাকা পাচ্ছে, বালু পরিবহণের কারণে ক্ষতি হচ্ছে তার দশ গুণ। তাছাড়া বালুদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের বাধা দিতে পারছে না।

রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে রাজশাহী পাউবোর কাছে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের বিষয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু এত কম সময়ে সেটা করা সম্ভব নয় বলে আমরা জানিয়েছি। বালুমহাল ইজারা দেওয়ার আগে সার্ভে করে মজুদ বালুর পরিমাণ নিরূপণ বাধ্যতামূলক। রাজশাহীতে তা করা হয়নি। আরও বলেন, ইজারাদার নির্ধারিত স্থান ও পরিমাণ ঠিক রেখে তুলছেন কি না- তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা জরুরি। এটা প্রশাসনের কাজ।

বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৩ নামে একটি আইন আছে। জেলায় জেলায় ডিসি সাহেবরাই বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। তবে এভাবে নির্বিচারে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার আগে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা ছাড়াও প্রশাসনের মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন। এলাকাবাসীর আপত্তি আমলে নিয়ে দেখা উচিত। উন্নয়ন কাজে বালু প্রয়োজন হলেও তাতে অবকাঠামো ও পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম করা দরকার। অধীনস্থ প্রশাসনকে সেই নির্দেশ দিয়েছি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন