ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা
jugantor
বিস্ফোরক, কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনা
ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা

  আহমদুল হাসান আসিক  

০৪ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনে সতর্কতা অবলম্বন না করেই মজুত করা হচ্ছে কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক দ্রব্য। এমনকি এখানকার বিভিন্ন দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিপজ্জনক কেমিক্যাল। অনেক ব্যবসায়ী লাইসেন্স না নিয়েই কেমিক্যাল বিক্রি করছেন। অনেকে কাঠ ও জুতায় ব্যবহারের কেমিক্যালের ছাড়পত্রে আমদানি করছেন বিভিন্ন ধরনের অতি দাহ্য রাসায়নিক।

গোপনে গান পাউডারও বিক্রি করছেন অনেকে। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং নজরদারির অভাবেই এমনটা হচ্ছে। ফলে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব কারণে বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান, পরিবহণ, বিপণন, পরিদর্শনসহ অন্যান্য কার্যক্রম একটি দপ্তরের অধীনে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র মতো একটি নতুন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অধীনে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ চালু করার বিষয়ে কমিটি মত দিয়েছে। কমিটি বলছে, প্রয়োজনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের আইন ও বিধিমালা সংশোধনেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ নতুন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। এ উদ্যোগ সফল হলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা দূর হবে। তবে বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ এখন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের যে সক্ষমতা আছে তা দিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। বর্তমানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরে জনবল আছে মাত্র ৫০ জন। যদিও পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে জনবল দরকার এক হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ জনবল বাড়াতে হবে অন্তত ২০ গুণ। এখন ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি মাত্র অফিস থেকেই সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সব বিভাগীয় শহর এবং জেলাগুলোতে জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ফলে এ উদ্যোগ সফল হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা গেলে অগ্নিঝুঁক কমবে। তবে পুরান ঢাকাকে নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত বিস্ফোরক, কেমিক্যাল এবং দাহ্য পদার্থের গুদাম পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত পুরো এলাকা অগ্নিঝুঁকিতেই থাকবে।

নিমতলী ও চুড়িহাট্টার মতো ভয়াবহ ঘটনার ঝুঁকিও থেকেই যাবে। পুরান ঢাকা থেকে গোডাউন সরানোর উদ্যোগ নিলেও সেটি কবে বাস্তবায়ন হবে তা নিশ্চিত করতে পারছে না কেউ।

১০ জানুয়ারি ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র মতো একটি নতুন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য বা বিপজ্জনক দ্রব্যের সব কার্যক্রম ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র আওতায় আনতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বর্তমান অর্গানোগ্রাম এবং বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান সংশোধনের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রতিবেদন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হলে আইন ও বিধিমালার কিছু সংশোধনী প্রয়োজন। সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিস্ফোরকের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অগ্নিঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র মতো নতুন ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নে কারিগরি কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. কামাল হোসেন সভায় বলেন- এসিড, ফরমালিনসহ অন্যান্য অনেক দাহ্য পদার্থ শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে অপরিহার্য। কেমিক্যাল, পেট্রোলিয়ামসহ সব বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। এ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা সম্পৃক্ত। লাইসেন্স প্রদান, আমদানির অনুমতি, সংরক্ষণ বা মজুতকরণ সব প্রকার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। একটি দপ্তরের আওতায় ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র ব্যবস্থা করা গেলে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য আমদানি এবং মজুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে এসব দ্রব্য থেকে উদ্ভূত দুর্ঘটনা এড়ানো সহজ হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমি-কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান যুগান্তরকে বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু হলে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিয়ে হয়রানি অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। কোনো দুর্ঘটনা হলে সরকারের এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা বন্ধ হবে। তবে যে দপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাদের সক্ষমতা আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। সবকিছুর দায়িত্ব যদি বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে দেওয়া হয় তবে তাদের সমক্ষতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের এ ধরনের কর্মযঞ্জ চালানোর মতো সমক্ষতা এবং বিশেষজ্ঞ নেই।

২০ গুণের বেশি জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের : বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের মোট জনবল আছে ৫০ জন। শুধু ঢাকা অফিস থেকেই সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১১১৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ পরিকল্পনার মধ্যে সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়। সেখানে প্রধান পরিদর্শকসহ থাকবেন ৮২ জন। ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরগুলোতে আলাদা জনবল নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি অফিস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫৩ জেলায় আলাদা অফিস নিয়ে জনবল নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করতে হলে অনেক কিছুই ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ বিস্ফোরক, কেমিক্যাল এবং দাহ্য পণ্যের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জেলা প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আমদানি-রপ্তানি অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসনসহ আরও একাধিক সংস্থা রয়েছে। এসব বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জনবল কাঠামোর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এখন কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে তা সরকার পর্যালোচনা করে দেখবে।

বিস্ফোরক, কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনা

ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা

 আহমদুল হাসান আসিক 
০৪ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনে সতর্কতা অবলম্বন না করেই মজুত করা হচ্ছে কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক দ্রব্য। এমনকি এখানকার বিভিন্ন দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিপজ্জনক কেমিক্যাল। অনেক ব্যবসায়ী লাইসেন্স না নিয়েই কেমিক্যাল বিক্রি করছেন। অনেকে কাঠ ও জুতায় ব্যবহারের কেমিক্যালের ছাড়পত্রে আমদানি করছেন বিভিন্ন ধরনের অতি দাহ্য রাসায়নিক।

গোপনে গান পাউডারও বিক্রি করছেন অনেকে। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং নজরদারির অভাবেই এমনটা হচ্ছে। ফলে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব কারণে বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান, পরিবহণ, বিপণন, পরিদর্শনসহ অন্যান্য কার্যক্রম একটি দপ্তরের অধীনে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র মতো একটি নতুন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অধীনে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ চালু করার বিষয়ে কমিটি মত দিয়েছে। কমিটি বলছে, প্রয়োজনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের আইন ও বিধিমালা সংশোধনেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ নতুন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। এ উদ্যোগ সফল হলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা দূর হবে। তবে বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ এখন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের যে সক্ষমতা আছে তা দিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। বর্তমানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরে জনবল আছে মাত্র ৫০ জন। যদিও পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে জনবল দরকার এক হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ জনবল বাড়াতে হবে অন্তত ২০ গুণ। এখন ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি মাত্র অফিস থেকেই সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সব বিভাগীয় শহর এবং জেলাগুলোতে জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ফলে এ উদ্যোগ সফল হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা গেলে অগ্নিঝুঁক কমবে। তবে পুরান ঢাকাকে নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত বিস্ফোরক, কেমিক্যাল এবং দাহ্য পদার্থের গুদাম পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত পুরো এলাকা অগ্নিঝুঁকিতেই থাকবে।

নিমতলী ও চুড়িহাট্টার মতো ভয়াবহ ঘটনার ঝুঁকিও থেকেই যাবে। পুরান ঢাকা থেকে গোডাউন সরানোর উদ্যোগ নিলেও সেটি কবে বাস্তবায়ন হবে তা নিশ্চিত করতে পারছে না কেউ।

১০ জানুয়ারি ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র মতো একটি নতুন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য বা বিপজ্জনক দ্রব্যের সব কার্যক্রম ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র আওতায় আনতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বর্তমান অর্গানোগ্রাম এবং বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান সংশোধনের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রতিবেদন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হলে আইন ও বিধিমালার কিছু সংশোধনী প্রয়োজন। সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিস্ফোরকের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অগ্নিঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র মতো নতুন ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নে কারিগরি কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. কামাল হোসেন সভায় বলেন- এসিড, ফরমালিনসহ অন্যান্য অনেক দাহ্য পদার্থ শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে অপরিহার্য। কেমিক্যাল, পেট্রোলিয়ামসহ সব বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। এ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা সম্পৃক্ত। লাইসেন্স প্রদান, আমদানির অনুমতি, সংরক্ষণ বা মজুতকরণ সব প্রকার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। একটি দপ্তরের আওতায় ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র ব্যবস্থা করা গেলে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য আমদানি এবং মজুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে এসব দ্রব্য থেকে উদ্ভূত দুর্ঘটনা এড়ানো সহজ হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমি-কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান যুগান্তরকে বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু হলে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিয়ে হয়রানি অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। কোনো দুর্ঘটনা হলে সরকারের এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা বন্ধ হবে। তবে যে দপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাদের সক্ষমতা আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। সবকিছুর দায়িত্ব যদি বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে দেওয়া হয় তবে তাদের সমক্ষতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের এ ধরনের কর্মযঞ্জ চালানোর মতো সমক্ষতা এবং বিশেষজ্ঞ নেই।

২০ গুণের বেশি জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের : বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের মোট জনবল আছে ৫০ জন। শুধু ঢাকা অফিস থেকেই সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১১১৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ পরিকল্পনার মধ্যে সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়। সেখানে প্রধান পরিদর্শকসহ থাকবেন ৮২ জন। ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরগুলোতে আলাদা জনবল নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি অফিস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫৩ জেলায় আলাদা অফিস নিয়ে জনবল নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করতে হলে অনেক কিছুই ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ বিস্ফোরক, কেমিক্যাল এবং দাহ্য পণ্যের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জেলা প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আমদানি-রপ্তানি অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসনসহ আরও একাধিক সংস্থা রয়েছে। এসব বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জনবল কাঠামোর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এখন কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে তা সরকার পর্যালোচনা করে দেখবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন