৮ উপজেলায় ধান কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ
jugantor
দিনাজপুরে সফল হয়নি আমন সংগ্রহ অভিযান
৮ উপজেলায় ধান কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

০৬ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমন সংগ্রহ অভিযানের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলায় এক ছটাকও ধান কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। আর জেলার মোট ১১ হাজার ৯৬৭ টনের মধ্যে দিনাজপুরে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৫৬৭ টন। অন্য দিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৪ শতাংশ সিদ্ধ চাল ও ৬ শতাংশ আতপ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ১১ হাজার ৯৮৭ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খাদ্য বিভাগ। এর মধ্যে বোঁচাগঞ্জ উপজেলায় ২ টন, বিরামপুর উপজেলায় ৮০০ কেজি, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১২৮ টন ৫২০ কেজি এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৪৩৫ টন ধান সংগ্রহ করে খাদ্য বিভাগ। দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় খাদ্য বিভাগকে কোনো ধান দেননি কৃষকরা।

দিনাজপুরে এ মৌসুমে ১১ হাজার ৯৮৭ টন সিদ্ধ ধান ও ৬ হাজার ৯০০ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ সংগ্রহের নির্ধারিত সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু শেষ সময় পর্যন্ত জেলায় ৯ হাজার ৩৩৬ টন সিদ্ধ চাল ও ৪২৩ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ সিদ্ধ চাল ও ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ আতপ চাল সংগ্রহ করতে পারে খাদ্য বিভাগ।

আমন সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসাবে জানা যায়, খাদ্য বিভাগ এবার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল প্রতিকেজি ৩৬ টাকা ও আতপ চালের মূল্য নির্ধারণ করে ৩৭ টাকা। কিন্তু এবার বাজারে শুরু থেকেই সরকার নির্ধারিত এ দামের চেয়ে দাম ছিল বেশি। আর এ কারণেই এবার জেলার প্রায় দুই হাজার মিলমালিকের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয় মাত্র ২৮০ জন মিলমালিক। যদিও তারা এ দামে চাল সরবরাহ করতে পারেনি। এ ছাড়াও বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরাও ধান দিতে আসেনি খাদ্য বিভাগের কাছে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশ্রাফুজ্জামান নির্ধারিত সময়ে (২৮ ফেব্রুয়ারি) আমন সংগ্রহ অভিযান সফল না হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আমন সংগ্রহের এ সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

দিনাজপুরের চালকল মালিক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, সরকার এবার ধানের মূল্যের তুলনায় চালের মূল্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্য রেখেছে। ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতিকেজি ২৬ টাকা। সেই তুলনায় চালের মূল্য নির্ধারণ করা উচিৎ ছিল ৪২ টাকা। এখানে ৩৬ বা ৩৭ টাকায় কিভাবে চাল সরবরাহ করা সম্ভব। বাজারে ধানের মূল্য বেশি থাকায় চালকল মালিকরা খাদ্য বিভাগের কাছে চাল সরবরাহ করতে পারেনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, সরকার ধানের মূল্যের তুলনায় চালের মূল্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্য রাখার কারণে গত বোরো মৌসুমে সরকারের কাছে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে গিয়ে ৪৪ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে দিনাজপুরের চালকল মালিকরা। এবার আমন মৌসুমেও অনুরূপ দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। তাই লোকসান দিয়ে কিভাবে চাল সরবরাহ করা সম্ভব? এজন্যই মিলমালিকরা খাদ্য বিভাগের সঙ্গে আমন সংগ্রহ অভিযানে চুক্তিবদ্ধ হয়নি।

দিনাজপুরে সফল হয়নি আমন সংগ্রহ অভিযান

৮ উপজেলায় ধান কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
০৬ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমন সংগ্রহ অভিযানের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলায় এক ছটাকও ধান কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। আর জেলার মোট ১১ হাজার ৯৬৭ টনের মধ্যে দিনাজপুরে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৫৬৭ টন। অন্য দিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৪ শতাংশ সিদ্ধ চাল ও ৬ শতাংশ আতপ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ১১ হাজার ৯৮৭ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খাদ্য বিভাগ। এর মধ্যে বোঁচাগঞ্জ উপজেলায় ২ টন, বিরামপুর উপজেলায় ৮০০ কেজি, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১২৮ টন ৫২০ কেজি এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৪৩৫ টন ধান সংগ্রহ করে খাদ্য বিভাগ। দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় খাদ্য বিভাগকে কোনো ধান দেননি কৃষকরা।

দিনাজপুরে এ মৌসুমে ১১ হাজার ৯৮৭ টন সিদ্ধ ধান ও ৬ হাজার ৯০০ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ সংগ্রহের নির্ধারিত সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু শেষ সময় পর্যন্ত জেলায় ৯ হাজার ৩৩৬ টন সিদ্ধ চাল ও ৪২৩ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ সিদ্ধ চাল ও ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ আতপ চাল সংগ্রহ করতে পারে খাদ্য বিভাগ।

আমন সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসাবে জানা যায়, খাদ্য বিভাগ এবার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল প্রতিকেজি ৩৬ টাকা ও আতপ চালের মূল্য নির্ধারণ করে ৩৭ টাকা। কিন্তু এবার বাজারে শুরু থেকেই সরকার নির্ধারিত এ দামের চেয়ে দাম ছিল বেশি। আর এ কারণেই এবার জেলার প্রায় দুই হাজার মিলমালিকের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয় মাত্র ২৮০ জন মিলমালিক। যদিও তারা এ দামে চাল সরবরাহ করতে পারেনি। এ ছাড়াও বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরাও ধান দিতে আসেনি খাদ্য বিভাগের কাছে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশ্রাফুজ্জামান নির্ধারিত সময়ে (২৮ ফেব্রুয়ারি) আমন সংগ্রহ অভিযান সফল না হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আমন সংগ্রহের এ সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

দিনাজপুরের চালকল মালিক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, সরকার এবার ধানের মূল্যের তুলনায় চালের মূল্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্য রেখেছে। ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতিকেজি ২৬ টাকা। সেই তুলনায় চালের মূল্য নির্ধারণ করা উচিৎ ছিল ৪২ টাকা। এখানে ৩৬ বা ৩৭ টাকায় কিভাবে চাল সরবরাহ করা সম্ভব। বাজারে ধানের মূল্য বেশি থাকায় চালকল মালিকরা খাদ্য বিভাগের কাছে চাল সরবরাহ করতে পারেনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, সরকার ধানের মূল্যের তুলনায় চালের মূল্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্য রাখার কারণে গত বোরো মৌসুমে সরকারের কাছে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে গিয়ে ৪৪ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে দিনাজপুরের চালকল মালিকরা। এবার আমন মৌসুমেও অনুরূপ দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। তাই লোকসান দিয়ে কিভাবে চাল সরবরাহ করা সম্ভব? এজন্যই মিলমালিকরা খাদ্য বিভাগের সঙ্গে আমন সংগ্রহ অভিযানে চুক্তিবদ্ধ হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন