সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব সংকটে
jugantor
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব সংকটে
২০ বছরে ২২ বার অগ্নিকাণ্ড * মারা পড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার

  শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট  

০৭ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার রূপ পালটানো ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের বিপদ কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ২০০২ সালের ২২ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে ২২ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে সে সব তদন্তের প্রতিবেদন ও দুর্ঘটনা এড়াতে করা সুপারিশগুলো বাস্তবায়তি হতে দেখা যায়নি। শুধু আগুনেই পুড়ছে না, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে চলেছে প্রতিনিয়ত। চোরা শিকারিদের হাতে মারা পড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী। নদীর পানিতে বিষ দিয়ে চলছে মাছ নিধন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট প্রেট্রোলিং’ আর জেলে-বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বাঘ, হরিণ হত্যাসহ বনের সম্পদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। অক্সিজেনের অফুরন্ত ভান্ডার দেশের ফুসফুসখ্যাত ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

করোনাকালে ২৬ মার্চ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত গোটা সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ড’ জারি করে পর্যটক, জেলে-বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন অধিদপ্তর। এই নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যেও হুমকিতে পড়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন ছিল দ্বিগুণ। এখন সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার-যা দেশের সংরক্ষিত বনভূমির সর্বমোট ৫১ ভাগ। ২৪ ঘণ্টায় ২ বার সমুদ্রের জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মোট আয়তনের ৬৮ দশমিক ৮৫ ভাগ অর্থাৎ ৪ হাজার ২৪২ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার হচ্ছে স্থলভাগ। সংরক্ষিত এই বনের ৩টি এলাকাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণা করে। বর্তমানে যা সমগ্র সুন্দরবনের ৫২ ভাগ এলাকা। এটি বিশ্বের বৃহত্তর জলাভূমিও। সুন্দরবনের জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। ১৯৯২ সালে সমগ্র সুন্দরবনের এই জলভাগকে রামসার এলাকা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনকে আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য লোকালয়-সংলগ্ন নদী-খাল খনন ও কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া খুবই জরুরি। বন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রোধে বন রক্ষীদের তৎপরতা বাড়াতে হবে। অসাধু বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা-ডিএফও মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা বনজীবীদের বিড়ি-সিগারেটের আগুনে অনেক সময় আগুন লাগে। এজন্য বনজীবী ও স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার হলে আগুনের স্থান নির্ধারণ সহজ হবে। সংলগ্ন এলাকার ভরাট হওয়া নদী ও খাল খননের বিষয়ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবন রক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট প্রেট্রোলিংসহ সব ধরনের পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব সংকটে

২০ বছরে ২২ বার অগ্নিকাণ্ড * মারা পড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার
 শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট 
০৭ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার রূপ পালটানো ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের বিপদ কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ২০০২ সালের ২২ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে ২২ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে সে সব তদন্তের প্রতিবেদন ও দুর্ঘটনা এড়াতে করা সুপারিশগুলো বাস্তবায়তি হতে দেখা যায়নি। শুধু আগুনেই পুড়ছে না, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে চলেছে প্রতিনিয়ত। চোরা শিকারিদের হাতে মারা পড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী। নদীর পানিতে বিষ দিয়ে চলছে মাছ নিধন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট প্রেট্রোলিং’ আর জেলে-বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বাঘ, হরিণ হত্যাসহ বনের সম্পদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। অক্সিজেনের অফুরন্ত ভান্ডার দেশের ফুসফুসখ্যাত ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

করোনাকালে ২৬ মার্চ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত গোটা সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ড’ জারি করে পর্যটক, জেলে-বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন অধিদপ্তর। এই নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যেও হুমকিতে পড়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন ছিল দ্বিগুণ। এখন সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার-যা দেশের সংরক্ষিত বনভূমির সর্বমোট ৫১ ভাগ। ২৪ ঘণ্টায় ২ বার সমুদ্রের জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মোট আয়তনের ৬৮ দশমিক ৮৫ ভাগ অর্থাৎ ৪ হাজার ২৪২ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার হচ্ছে স্থলভাগ। সংরক্ষিত এই বনের ৩টি এলাকাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণা করে। বর্তমানে যা সমগ্র সুন্দরবনের ৫২ ভাগ এলাকা। এটি বিশ্বের বৃহত্তর জলাভূমিও। সুন্দরবনের জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। ১৯৯২ সালে সমগ্র সুন্দরবনের এই জলভাগকে রামসার এলাকা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনকে আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য লোকালয়-সংলগ্ন নদী-খাল খনন ও কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া খুবই জরুরি। বন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রোধে বন রক্ষীদের তৎপরতা বাড়াতে হবে। অসাধু বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা-ডিএফও মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা বনজীবীদের বিড়ি-সিগারেটের আগুনে অনেক সময় আগুন লাগে। এজন্য বনজীবী ও স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার হলে আগুনের স্থান নির্ধারণ সহজ হবে। সংলগ্ন এলাকার ভরাট হওয়া নদী ও খাল খননের বিষয়ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবন রক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট প্রেট্রোলিংসহ সব ধরনের পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন