বড়পুকুরিয়ায় ছয় ঘণ্টা কয়লা তোলা বন্ধ
jugantor
বড়পুকুরিয়ায় ছয় ঘণ্টা কয়লা তোলা বন্ধ
আলটিমেটাম দিয়ে শ্রমিকদের খনিতে যোগদান

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

০৭ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রধান গেট উন্মুক্ত করার দাবিতে শুক্রবার ৬ ঘণ্টা কাজ বন্ধ রেখে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করে করোনায় অবরুদ্ধ ও বন্দি শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে খনির গেটে অবস্থান নেন বাইরে থাকা শ্রমিকরাও।

সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উৎপাদন। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রমিকদের ভেতরে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার খনি শ্রমিকের মধ্যে ৬০৪ জন শ্রমিককে ভেতরে রেখে খনির কয়লা তোলার কাজ শুরু হয়। শ্রমিকরা জানান, তাদের বিধি-নিষেধ দিয়ে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। খনির ভেতর প্রায় সাত মাস ধরে অবরুদ্ধ শ্রমিকরা শুক্রবার দুপুর থেকে প্রধান গেটে জড়ো হতে থাকেন।

সোহাগ হোসেন মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, দীর্ঘ সাত মাস পরিবার পরিজন ছেড়ে খনিতে অবস্থান করছি। অমানবিক অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। শ্র?মিক নেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে শ্রমিকরা জেলখানার মতো বন্দি। প্রথমে আমাদের বলা হয়েছিল চার মাস পর গেট খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু খোলেননি। তারা তখন বলেন, চাইনিজরা টিকা নিলে খুলবে। তারা টিকা নেওয়ার পর বলেন, আমরা শ্রমিকরা টিকা নিলে খুলবেন। আমরা টিকা নেওয়ার পর এখন বলছেন, চীনা ঠিকাদারির মেয়াদ শেষ হ?বে তারপর খুলে দেওয়া হবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়া খনিসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠানের গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজকর্ম চলছে। কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা দীর্ঘদিন থেকে ভেতরে বন্দি অবস্থায় থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় খনির প্রধান গেট উন্মুক্ত করা এবং সব শ্রমিককে করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে স্ব স্ব কাজে যোগদানসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের অংশ হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি করে। অবশ্য সমস্যা নিরসনের আলটিমেটাম দিয়ে রাত ১২টার পর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। রোববারের মধ্যে তাদের সমস্যা নিরসন না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করোনার ব্যাপারে বেশ সতর্ক। তাই খনির কয়লা তোলা অব্যাহত রাখার স্বার্থেই এই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সবাই ভ্যাকসিনের আওতায় না আসা পর্যন্ত খনির প্রধান গেট উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। শুক্রবার ৬ ঘণ্টা কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে তিনি জানান, এতে খনির উৎপাদনে কিছুটা ব্যাঘাত হয়েছে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে মামলা হবে।

বড়পুকুরিয়ায় ছয় ঘণ্টা কয়লা তোলা বন্ধ

আলটিমেটাম দিয়ে শ্রমিকদের খনিতে যোগদান
 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
০৭ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রধান গেট উন্মুক্ত করার দাবিতে শুক্রবার ৬ ঘণ্টা কাজ বন্ধ রেখে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করে করোনায় অবরুদ্ধ ও বন্দি শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে খনির গেটে অবস্থান নেন বাইরে থাকা শ্রমিকরাও।

সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উৎপাদন। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রমিকদের ভেতরে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার খনি শ্রমিকের মধ্যে ৬০৪ জন শ্রমিককে ভেতরে রেখে খনির কয়লা তোলার কাজ শুরু হয়। শ্রমিকরা জানান, তাদের বিধি-নিষেধ দিয়ে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। খনির ভেতর প্রায় সাত মাস ধরে অবরুদ্ধ শ্রমিকরা শুক্রবার দুপুর থেকে প্রধান গেটে জড়ো হতে থাকেন।

সোহাগ হোসেন মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, দীর্ঘ সাত মাস পরিবার পরিজন ছেড়ে খনিতে অবস্থান করছি। অমানবিক অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। শ্র?মিক নেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে শ্রমিকরা জেলখানার মতো বন্দি। প্রথমে আমাদের বলা হয়েছিল চার মাস পর গেট খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু খোলেননি। তারা তখন বলেন, চাইনিজরা টিকা নিলে খুলবে। তারা টিকা নেওয়ার পর বলেন, আমরা শ্রমিকরা টিকা নিলে খুলবেন। আমরা টিকা নেওয়ার পর এখন বলছেন, চীনা ঠিকাদারির মেয়াদ শেষ হ?বে তারপর খুলে দেওয়া হবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়া খনিসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠানের গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজকর্ম চলছে। কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা দীর্ঘদিন থেকে ভেতরে বন্দি অবস্থায় থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় খনির প্রধান গেট উন্মুক্ত করা এবং সব শ্রমিককে করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে স্ব স্ব কাজে যোগদানসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের অংশ হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি করে। অবশ্য সমস্যা নিরসনের আলটিমেটাম দিয়ে রাত ১২টার পর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। রোববারের মধ্যে তাদের সমস্যা নিরসন না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করোনার ব্যাপারে বেশ সতর্ক। তাই খনির কয়লা তোলা অব্যাহত রাখার স্বার্থেই এই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সবাই ভ্যাকসিনের আওতায় না আসা পর্যন্ত খনির প্রধান গেট উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। শুক্রবার ৬ ঘণ্টা কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে তিনি জানান, এতে খনির উৎপাদনে কিছুটা ব্যাঘাত হয়েছে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে মামলা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন