চট্টগ্রামে মেডিকেল বর্জ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি
jugantor
প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৯ টন
চট্টগ্রামে মেডিকেল বর্জ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম  

১২ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে প্রতিদিন অন্তত ১৯ টন মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হয়। এরমধ্যে শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকেই তৈরি হয় ৮ টন সাধারণ ও এক টন ক্ষতিকর জীবাণুবাহী বর্জ্য। বাকিগুলো নগরীর ৯০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ১৮৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। নিয়ম অনুযায়ী এসব মেডিকেল বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করে পুড়িয়ে ফেলার কথা। কিন্তু ১৫ বছর ধরে চমেক হাসপাতালের দুটি ইনসিনারেটর (জীবাণুমুক্তকরণ মেশিন) বিকল। ফলে এসব বর্জ্য সরাসরি খোলা বা উন্মুক্ত আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগের সংক্রমণ।

জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতালের দুটি ইনসিনারেটর মেশিনে আগুন লেগে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘চট্টগ্রাম সেবা সংস্থা’র মাধ্যমে জীবাণুযুক্ত বর্জ্য অপসারণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পলিব্যাগের মাধ্যমে দিনে দুবার এসব বর্জ্য নিয়ে যায় সংস্থাটি। এজন্য প্রতি মাসে তাদের ৮০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। অপরদিকে এক হাজার ৩১৩ শয্যার হাসপাতালটির স্বাস্থ্যকর্মী, স্টাফ, রোগী-স্বজনসহ সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সাধারণ বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগের ট্রাকের মাধ্যমে। তবে আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হলেও জীবাণুমুক্ত না করেই সব ধরনের বর্জ্য ফেলা হয় চসিকের নির্দিষ্ট আবর্জনার স্তূপে।

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, চমেকসহ নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জীবাণুযুক্ত মেডিকেল বর্জ্য চট্টগ্রাম সেবা সংস্থার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। চসিকের কাছে ইনসিনারেটর বা অটোক্লেভস মেশিন না থাকায় এগুলো জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এবং হালিশহর আনন্দবাজার এলাকার ময়লার ডিপোতে নিয়ে এগুলো ফেলা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে সংক্রামক বর্জ্য। এগুলো হলো- রক্ত, পুঁজ, দেহরস মিশ্রিত গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, স্পঞ্জ, সোয়াব, মব, প্লাস্টার, ক্যাথিটার, ড্রেনেজ টিউব, রক্ত সঞ্চালনের ব্যাগ-টিউব, রক্ত দ্বারা সংক্রমিত স্যালাইন সেট, ডায়েরিয়া রোগীর সংক্রমিত কাপড়-চোপড়, সংক্রমিত সিরিঞ্জ ইত্যাদি। একই ধরনের ভয়াবহ এনাটমিক্যাল বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে- মানবদেহের কেটে ফেলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিস্যু, টিউমার, গর্ভফুল বা গর্ভ-সংক্রান্ত বর্জ্য। এছাড়া তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে-রেডি-অ্যাকটিভ আইসোটোপ, অব্যবহৃত এক্স-রে মেশিনের হেড, তেজস্ক্রিয় বস্তু দ্বারা সংক্রমিত বর্জ্য ইত্যাদি। করোনাকালীন বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে-ডাক্তার-নার্সদের ব্যবহৃত পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, গ্লাভসসহ নানা রকমের বর্জ্য।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবীর যুগান্তরকে বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে দুটি ইনসিনারেটর মেশিন রয়েছে। কিন্তু সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আধুনিক মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার তৈরির প্রক্রিয়া চলমান। আপাতত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে মেডিকেল বর্জ্যগুলো অপসারণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব বলেন, মেডিকেল বর্জ্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বর্জ্যে থাকা জীবাণু কোনোভাবে রক্তে প্রবেশ করলে হেপাটাইটিস বি বা সি’র মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৯ টন

চট্টগ্রামে মেডিকেল বর্জ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি

 এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম 
১২ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে প্রতিদিন অন্তত ১৯ টন মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হয়। এরমধ্যে শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকেই তৈরি হয় ৮ টন সাধারণ ও এক টন ক্ষতিকর জীবাণুবাহী বর্জ্য। বাকিগুলো নগরীর ৯০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ১৮৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। নিয়ম অনুযায়ী এসব মেডিকেল বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করে পুড়িয়ে ফেলার কথা। কিন্তু ১৫ বছর ধরে চমেক হাসপাতালের দুটি ইনসিনারেটর (জীবাণুমুক্তকরণ মেশিন) বিকল। ফলে এসব বর্জ্য সরাসরি খোলা বা উন্মুক্ত আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগের সংক্রমণ।

জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতালের দুটি ইনসিনারেটর মেশিনে আগুন লেগে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘চট্টগ্রাম সেবা সংস্থা’র মাধ্যমে জীবাণুযুক্ত বর্জ্য অপসারণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পলিব্যাগের মাধ্যমে দিনে দুবার এসব বর্জ্য নিয়ে যায় সংস্থাটি। এজন্য প্রতি মাসে তাদের ৮০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। অপরদিকে এক হাজার ৩১৩ শয্যার হাসপাতালটির স্বাস্থ্যকর্মী, স্টাফ, রোগী-স্বজনসহ সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সাধারণ বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগের ট্রাকের মাধ্যমে। তবে আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হলেও জীবাণুমুক্ত না করেই সব ধরনের বর্জ্য ফেলা হয় চসিকের নির্দিষ্ট আবর্জনার স্তূপে।

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, চমেকসহ নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জীবাণুযুক্ত মেডিকেল বর্জ্য চট্টগ্রাম সেবা সংস্থার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। চসিকের কাছে ইনসিনারেটর বা অটোক্লেভস মেশিন না থাকায় এগুলো জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এবং হালিশহর আনন্দবাজার এলাকার ময়লার ডিপোতে নিয়ে এগুলো ফেলা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে সংক্রামক বর্জ্য। এগুলো হলো- রক্ত, পুঁজ, দেহরস মিশ্রিত গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, স্পঞ্জ, সোয়াব, মব, প্লাস্টার, ক্যাথিটার, ড্রেনেজ টিউব, রক্ত সঞ্চালনের ব্যাগ-টিউব, রক্ত দ্বারা সংক্রমিত স্যালাইন সেট, ডায়েরিয়া রোগীর সংক্রমিত কাপড়-চোপড়, সংক্রমিত সিরিঞ্জ ইত্যাদি। একই ধরনের ভয়াবহ এনাটমিক্যাল বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে- মানবদেহের কেটে ফেলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিস্যু, টিউমার, গর্ভফুল বা গর্ভ-সংক্রান্ত বর্জ্য। এছাড়া তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে-রেডি-অ্যাকটিভ আইসোটোপ, অব্যবহৃত এক্স-রে মেশিনের হেড, তেজস্ক্রিয় বস্তু দ্বারা সংক্রমিত বর্জ্য ইত্যাদি। করোনাকালীন বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে-ডাক্তার-নার্সদের ব্যবহৃত পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, গ্লাভসসহ নানা রকমের বর্জ্য।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবীর যুগান্তরকে বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে দুটি ইনসিনারেটর মেশিন রয়েছে। কিন্তু সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আধুনিক মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার তৈরির প্রক্রিয়া চলমান। আপাতত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে মেডিকেল বর্জ্যগুলো অপসারণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব বলেন, মেডিকেল বর্জ্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বর্জ্যে থাকা জীবাণু কোনোভাবে রক্তে প্রবেশ করলে হেপাটাইটিস বি বা সি’র মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন