সাত কাউন্সিলর ও পাঁচ পুলিশসহ ৫৬ আসামি
jugantor
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট
সাত কাউন্সিলর ও পাঁচ পুলিশসহ ৫৬ আসামি

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

০২ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন, ভোটার ও পাসপোর্ট করতে সহযোগিতা করার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্য, সাত পৌর কাউন্সিলর, দুই ইউপি চেয়ারম্যান, দুই ইউপি সচিব ও এক আইনজীবীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১২টি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। আসামির খাতায় রোহিঙ্গা, স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম রয়েছে। ২৫ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ মামলাগুলো করা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে দুদক। রোববার চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে দুদক টিম।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- মহেশখালী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত প্রভাষ চন্দ্র ধর, পেকুয়া থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে চট্টগ্রাম সিআইডির পরিদর্শক মিজানুর রহমান, কক্সবাজার ডিএসবির সাবেক পরিদর্শক ও বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোর্ট পরিদর্শক কাজি দিদারুল আলম, ডিএসবির সাবেক এসআই ও বর্তমানে রাঙামাটিতে কর্মরত সাজেদুর রহমান, ডিএসবির সাবেক এএসআই ও বর্তমানে ফেনীতে কর্মরত জাহেদুল ইসলাম।

পৌর কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন-কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন সেতু, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, সংরক্ষিত সদস্য (১০, ১১, ১২নং ওয়ার্ড) মহিলা দল নেত্রী নাসিমা আকতার বকুল এবং সাবেক নারী সদস্য (১, ২, ৩নং ওয়ার্ড) মহিলা দল নেত্রী হুমায়রা বেগম।

দুই ইউপি চেয়ারম্যান হলেন-মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের মোশারফ হোসাইন খোকন এবং কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের রফিক আহমদ। ইউপি সচিবরা হলেন- কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের প্রিয়তোষ দে। অপরজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার। অভিযুক্ত আইনজীবী হলেন-কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার আদালতের এজিপি আবুল কালাম আজাদ।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীন জানান, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা ডিএসবি অফিসে তদন্তের জন্য পাঠানো আবেদন তদন্ত না করেই পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশি হিসাবে পাসপোর্ট পেয়ে গেছে রোহিঙ্গারা। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রাথমিকভাবে ১২টি মামলায় ৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন-কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান এবং জন্মনিবন্ধন শাখার অফিস সহকারী দিদারুল আলম।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট

সাত কাউন্সিলর ও পাঁচ পুলিশসহ ৫৬ আসামি

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
০২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন, ভোটার ও পাসপোর্ট করতে সহযোগিতা করার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্য, সাত পৌর কাউন্সিলর, দুই ইউপি চেয়ারম্যান, দুই ইউপি সচিব ও এক আইনজীবীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১২টি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। আসামির খাতায় রোহিঙ্গা, স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম রয়েছে। ২৫ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ মামলাগুলো করা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে দুদক। রোববার চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে দুদক টিম।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- মহেশখালী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত প্রভাষ চন্দ্র ধর, পেকুয়া থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে চট্টগ্রাম সিআইডির পরিদর্শক মিজানুর রহমান, কক্সবাজার ডিএসবির সাবেক পরিদর্শক ও বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোর্ট পরিদর্শক কাজি দিদারুল আলম, ডিএসবির সাবেক এসআই ও বর্তমানে রাঙামাটিতে কর্মরত সাজেদুর রহমান, ডিএসবির সাবেক এএসআই ও বর্তমানে ফেনীতে কর্মরত জাহেদুল ইসলাম।

পৌর কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন-কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন সেতু, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, সংরক্ষিত সদস্য (১০, ১১, ১২নং ওয়ার্ড) মহিলা দল নেত্রী নাসিমা আকতার বকুল এবং সাবেক নারী সদস্য (১, ২, ৩নং ওয়ার্ড) মহিলা দল নেত্রী হুমায়রা বেগম।

দুই ইউপি চেয়ারম্যান হলেন-মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের মোশারফ হোসাইন খোকন এবং কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের রফিক আহমদ। ইউপি সচিবরা হলেন- কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের প্রিয়তোষ দে। অপরজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার। অভিযুক্ত আইনজীবী হলেন-কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার আদালতের এজিপি আবুল কালাম আজাদ।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীন জানান, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা ডিএসবি অফিসে তদন্তের জন্য পাঠানো আবেদন তদন্ত না করেই পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশি হিসাবে পাসপোর্ট পেয়ে গেছে রোহিঙ্গারা। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রাথমিকভাবে ১২টি মামলায় ৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন-কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান এবং জন্মনিবন্ধন শাখার অফিস সহকারী দিদারুল আলম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন