জিডিপির আকার বাড়বে ১৫-২০ শতাংশ
jugantor
বদলে যাচ্ছে ভিত্তিবছর
জিডিপির আকার বাড়বে ১৫-২০ শতাংশ

  হামিদ-উজ-জামান  

০৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হিসাব ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে থাকায় দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। সে ঘাটতি দূর করতে এ খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব জিডিপি কম্পাইলেশন অ্যান্ড রিবেজিং অব ইন্ডিসিস’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্প। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে বদলে যাচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসাবের ভিত্তিবছর। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের পরিবর্তে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে ২০১৫-১৬। এটি সম্পন্ন হলে জিডিপির আকার বাড়বে ১৫-২০ শতাংশ। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩৬ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা বা ৩৮ লাখ ৬ হাজার ১৬০ কোটি টাকায়।

সূত্রমতে, অর্থবছরের শেষদিকে একবার প্রাথমিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব এবং একই সঙ্গে মাথাপিছু আয়ের তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। এর তিন-চার মাস পর চূড়ান্ত হিসাব দেওয়া হয়। সেটিও কখনো কখনো অনিয়মিত হয়ে যায়। যেমন, গত অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। সেই হিসাব প্রকাশের ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও প্রতি তিন মাস অন্তর প্রবৃদ্ধির তথ্য দিতে পারবে জনগণকে। সেই সঙ্গে গ্রাম-শহর এমনকি জেলাভিত্তিক জিডিপির হিসাব দেওয়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের মার্চে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। নয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির মেয়াদ এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির ৫ম সভা ৩ মার্চ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ। তবে ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশ।

সভায় প্রকল্পটির পরিচালক জানান, করোনা মহামারির কারণে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্পের ৯১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। কাজের ব্যাপ্তি হিসাবে ডিস্ট্রিবিউটিভ ট্রেড অ্যান্ড মার্কেট পার্ট অব অ্যাগ্রিকালচার প্রডাক্ট জরিপটি দুই অংশে ভাগ করে দুটি জরিপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি জরিপের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং একটি সূচকের রিবেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও আরও ৫টি সূচকের রিবেজিং কাজ শেষ করার জন্য প্রকল্পটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, জিডিপির প্রথম ভিত্তিবছর হচ্ছে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর। পরে তা পরিবর্তন করে ১৯৮৪-৮৫ করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯৯৫-৯৬ এবং সর্বশেষ ২০০৫-০৬ অর্থবছর করা হয়েছিল। সেটি এখনো বহাল।

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন ও হালনাগাদকরণের পদ্ধতিগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে জিডিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূচকের ভিত্তিবছর পরিবর্তন ও হালনাগাদকরণ, গ্রাম-শহরের জিডিপি প্রাক্কলন, ফ্যাক্টর ইনকাম প্রাক্কলন এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সরাসরি প্রাক্কলন পদ্ধতি উন্নয়ন। জিডিপির কলেবর বৃদ্ধির জন্য করা হচ্ছে দুটি সার্ভে। এগুলো হলো : ‘সার্ভে অন ডিস্ট্রিবিউটিভ ট্রেড অ্যান্ড মার্কেট পার্ট অব অ্যাগ্রিকালচার প্রডাক্ট’ ও ‘সার্ভে অন কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড ওয়্যারহাউজ একাডেমি’। যে সূচকগুলো হালনাগাদ করা হচ্ছে : কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স, ওয়েজ রেট ইনডেক্স, কোয়ান্টাম ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন, প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল প্রাইস ইনডেক্স এবং হাউজ রেন্ট ইনডেক্স। এ ছাড়া রিবেজিং-এর কম্পাইলেশন শেষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিবিএস-এর ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং-এর পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত যতবারই ভিত্তিবছর পরিবর্তন হয়েছে ততবারই দেখা গেছে জিডিপির আকার ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে। এবারও তেমনি বাড়বে বলে ধারণা করছি।

বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, হিসাব ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যেই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক কাজ করতে হবে। এ ছাড়া জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন করা হচ্ছে। এটি করতে গিয়ে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে করা হচ্ছে। এগুলো শেষ হলে আরও বেশি হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। এতে সরকারের পক্ষে সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

বদলে যাচ্ছে ভিত্তিবছর

জিডিপির আকার বাড়বে ১৫-২০ শতাংশ

 হামিদ-উজ-জামান 
০৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হিসাব ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে থাকায় দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। সে ঘাটতি দূর করতে এ খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব জিডিপি কম্পাইলেশন অ্যান্ড রিবেজিং অব ইন্ডিসিস’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্প। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে বদলে যাচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসাবের ভিত্তিবছর। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের পরিবর্তে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে ২০১৫-১৬। এটি সম্পন্ন হলে জিডিপির আকার বাড়বে ১৫-২০ শতাংশ। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩৬ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা বা ৩৮ লাখ ৬ হাজার ১৬০ কোটি টাকায়।

সূত্রমতে, অর্থবছরের শেষদিকে একবার প্রাথমিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব এবং একই সঙ্গে মাথাপিছু আয়ের তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। এর তিন-চার মাস পর চূড়ান্ত হিসাব দেওয়া হয়। সেটিও কখনো কখনো অনিয়মিত হয়ে যায়। যেমন, গত অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। সেই হিসাব প্রকাশের ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও প্রতি তিন মাস অন্তর প্রবৃদ্ধির তথ্য দিতে পারবে জনগণকে। সেই সঙ্গে গ্রাম-শহর এমনকি জেলাভিত্তিক জিডিপির হিসাব দেওয়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের মার্চে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। নয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির মেয়াদ এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির ৫ম সভা ৩ মার্চ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ। তবে ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশ।

সভায় প্রকল্পটির পরিচালক জানান, করোনা মহামারির কারণে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্পের ৯১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। কাজের ব্যাপ্তি হিসাবে ডিস্ট্রিবিউটিভ ট্রেড অ্যান্ড মার্কেট পার্ট অব অ্যাগ্রিকালচার প্রডাক্ট জরিপটি দুই অংশে ভাগ করে দুটি জরিপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি জরিপের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং একটি সূচকের রিবেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও আরও ৫টি সূচকের রিবেজিং কাজ শেষ করার জন্য প্রকল্পটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, জিডিপির প্রথম ভিত্তিবছর হচ্ছে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর। পরে তা পরিবর্তন করে ১৯৮৪-৮৫ করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯৯৫-৯৬ এবং সর্বশেষ ২০০৫-০৬ অর্থবছর করা হয়েছিল। সেটি এখনো বহাল।

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন ও হালনাগাদকরণের পদ্ধতিগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে জিডিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূচকের ভিত্তিবছর পরিবর্তন ও হালনাগাদকরণ, গ্রাম-শহরের জিডিপি প্রাক্কলন, ফ্যাক্টর ইনকাম প্রাক্কলন এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সরাসরি প্রাক্কলন পদ্ধতি উন্নয়ন। জিডিপির কলেবর বৃদ্ধির জন্য করা হচ্ছে দুটি সার্ভে। এগুলো হলো : ‘সার্ভে অন ডিস্ট্রিবিউটিভ ট্রেড অ্যান্ড মার্কেট পার্ট অব অ্যাগ্রিকালচার প্রডাক্ট’ ও ‘সার্ভে অন কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড ওয়্যারহাউজ একাডেমি’। যে সূচকগুলো হালনাগাদ করা হচ্ছে : কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স, ওয়েজ রেট ইনডেক্স, কোয়ান্টাম ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন, প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল প্রাইস ইনডেক্স এবং হাউজ রেন্ট ইনডেক্স। এ ছাড়া রিবেজিং-এর কম্পাইলেশন শেষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিবিএস-এর ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং-এর পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত যতবারই ভিত্তিবছর পরিবর্তন হয়েছে ততবারই দেখা গেছে জিডিপির আকার ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে। এবারও তেমনি বাড়বে বলে ধারণা করছি।

বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, হিসাব ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যেই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক কাজ করতে হবে। এ ছাড়া জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন করা হচ্ছে। এটি করতে গিয়ে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে করা হচ্ছে। এগুলো শেষ হলে আরও বেশি হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। এতে সরকারের পক্ষে সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন