রাবিতে অপর্যাপ্ত বাজেট, গবেষণায় নানা সমস্যা
jugantor
রাবিতে অপর্যাপ্ত বাজেট, গবেষণায় নানা সমস্যা
আমাদের তুলনায় পাশের দেশেও গবেষণায় বাজেট অনেক বেশি -অধ্যাপক সালেহ হাসান

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি অর্থবছরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত চার বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে রাবির গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই বাজেট গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য ও অন্যান্য গবেষণাসামগ্রী সংগ্রহে ‘পর্যাপ্ত নয়’ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বাজেটের তুলনায় বাংলাদেশের বাজেট খুব কম। ফলে গবেষণা করতে আর্থিক সংকটে পড়তে হয় শিক্ষকদের। অর্থের অভাবে কেনা যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বিদেশ থেকে অনুদান নিয়ে গবেষণাকাজ চালাতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গবেষকদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির স্বল্পতা এবং পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে অনেক সময় গবেষণার মান সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া গবেষণার জন্য শক্তিশালী কম্পিউটার ও উন্নতমানের ল্যাব না-থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাবির বাজেটের আকার ৪৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। গবেষণায় বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৩৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, গবেষণায় ছিল ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৩৯০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, গবেষণায় ছিল তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত চার বছর ধরে রাবিতে গবেষণায় বাজেট শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষণায় বাজেট ‘পর্যাপ্ত নয়’ উল্লেখ করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা না-করে যদি ভারত, পাকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে দেখা যাবে, আমাদের তুলনায় তাদের বাজেট অনেক বেশি। সম্প্রতি ভারত সরকার ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েক বছর ধরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের গবেষণা কাজে এই বরাদ্দ ব্যয় করবে। তিনি বলেন, আমাদের শক্তিশালী কম্পিউটার দরকার। আমরা যেসব ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন বা হিসাবের কাজগুলো করি, সেগুলো সাধারণ কম্পিউটারে করাটা খুব কঠিন। আমার ল্যাবে ওই ধরনের কোনো কম্পিউটারই নেই। পিএইচডি, এমফিলের অনেক ছাত্র আছেন। কিন্তু তাদেরকে তো দুটো কম্পিউটারে সমন্বয় করা বেশ কঠিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, গবেষণা বাজেটে যে বরাদ্দ তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের কত শতাংশ গবেষণায় বরাদ্দ হয়, সেটা বিশ্বব্যাপী একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানকে নির্দেশ করে। গবেষণা বাজেট যখন মোট বাজেটের ১ শতাংশ বা তার কম হয় তখন এই বাজেট ‘যথেষ্ট’ বলার কোনো উপায় নেই।

প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞানের অধ্যাপক খালেদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হচ্ছে না’ বলে অনেকেই বিভিন্ন কথা বলি। কিন্তু যারা গবেষণা করছেন, তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না? বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গবেষণাই হয়। তবে গবেষণা কাজটি কীভাবে সম্পন্ন হলো, তারা কোথা থেকে টাকা পেল, কী পরিস্থিতিতে গবেষণাটি করেছে এসব বিষয় কেউ কোনোদিন দেখেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকে তো বাজেট বাড়ছেই। কিন্তু গবেষণার মান কতটা বাড়ছে? শিক্ষার গুণগতমান বাড়ছে না কেন?

রাবিতে অপর্যাপ্ত বাজেট, গবেষণায় নানা সমস্যা

আমাদের তুলনায় পাশের দেশেও গবেষণায় বাজেট অনেক বেশি -অধ্যাপক সালেহ হাসান
 রাজশাহী ব্যুরো 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি অর্থবছরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত চার বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে রাবির গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই বাজেট গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য ও অন্যান্য গবেষণাসামগ্রী সংগ্রহে ‘পর্যাপ্ত নয়’ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বাজেটের তুলনায় বাংলাদেশের বাজেট খুব কম। ফলে গবেষণা করতে আর্থিক সংকটে পড়তে হয় শিক্ষকদের। অর্থের অভাবে কেনা যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বিদেশ থেকে অনুদান নিয়ে গবেষণাকাজ চালাতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গবেষকদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির স্বল্পতা এবং পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে অনেক সময় গবেষণার মান সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া গবেষণার জন্য শক্তিশালী কম্পিউটার ও উন্নতমানের ল্যাব না-থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাবির বাজেটের আকার ৪৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। গবেষণায় বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৩৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, গবেষণায় ছিল ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট বাজেট ছিল ৩৯০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, গবেষণায় ছিল তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত চার বছর ধরে রাবিতে গবেষণায় বাজেট শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষণায় বাজেট ‘পর্যাপ্ত নয়’ উল্লেখ করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা না-করে যদি ভারত, পাকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে দেখা যাবে, আমাদের তুলনায় তাদের বাজেট অনেক বেশি। সম্প্রতি ভারত সরকার ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েক বছর ধরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের গবেষণা কাজে এই বরাদ্দ ব্যয় করবে। তিনি বলেন, আমাদের শক্তিশালী কম্পিউটার দরকার। আমরা যেসব ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন বা হিসাবের কাজগুলো করি, সেগুলো সাধারণ কম্পিউটারে করাটা খুব কঠিন। আমার ল্যাবে ওই ধরনের কোনো কম্পিউটারই নেই। পিএইচডি, এমফিলের অনেক ছাত্র আছেন। কিন্তু তাদেরকে তো দুটো কম্পিউটারে সমন্বয় করা বেশ কঠিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, গবেষণা বাজেটে যে বরাদ্দ তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের কত শতাংশ গবেষণায় বরাদ্দ হয়, সেটা বিশ্বব্যাপী একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানকে নির্দেশ করে। গবেষণা বাজেট যখন মোট বাজেটের ১ শতাংশ বা তার কম হয় তখন এই বাজেট ‘যথেষ্ট’ বলার কোনো উপায় নেই।

প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞানের অধ্যাপক খালেদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হচ্ছে না’ বলে অনেকেই বিভিন্ন কথা বলি। কিন্তু যারা গবেষণা করছেন, তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না? বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গবেষণাই হয়। তবে গবেষণা কাজটি কীভাবে সম্পন্ন হলো, তারা কোথা থেকে টাকা পেল, কী পরিস্থিতিতে গবেষণাটি করেছে এসব বিষয় কেউ কোনোদিন দেখেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকে তো বাজেট বাড়ছেই। কিন্তু গবেষণার মান কতটা বাড়ছে? শিক্ষার গুণগতমান বাড়ছে না কেন?

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন