হেফাজত নেতা আজিজুল সাতদিনের রিমান্ডে
jugantor
মতিঝিল শাপলা চত্বরে জ্বালাও-পোড়াও
হেফাজত নেতা আজিজুল সাতদিনের রিমান্ডে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সাতদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সোমবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের জ্বালাও-পোড়াও ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি আজিজুল হক। রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় বৈঠক শেষে ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই বৈঠক থেকে ঢাকায় ফেরার পথে হেফাজত নেতা মুফতি ইলিয়াস হামিদিকেও গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহের হেফাজত নেতা ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপরদিকে, মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফতে মজলিশ নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজিজুল হককে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আতিকুল ইসলাম জানান, ঢাকার পল্টন থানায় করা মামলায় রোববার মধ্যরাতে হাটহাজারী থেকে আজিজুলকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। হেফাজতের মুখপাত্র ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অন্যতম হলেন আজিজুল। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কোনো শীর্ষপর্যায়ের নেতার গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আজিজুলের গ্রেফতারের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে একত্রিত হয়ে তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা হয়।

হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ও সহকারী প্রচার সম্পাদক এনামুল হাসান ফারুকী জানান, মাদ্রাসায় বৈঠক শেষে আজিজুল হক গাড়ির জন্য হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানেই তাকে সর্বশেষ দেখা গেছে। এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। হেফাজতের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী জানান, হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে ফেরার পথে আজিজুল হককে গ্রেফতার করা হয়।

আজিজুল হকের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা মনি জানান, রোববার মাদ্রাসায় বৈঠক শেষ করে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের বাসায় ফেরার পথে তিনি ‘নিখোঁজ হন। রাত ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। সারা রাত মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার ভোর ৪টার দিকে তার মোবাইল ফোন সচল হলেও ফোন রিসিভ করেননি। তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না বলে সবাই উদ্বিগ্ন ছিলাম। তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি তার ছোট ভাই মুহাম্মদ ইরফানুল হককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এএসপি পদবির এক কর্মকর্তা টেলিফোনে জানান, হাটহাজারী থেকে আজিজুলকে আটক করা হয়েছে। ঢাকার এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। হেফাজত নেতা আজিজুল হক চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হরিণখাইন এলাকার মাওলানা সৈযদ আহমেদের বাড়ির হাফেজ আহমদ উল্লাহর ছেলে। আজিজুল এক ছেলে ও এক কন্যার জনক।

এদিকে, হাটহাজারী মাদ্রাসার একই বৈঠক শেষে ঢাকায় ফেরার পথে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি ইলিয়াস হামিদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুফতি ইলিয়াস হামিদির একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা মাহমুদ। তিনি জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে তাদের বহনকারী গাড়ি (ভাড়া করা নোহা) গতিরোধ করে হামিদিকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের সাদা পোশাকের একটি দল। তবে অন্য কাউকে আটক করা হয়নি। হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক হামিদি ঢাকা মহানগরী কমিটিরও সহসভাপতি।

গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে দুর্বার আন্দোলন : হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, হেফাজতের গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি জানান, আজিজুল হক ও মুফতি ইলিয়াসসহ গ্রেফতার সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে সুস্থ শরীরে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে। হেফাজতের নেতাকর্মীসহ নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার ও হামলা-মামলা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, তাদের দাবি মানা না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের শহিদ করেছে দাবি করে হেফাজত আমির বাবুনগরী আরও বলেন, এসব ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এত জুলুমের পরও হেফাজতে ইসলাম অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হেফাজতে ইসলামের সরলতাকে দুর্বলতা মনে করলে এর চরম মাসুল দিতে হবে। হেফাজত দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা চায়। তবে জুলুমবাজদের জুলুমে পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী একদিনের রিমান্ডে : হেফাজত ইসলামের নেতা ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ময়মনসিংহের আদালত। আইসিটি মামলায় সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ১ নং আমলি আদালতের বিচারক আব্দুল হাই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রোববার ওয়াসেকের বিরুদ্ধে মামলা করেন জেলা শ্রমিক লীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম শাহীন। এ মামলায় ময়মনসিংহের সানকিপাড়া এলাকার সেনবাড়ি রোড থেকে রোববার যৌথ অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কোতোয়ালি মডেল থানায় এসআই মাহবুবুর রশিদ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। ওয়াসেক সেনবাড়ি রোডের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।

সোনারগাঁয়ে চারজন গ্রেফতার : হেফাজতে ইসলামের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার আমির ও সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফতে মজলিশ সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সভাপতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার জুরাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- খেলাফতে মজলিশ সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫৫), হেফাজতে ইসলাম সোনারগাঁও উপজেলা শাখার আমির হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন খান (৫২) ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান খান শিবলি (৪৩), সহসভাপতি হাফেজ মোয়াজ্জেম হোসেন (৫২)। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্ট, উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতার ঘর-বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট ও মহাসড়কে নাশকতা করার মামলার আসামি তারা।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি, যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁ এবং ময়মনসিংহ ব্যুরো।]

মতিঝিল শাপলা চত্বরে জ্বালাও-পোড়াও

হেফাজত নেতা আজিজুল সাতদিনের রিমান্ডে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সাতদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সোমবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের জ্বালাও-পোড়াও ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি আজিজুল হক। রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় বৈঠক শেষে ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই বৈঠক থেকে ঢাকায় ফেরার পথে হেফাজত নেতা মুফতি ইলিয়াস হামিদিকেও গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহের হেফাজত নেতা ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপরদিকে, মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফতে মজলিশ নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজিজুল হককে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আতিকুল ইসলাম জানান, ঢাকার পল্টন থানায় করা মামলায় রোববার মধ্যরাতে হাটহাজারী থেকে আজিজুলকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। হেফাজতের মুখপাত্র ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অন্যতম হলেন আজিজুল। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কোনো শীর্ষপর্যায়ের নেতার গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আজিজুলের গ্রেফতারের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে একত্রিত হয়ে তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা হয়।

হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ও সহকারী প্রচার সম্পাদক এনামুল হাসান ফারুকী জানান, মাদ্রাসায় বৈঠক শেষে আজিজুল হক গাড়ির জন্য হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানেই তাকে সর্বশেষ দেখা গেছে। এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। হেফাজতের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী জানান, হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে ফেরার পথে আজিজুল হককে গ্রেফতার করা হয়।

আজিজুল হকের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা মনি জানান, রোববার মাদ্রাসায় বৈঠক শেষ করে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের বাসায় ফেরার পথে তিনি ‘নিখোঁজ হন। রাত ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। সারা রাত মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার ভোর ৪টার দিকে তার মোবাইল ফোন সচল হলেও ফোন রিসিভ করেননি। তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না বলে সবাই উদ্বিগ্ন ছিলাম। তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি তার ছোট ভাই মুহাম্মদ ইরফানুল হককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এএসপি পদবির এক কর্মকর্তা টেলিফোনে জানান, হাটহাজারী থেকে আজিজুলকে আটক করা হয়েছে। ঢাকার এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। হেফাজত নেতা আজিজুল হক চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হরিণখাইন এলাকার মাওলানা সৈযদ আহমেদের বাড়ির হাফেজ আহমদ উল্লাহর ছেলে। আজিজুল এক ছেলে ও এক কন্যার জনক।

এদিকে, হাটহাজারী মাদ্রাসার একই বৈঠক শেষে ঢাকায় ফেরার পথে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি ইলিয়াস হামিদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুফতি ইলিয়াস হামিদির একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা মাহমুদ। তিনি জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে তাদের বহনকারী গাড়ি (ভাড়া করা নোহা) গতিরোধ করে হামিদিকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের সাদা পোশাকের একটি দল। তবে অন্য কাউকে আটক করা হয়নি। হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক হামিদি ঢাকা মহানগরী কমিটিরও সহসভাপতি।

গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে দুর্বার আন্দোলন : হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, হেফাজতের গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি জানান, আজিজুল হক ও মুফতি ইলিয়াসসহ গ্রেফতার সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে সুস্থ শরীরে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে। হেফাজতের নেতাকর্মীসহ নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার ও হামলা-মামলা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, তাদের দাবি মানা না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের শহিদ করেছে দাবি করে হেফাজত আমির বাবুনগরী আরও বলেন, এসব ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এত জুলুমের পরও হেফাজতে ইসলাম অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হেফাজতে ইসলামের সরলতাকে দুর্বলতা মনে করলে এর চরম মাসুল দিতে হবে। হেফাজত দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা চায়। তবে জুলুমবাজদের জুলুমে পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী একদিনের রিমান্ডে : হেফাজত ইসলামের নেতা ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ময়মনসিংহের আদালত। আইসিটি মামলায় সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ১ নং আমলি আদালতের বিচারক আব্দুল হাই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রোববার ওয়াসেকের বিরুদ্ধে মামলা করেন জেলা শ্রমিক লীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম শাহীন। এ মামলায় ময়মনসিংহের সানকিপাড়া এলাকার সেনবাড়ি রোড থেকে রোববার যৌথ অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কোতোয়ালি মডেল থানায় এসআই মাহবুবুর রশিদ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। ওয়াসেক সেনবাড়ি রোডের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।

সোনারগাঁয়ে চারজন গ্রেফতার : হেফাজতে ইসলামের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার আমির ও সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফতে মজলিশ সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সভাপতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার জুরাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- খেলাফতে মজলিশ সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫৫), হেফাজতে ইসলাম সোনারগাঁও উপজেলা শাখার আমির হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন খান (৫২) ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান খান শিবলি (৪৩), সহসভাপতি হাফেজ মোয়াজ্জেম হোসেন (৫২)। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্ট, উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতার ঘর-বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট ও মহাসড়কে নাশকতা করার মামলার আসামি তারা।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি, যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁ এবং ময়মনসিংহ ব্যুরো।]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন