পাহাড়ে ৩ দিনের উৎসববিহীন বিজু শুরু
jugantor
পাহাড়ে ৩ দিনের উৎসববিহীন বিজু শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বিজু উৎসব। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বাংলাবর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবটিকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই ও ত্রিপুরারা বৈসুক বা বৈসাবি নামে পালন করে। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে এ বছর তেমন উৎসবের আমেজ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে শুধু সামাজিক রীতি পালন করা হচ্ছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

রাঙামাটি : কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই রাঙামাটিতে সোমবার সকালে পালিত হয়েছে ফুলবিজু। মহান সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে নিবেদন করা হয় পুষ্পাঞ্জলি। এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে জ্বালানো হয়েছে মঙ্গল প্রদীপ। প্রার্থনা জানানো হয়েছে, মহামারি করোনাসহ যাবতীয় ভয়, বাধা-বিপত্তি, দুঃখ-গ্লানি দূর হয়ে নতুন বছর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন সব মানুষ অনাবিল সুখ-শান্তি লাভ করে। যার যার ঘরে মঙ্গলবার মূলবিজু ও বুধবার গোজ্জেপোজ্জে দিন পালিত হবে।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে সামাজিক দূরত্ব মেনে সীমিত পরিসরে পাহাড়িরা পালন করছে বৈসাবি উৎসব। চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। পুরনো বছরের দুঃখ জরা ভুলে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় নদীতে দেবী গঙ্গার উদ্দেশে এ ফুল ভাসানো হয়। প্রতিবছর বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদ, সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, মারমা ঐক্য পরিষদ, মারমা উন্নয়ন সংসদ, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এবার তা হচ্ছে না।

বান্দরবান : স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়া পরিবেশে এ বছর বান্দরবানে বৈসাবি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বান্দরবানে পার্বত্য জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে সোমবার সকালে পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্নার সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্যশৈহ্না বলেন, জলখেলি, সাংস্কৃতিক, ক্যায়াংএ ছোয়াইং দান, নদীচরে বুদ্ধমূর্তি স্নান, প্রদীপ প্রজ্বলন আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। শুধু ঘরোয়া পরিবেশে ও বড় ক্যায়াংগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে। তবে বাইরের কোনো পূজারি ক্যায়াং-এ যেতে পারবেন না। আগামী ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিলের আনুষ্ঠানিক বৈসাবি উৎসব হবে না। সব ধরনের জনসমাগম ও বৈসাবি আয়োজন বন্ধ থাকবে।

পাহাড়ে ৩ দিনের উৎসববিহীন বিজু শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বিজু উৎসব। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বাংলাবর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবটিকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই ও ত্রিপুরারা বৈসুক বা বৈসাবি নামে পালন করে। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে এ বছর তেমন উৎসবের আমেজ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে শুধু সামাজিক রীতি পালন করা হচ্ছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

রাঙামাটি : কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই রাঙামাটিতে সোমবার সকালে পালিত হয়েছে ফুলবিজু। মহান সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে নিবেদন করা হয় পুষ্পাঞ্জলি। এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে জ্বালানো হয়েছে মঙ্গল প্রদীপ। প্রার্থনা জানানো হয়েছে, মহামারি করোনাসহ যাবতীয় ভয়, বাধা-বিপত্তি, দুঃখ-গ্লানি দূর হয়ে নতুন বছর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন সব মানুষ অনাবিল সুখ-শান্তি লাভ করে। যার যার ঘরে মঙ্গলবার মূলবিজু ও বুধবার গোজ্জেপোজ্জে দিন পালিত হবে।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে সামাজিক দূরত্ব মেনে সীমিত পরিসরে পাহাড়িরা পালন করছে বৈসাবি উৎসব। চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। পুরনো বছরের দুঃখ জরা ভুলে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় নদীতে দেবী গঙ্গার উদ্দেশে এ ফুল ভাসানো হয়। প্রতিবছর বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদ, সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, মারমা ঐক্য পরিষদ, মারমা উন্নয়ন সংসদ, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এবার তা হচ্ছে না।

বান্দরবান : স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়া পরিবেশে এ বছর বান্দরবানে বৈসাবি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বান্দরবানে পার্বত্য জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে সোমবার সকালে পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্নার সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্যশৈহ্না বলেন, জলখেলি, সাংস্কৃতিক, ক্যায়াংএ ছোয়াইং দান, নদীচরে বুদ্ধমূর্তি স্নান, প্রদীপ প্রজ্বলন আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। শুধু ঘরোয়া পরিবেশে ও বড় ক্যায়াংগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে। তবে বাইরের কোনো পূজারি ক্যায়াং-এ যেতে পারবেন না। আগামী ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিলের আনুষ্ঠানিক বৈসাবি উৎসব হবে না। সব ধরনের জনসমাগম ও বৈসাবি আয়োজন বন্ধ থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন