সম্মুখ সারির যোদ্ধার স্বীকৃতি চায় কাস্টমস
jugantor
করোনাকালে জরুরি সেবা
সম্মুখ সারির যোদ্ধার স্বীকৃতি চায় কাস্টমস

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘লকডাউনে’ জরুরি সেবার আওতায় কাস্টমস খোলা। আর সেবা দিতে গিয়ে স্টেশনে কর্মরত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। মারাও যাচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি না থাকায় এজন্য বিশেষ কোনো সুবিধা তারা পাচ্ছেন না।

সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে আয়কর-কাস্টমসের ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন। সর্বশেষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে কমিশনার হোসাইন আহমেদ মারা গেছেন। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম ও একজন অতিরিক্ত কমিশনার। এমনকি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মধ্যেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

একাধিক কাস্টমস কমিশনার যুগান্তরকে বলেন, গত বছর লকডাউনে সবকিছু যখন বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখনও কাস্টমস কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। আমদানি-রপ্তানি গতিশীল রাখতে প্রতিদিনই রোস্টারমাফিক সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখা হয়। তখন অনেক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা আক্রান্ত হন, মারাও গেছেন। তারা কোনো সহায়তা পাননি। এখন আবার সংক্রমণ বাড়ায় আগের তুলনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্মকর্তাদের অফিস করাতে রাজি করানো যাচ্ছে না। কারণ একটাই, তা হলো, সবাই আগে জীবনের নিরাপত্তা চায়। সরকার পরিপত্র জারি করে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য প্রণোদনা দিলেও সেই তালিকায় কাস্টমসকে রাখা হয়নি। অথচ কাস্টমস দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

গত বছরের ২৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগ করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা ও মারা গেলে প্রণোদনার পরিপত্র জারি করে। সেই পরিপত্রে ক্ষতিপূরণের আওতায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীকে রাখা হয়। কিন্তু পরিপত্রে কাস্টমসকে না-রাখায় এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গা-ছাড়া ভাব কাজ করছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, ১ম-৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হলে ১০ লাখ টাকা ও মারা গেলে ৫০ লাখ টাকা, ১০-১৪তম গ্রেডের কর্মচারীরা আক্রান্ত হলে সাড়ে সাত লাখ টাকা ও মারা গেলে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা এবং ১৫-২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা আক্রান্ত হলে পাঁচ লাখ টাকা একং মারা গেলে ২৫ লাখ টাকা পাবেন।

নাম প্রকাশ না-করার শর্তে চট্টগ্রাম কাস্টমসে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা আতঙ্ক নিয়েই কাজ করছি। সরকার ঘোষিত ৫০ শতাংশ জনবল দিয়ে রোস্টার ভিত্তিতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিনই পণ্য খালাসের জন্য আমদানিকারক ও তাদের প্রতিনিধিরা হাউজে সশরীরে উপস্থিত হচ্ছেন। এতে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, কাস্টম হাউজে মানুষের সংস্পর্শে আসা ছাড়া কাজ করার সুযোগ নেই। আমদানিকারকের প্রতিনিধি-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অন্য সংস্থার মানুষজন মালামাল খালাসে আসছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মালামাল কায়িক পরীক্ষা করতে হয়। সরেজমিন তদারকি, প্রিভেনটিভ কার্যক্রম ও চোরাচালান দমন, রামেজিংয়ের জন্য গভীর সমুদ্রে বিদেশি জাহাজে গমন ও তল্লাশি করা, গেট ডিভিশন ঝুঁকিপূর্ণ কর্তব্য পালন এবং বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্যের দ্রুত খালাস করতে হয়। এতে কর্মরতরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ ছাড়া বিমানবন্দরগুলোয় প্রতিদিন শত শত বিদেশি যাত্রী হ্যান্ডলিং ও সুচারুভাবে পারাপার, যাত্রীসেবা দ্রুতকরণ, শুল্কযোগ্য পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন এবং চোরাচালান দমনে কাজ করতে হয়। বিমানবন্দরের শত শত জরুরি কার্গো ব্যবস্থাপনা করতে হয়। সব ক্ষেত্রে মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। এভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকিতে কর্মরতদের কাজ করতে হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলেন, কাস্টমস আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে। চোরাচালান রোধে কাজ করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও যথাযোগ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই প্রণোদনার পরিপত্রে অন্য সংস্থার পাশাপাশি কাস্টম হাউজে কর্মরতদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবেচনা করা উচিত।

করোনাকালে জরুরি সেবা

সম্মুখ সারির যোদ্ধার স্বীকৃতি চায় কাস্টমস

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘লকডাউনে’ জরুরি সেবার আওতায় কাস্টমস খোলা। আর সেবা দিতে গিয়ে স্টেশনে কর্মরত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। মারাও যাচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি না থাকায় এজন্য বিশেষ কোনো সুবিধা তারা পাচ্ছেন না।

সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে আয়কর-কাস্টমসের ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন। সর্বশেষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে কমিশনার হোসাইন আহমেদ মারা গেছেন। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম ও একজন অতিরিক্ত কমিশনার। এমনকি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মধ্যেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

একাধিক কাস্টমস কমিশনার যুগান্তরকে বলেন, গত বছর লকডাউনে সবকিছু যখন বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখনও কাস্টমস কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। আমদানি-রপ্তানি গতিশীল রাখতে প্রতিদিনই রোস্টারমাফিক সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখা হয়। তখন অনেক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা আক্রান্ত হন, মারাও গেছেন। তারা কোনো সহায়তা পাননি। এখন আবার সংক্রমণ বাড়ায় আগের তুলনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্মকর্তাদের অফিস করাতে রাজি করানো যাচ্ছে না। কারণ একটাই, তা হলো, সবাই আগে জীবনের নিরাপত্তা চায়। সরকার পরিপত্র জারি করে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য প্রণোদনা দিলেও সেই তালিকায় কাস্টমসকে রাখা হয়নি। অথচ কাস্টমস দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

গত বছরের ২৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগ করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা ও মারা গেলে প্রণোদনার পরিপত্র জারি করে। সেই পরিপত্রে ক্ষতিপূরণের আওতায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীকে রাখা হয়। কিন্তু পরিপত্রে কাস্টমসকে না-রাখায় এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গা-ছাড়া ভাব কাজ করছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, ১ম-৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হলে ১০ লাখ টাকা ও মারা গেলে ৫০ লাখ টাকা, ১০-১৪তম গ্রেডের কর্মচারীরা আক্রান্ত হলে সাড়ে সাত লাখ টাকা ও মারা গেলে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা এবং ১৫-২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা আক্রান্ত হলে পাঁচ লাখ টাকা একং মারা গেলে ২৫ লাখ টাকা পাবেন।

নাম প্রকাশ না-করার শর্তে চট্টগ্রাম কাস্টমসে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা আতঙ্ক নিয়েই কাজ করছি। সরকার ঘোষিত ৫০ শতাংশ জনবল দিয়ে রোস্টার ভিত্তিতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিনই পণ্য খালাসের জন্য আমদানিকারক ও তাদের প্রতিনিধিরা হাউজে সশরীরে উপস্থিত হচ্ছেন। এতে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, কাস্টম হাউজে মানুষের সংস্পর্শে আসা ছাড়া কাজ করার সুযোগ নেই। আমদানিকারকের প্রতিনিধি-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অন্য সংস্থার মানুষজন মালামাল খালাসে আসছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মালামাল কায়িক পরীক্ষা করতে হয়। সরেজমিন তদারকি, প্রিভেনটিভ কার্যক্রম ও চোরাচালান দমন, রামেজিংয়ের জন্য গভীর সমুদ্রে বিদেশি জাহাজে গমন ও তল্লাশি করা, গেট ডিভিশন ঝুঁকিপূর্ণ কর্তব্য পালন এবং বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্যের দ্রুত খালাস করতে হয়। এতে কর্মরতরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ ছাড়া বিমানবন্দরগুলোয় প্রতিদিন শত শত বিদেশি যাত্রী হ্যান্ডলিং ও সুচারুভাবে পারাপার, যাত্রীসেবা দ্রুতকরণ, শুল্কযোগ্য পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন এবং চোরাচালান দমনে কাজ করতে হয়। বিমানবন্দরের শত শত জরুরি কার্গো ব্যবস্থাপনা করতে হয়। সব ক্ষেত্রে মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। এভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকিতে কর্মরতদের কাজ করতে হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলেন, কাস্টমস আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে। চোরাচালান রোধে কাজ করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও যথাযোগ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই প্রণোদনার পরিপত্রে অন্য সংস্থার পাশাপাশি কাস্টম হাউজে কর্মরতদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবেচনা করা উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন