আইসিইউ ও পিসিআর ল্যাবের জন্য হাহাকার
jugantor
পাবনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেহাল
আইসিইউ ও পিসিআর ল্যাবের জন্য হাহাকার

  আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রকোপের মুখে পাবনায় আইসিইউ এবং পিসিআর ল্যাবের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। গুরুতর রোগীকে আইসিইউর জন্য ঢাকা বা রাজশাহী স্থানান্তরের সময় রাস্তায়ই মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব না-থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং করোনার উপসর্গে চিকিৎসাধীনসহ তাদের স্বজনদের।

১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম পুরোনো জেলা পাবনায় এখনো স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। পাবনার এক সময়ের মহকুমা সিরাজগঞ্জে এবং পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলায় মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়েছে অনেক আগেই। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করার পর পাবনায় মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলেও এখনো হয়নি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালকে পাবনা মেডিকেল কলেজের আউট টিসিং হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এই হাসপাতালে নেই আধুনিক উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাব্যবস্থা। হৃদরোগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চলছে নামমাত্র। চিকিৎসক এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের মহাসংকট। নেই কোনো আইসিইউ শয্যা। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।

একজন চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হৃদরোগ বিভাগ। প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকছে নির্ধারিত শয্যার দ্বিগুণ। এজন্য এমনিতেই স্বাস্থ্যসেবায় এই দুরবস্থার মধ্যেই এই করোনাকালে পাবনার মানুষ সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাসহ সাধারণ অন্য যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলে নিকটবর্তী হওয়ায় প্রথমেই রোগীকে নেওয়া হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে নিয়েই স্বজনরা পড়েন বিপাকে। একদিকে নির্ধারিত রোগের নেই সুচিকিৎসা, সরঞ্জাম নেই, চিকিৎসক নেই-এমন নানান অজুহাত। আবার দিনের দ্বিতীয় হাফে বা দুপুরের পর যদি রোগী ভর্তি করা হয়, তাহলে দেখা যায় ইন্টার্ন ছাড়া কোনো চিকিৎসক নেই।

দীর্ঘদিন হাসপাতালে রাতে ওয়ার্ড ভিজিট হয় না। অনেক রোগী রাতে চিকিৎসা না-পেয়ে মারা যান। এদিকে এই দুরবস্থার মধ্যে করোনাকালে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইসিইউ না-থাকায় রোগীকে পাবনা থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা। কিন্তু মুমূর্ষু রোগীরা ঢাকা বা রাজশাহী পৌঁছানোর পথেই মারা যাচ্ছেন। সম্প্রতি পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনোয়ার হোসেন জাহেদী করোনায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে অব্যবস্থা দেখে স্বজনরা ঢাকায় নেওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসার পরপরই তিনি মারা যান। গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মহিবুল বাহার এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পাবনায় আইসিইউ না-থাকায় রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়ার পরপরই মারা যান। এদিকে সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া এবং রাজশাহীতে পিসিআর ল্যাব থাকলেও পাবনার মানুষের কপালে তা জোটেনি। সারা দেশে ২৫০টি পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা চালু থাকলেও পাবনায় এখনো পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হন এক হাজার ৭০০ জন। কিন্তু মার্চ মাস এবং ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হন ৩৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। কাগজে-কলমে পাঁচ বছর আগে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আইয়ুব হোসেন জানান, আশা করছি এক মাসের মধ্যেই এই ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। এদিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স পাবনা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগী চিকিৎসায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চার শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালুর চেষ্টা করা হবে।

পাবনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেহাল

আইসিইউ ও পিসিআর ল্যাবের জন্য হাহাকার

 আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রকোপের মুখে পাবনায় আইসিইউ এবং পিসিআর ল্যাবের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। গুরুতর রোগীকে আইসিইউর জন্য ঢাকা বা রাজশাহী স্থানান্তরের সময় রাস্তায়ই মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব না-থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং করোনার উপসর্গে চিকিৎসাধীনসহ তাদের স্বজনদের।

১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম পুরোনো জেলা পাবনায় এখনো স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। পাবনার এক সময়ের মহকুমা সিরাজগঞ্জে এবং পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলায় মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়েছে অনেক আগেই। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করার পর পাবনায় মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলেও এখনো হয়নি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালকে পাবনা মেডিকেল কলেজের আউট টিসিং হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এই হাসপাতালে নেই আধুনিক উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাব্যবস্থা। হৃদরোগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চলছে নামমাত্র। চিকিৎসক এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের মহাসংকট। নেই কোনো আইসিইউ শয্যা। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।

একজন চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হৃদরোগ বিভাগ। প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকছে নির্ধারিত শয্যার দ্বিগুণ। এজন্য এমনিতেই স্বাস্থ্যসেবায় এই দুরবস্থার মধ্যেই এই করোনাকালে পাবনার মানুষ সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাসহ সাধারণ অন্য যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলে নিকটবর্তী হওয়ায় প্রথমেই রোগীকে নেওয়া হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে নিয়েই স্বজনরা পড়েন বিপাকে। একদিকে নির্ধারিত রোগের নেই সুচিকিৎসা, সরঞ্জাম নেই, চিকিৎসক নেই-এমন নানান অজুহাত। আবার দিনের দ্বিতীয় হাফে বা দুপুরের পর যদি রোগী ভর্তি করা হয়, তাহলে দেখা যায় ইন্টার্ন ছাড়া কোনো চিকিৎসক নেই।

দীর্ঘদিন হাসপাতালে রাতে ওয়ার্ড ভিজিট হয় না। অনেক রোগী রাতে চিকিৎসা না-পেয়ে মারা যান। এদিকে এই দুরবস্থার মধ্যে করোনাকালে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইসিইউ না-থাকায় রোগীকে পাবনা থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা। কিন্তু মুমূর্ষু রোগীরা ঢাকা বা রাজশাহী পৌঁছানোর পথেই মারা যাচ্ছেন। সম্প্রতি পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনোয়ার হোসেন জাহেদী করোনায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে অব্যবস্থা দেখে স্বজনরা ঢাকায় নেওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসার পরপরই তিনি মারা যান। গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মহিবুল বাহার এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পাবনায় আইসিইউ না-থাকায় রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়ার পরপরই মারা যান। এদিকে সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া এবং রাজশাহীতে পিসিআর ল্যাব থাকলেও পাবনার মানুষের কপালে তা জোটেনি। সারা দেশে ২৫০টি পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা চালু থাকলেও পাবনায় এখনো পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হন এক হাজার ৭০০ জন। কিন্তু মার্চ মাস এবং ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হন ৩৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। কাগজে-কলমে পাঁচ বছর আগে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আইয়ুব হোসেন জানান, আশা করছি এক মাসের মধ্যেই এই ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। এদিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স পাবনা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগী চিকিৎসায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চার শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালুর চেষ্টা করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন