অভাবী মানুষের হাহাকার
jugantor
লকডাউন : চট্টগ্রামে ত্রাণ তৎপরতা নেই
অভাবী মানুষের হাহাকার

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়র, চট্টগ্রাম  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে ত্রাণ তৎপরতা নেই বললেই চলে। অথচ গত বছর এমন পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেওয়া নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। নগদ অর্থ থেকে শুরু করে চাল ডাল তেল চিনি পেঁয়াজসহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্য পৌঁছে গিয়েছিল হতদরিদ্র, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতি ব্যবসায়ী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয় হারানো মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনও বিভিন্ন সোর্স থেকে ত্রাণ নিয়ে হাজির হয় অসহায় মানুষের দ্বারে। এ কারণে প্রায় তিন মাস লকডাউন থাকার পরও মানুষের দুঃখ-কষ্ট খুব একটা আঁচ করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ত্রাণ সহায়তার চিত্র প্রতিদিন উঠে আসে। কিন্তু এবার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান লকডাউনে চট্টগ্রামে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের করুণ অবস্থা। লকডাউনে তারা কাজ হারিয়েছে। আয়-রোজগার বলতে কিছু নেই। চরম কষ্টে তারা দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। এদিকে লকডাউনের মেয়াদ ২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় আয়-রোজগার হারানো হাজার হাজার মানুষ চোখে শুধু অন্ধকার দেখছেন।

এবার ত্রাণ তৎপরতা কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, এ কারণে অভাবী ও কাজহারা মানুষের কষ্টও বেড়েছে। তবে এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ এসেছে। আগামী সপ্তাহে জেলার দরিদ্র ও অভাবী পরিবারগুলো ৫০০ টাকা করে পাবে। লকডাউনে কষ্টে পড়া মানুষের সহায়তায় সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য প্রশাসন তথা সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের শিল্পপতি ও বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীর ৩৫০ জন নরসুন্দর ও চর্মকারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

লকডাউনে চাকরি, কাজ ও ব্যবসা হারিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করছে পরিবহণ শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক, ডেইলি লেবার, কুলি-মজুর, সেলুন কর্মচারী, দোকান-কর্মচারী, ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক, বেসরকারি ক্ষুদ্র কোম্পানির চাকরিজীবী, কলকারখানার ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। এসব মানুষের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজখবর নিয়ে অসহায়ত্বের নানা চিত্র পাওয়া গেছে।

নগরীর লালদীঘি পাড়ের সাধু মিষ্টি ভান্ডারে দুই শিফটে চাকরি করেন অন্তত ৪২ জন বয়-বেয়াড়া। থাকা-খাওয়া ছাড়া দিনে আড়াইশ টাকা করে বেতন পেতেন প্রত্যেকে। এর বাইরে টিপস কিংবা বকশিশে প্রত্যেকেই দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা আয় করে মোটামুটি সংসার চালাতে পারত। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাদের চাকরি নেই। তাই কেউ কেউ রিকশা চালানো কিংবা তরি-তরকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। কিন্তু রাস্তায় লোকজন কম থাকায় আয় যা হচ্ছে তা একেবারেই কম। চট্টগ্রামের কয়েক লাখ হোটেল-রেস্টুরেন্ট কর্মচারীর সবার একই অবস্থা।

চট্টগ্রাম ওয়াসায় আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা এক যুবক চাকরি হারিয়ে বাসা ভাড়া দিতে পারছিলেন না। তাই পরিবারসহ তাকে বাসা থেকে রাতে বের করে দেন বাড়ির মালিক। এ কারণে রাস্তায় রাত কাটায় ৫ সদস্যের পরিবারটি। পরদিন পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিবারটি পুনরায় বাসায় ওঠে। পরিবারটি ওই বাসায় হয়তো আর কিছুদিন থাকতে পারবে। কিন্তু কাজ না থাকায় পরিবারটির সদস্যরা কী খেয়ে জীবন বাঁচাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রামে পরিবহণ শ্রমিক রয়েছে অন্তত ৮০ হাজার। গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকায় দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব শ্রমিক মারাত্মক অর্থকষ্টে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন ত্রাণ সহায়তার জন্য। নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোনো সহায়তার আশ্বাস পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গতবার লকডাউনের সময় আমরা সরকার এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র থেকে নিয়ে দেড় হাজার শ্রমিকের পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এবার প্রায় ১৪ দিন ধরে বিধিনিষেধ ও লকডাউনের কারণে পরিবহণ চলাচল বন্ধ। শ্রমিকদের পরিবার খুব কষ্টে আছে। ত্রাণের জন্য আমাদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। আমরা এক প্যাকেট ত্রাণ সহায়তাও একটি শ্রমিক পরিবারকেও করতে পারিনি।’

চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার টেরিবাজারে দেড় হাজার দোকানে অন্তত ১৫ হাজার কর্মচারী রয়েছে। লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসা নেই। তাই কর্মচারীও নেই। আসন্ন ঈদে ব্যবসা না হলে ব্যবসায়ী বা দোকান মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তেমনি দোকান-কর্মচারীরাও অর্থকষ্টে পড়বেন। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ক্ষুদ্র দোকান মালিক ও কর্মচারীরা ১৪ দিনের বিধিনিষেধ ও লকডাউনে চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। দোকান কর্মচারীদের ভাগ্যে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তাও জুটছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’

খাতুনগঞ্জে দৈনিক লেবার বা শ্রমিকরা লোড-আনলোডিংয়ের কাজ করে দিনে ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন। লকডাউনে এখানে আগের মতো ঢুকছে না পণ্যের ট্রাক। মোকাম থেকে আসছে না ক্রেতা। এ কারণে শ্রমিকরা প্রায় অলস বসে আছেন। দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা আয় করাও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। জামালখানে জুতা সেলাই তথা মুচির কাজ করেন বাদল নাথ। স্ত্রী ও পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে থাকেন ওই এলাকার একটি বস্তিতে। লকডাউনে অফিস-আদালত বন্ধ। প্রতিদিনের মতো বাক্সপ্যাটরা নিয়ে বসলে কোনো দিনে ২০-২৫ টাকার কাজ হয়। কোনো দিন এক টাকাও আয় হয় না। বাদল নাথের অভিযোগ, ‘গত বছর লকডাউনে জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীরা ত্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার কেউ ত্রাণ দিচ্ছে না। কোথাও ত্রাণ দিচ্ছে এমন খবরও পাচ্ছি না।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, গত বছর যেভাবে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছিল এবার সেরকমটি দেখা যাচ্ছে না। কারণ গত বছর টানা তিন মাসের লকডাউনসহ নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি অনেক ব্যবসায়ী। বড় ব্যবসায়ীরাও বড় ধাক্কা খেয়েছেন। অনেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। মূলত সে কারণেই এবার ত্রাণ তৎপরতা কম। তবে চেম্বারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যমতো ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে যেসব ব্যবসায়ীর সঙ্গতি আছে তাদের সাধ্যমতো অভাবগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

লকডাউন : চট্টগ্রামে ত্রাণ তৎপরতা নেই

অভাবী মানুষের হাহাকার

 শহীদুল্লাহ শাহরিয়র, চট্টগ্রাম 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে ত্রাণ তৎপরতা নেই বললেই চলে। অথচ গত বছর এমন পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেওয়া নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। নগদ অর্থ থেকে শুরু করে চাল ডাল তেল চিনি পেঁয়াজসহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্য পৌঁছে গিয়েছিল হতদরিদ্র, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতি ব্যবসায়ী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয় হারানো মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনও বিভিন্ন সোর্স থেকে ত্রাণ নিয়ে হাজির হয় অসহায় মানুষের দ্বারে। এ কারণে প্রায় তিন মাস লকডাউন থাকার পরও মানুষের দুঃখ-কষ্ট খুব একটা আঁচ করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ত্রাণ সহায়তার চিত্র প্রতিদিন উঠে আসে। কিন্তু এবার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান লকডাউনে চট্টগ্রামে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের করুণ অবস্থা। লকডাউনে তারা কাজ হারিয়েছে। আয়-রোজগার বলতে কিছু নেই। চরম কষ্টে তারা দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। এদিকে লকডাউনের মেয়াদ ২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় আয়-রোজগার হারানো হাজার হাজার মানুষ চোখে শুধু অন্ধকার দেখছেন।

এবার ত্রাণ তৎপরতা কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, এ কারণে অভাবী ও কাজহারা মানুষের কষ্টও বেড়েছে। তবে এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ এসেছে। আগামী সপ্তাহে জেলার দরিদ্র ও অভাবী পরিবারগুলো ৫০০ টাকা করে পাবে। লকডাউনে কষ্টে পড়া মানুষের সহায়তায় সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য প্রশাসন তথা সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের শিল্পপতি ও বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীর ৩৫০ জন নরসুন্দর ও চর্মকারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

লকডাউনে চাকরি, কাজ ও ব্যবসা হারিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করছে পরিবহণ শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক, ডেইলি লেবার, কুলি-মজুর, সেলুন কর্মচারী, দোকান-কর্মচারী, ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক, বেসরকারি ক্ষুদ্র কোম্পানির চাকরিজীবী, কলকারখানার ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। এসব মানুষের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজখবর নিয়ে অসহায়ত্বের নানা চিত্র পাওয়া গেছে।

নগরীর লালদীঘি পাড়ের সাধু মিষ্টি ভান্ডারে দুই শিফটে চাকরি করেন অন্তত ৪২ জন বয়-বেয়াড়া। থাকা-খাওয়া ছাড়া দিনে আড়াইশ টাকা করে বেতন পেতেন প্রত্যেকে। এর বাইরে টিপস কিংবা বকশিশে প্রত্যেকেই দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা আয় করে মোটামুটি সংসার চালাতে পারত। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাদের চাকরি নেই। তাই কেউ কেউ রিকশা চালানো কিংবা তরি-তরকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। কিন্তু রাস্তায় লোকজন কম থাকায় আয় যা হচ্ছে তা একেবারেই কম। চট্টগ্রামের কয়েক লাখ হোটেল-রেস্টুরেন্ট কর্মচারীর সবার একই অবস্থা।

চট্টগ্রাম ওয়াসায় আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা এক যুবক চাকরি হারিয়ে বাসা ভাড়া দিতে পারছিলেন না। তাই পরিবারসহ তাকে বাসা থেকে রাতে বের করে দেন বাড়ির মালিক। এ কারণে রাস্তায় রাত কাটায় ৫ সদস্যের পরিবারটি। পরদিন পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিবারটি পুনরায় বাসায় ওঠে। পরিবারটি ওই বাসায় হয়তো আর কিছুদিন থাকতে পারবে। কিন্তু কাজ না থাকায় পরিবারটির সদস্যরা কী খেয়ে জীবন বাঁচাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রামে পরিবহণ শ্রমিক রয়েছে অন্তত ৮০ হাজার। গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকায় দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব শ্রমিক মারাত্মক অর্থকষ্টে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন ত্রাণ সহায়তার জন্য। নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোনো সহায়তার আশ্বাস পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গতবার লকডাউনের সময় আমরা সরকার এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র থেকে নিয়ে দেড় হাজার শ্রমিকের পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এবার প্রায় ১৪ দিন ধরে বিধিনিষেধ ও লকডাউনের কারণে পরিবহণ চলাচল বন্ধ। শ্রমিকদের পরিবার খুব কষ্টে আছে। ত্রাণের জন্য আমাদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। আমরা এক প্যাকেট ত্রাণ সহায়তাও একটি শ্রমিক পরিবারকেও করতে পারিনি।’

চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার টেরিবাজারে দেড় হাজার দোকানে অন্তত ১৫ হাজার কর্মচারী রয়েছে। লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসা নেই। তাই কর্মচারীও নেই। আসন্ন ঈদে ব্যবসা না হলে ব্যবসায়ী বা দোকান মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তেমনি দোকান-কর্মচারীরাও অর্থকষ্টে পড়বেন। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ক্ষুদ্র দোকান মালিক ও কর্মচারীরা ১৪ দিনের বিধিনিষেধ ও লকডাউনে চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। দোকান কর্মচারীদের ভাগ্যে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তাও জুটছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’

খাতুনগঞ্জে দৈনিক লেবার বা শ্রমিকরা লোড-আনলোডিংয়ের কাজ করে দিনে ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন। লকডাউনে এখানে আগের মতো ঢুকছে না পণ্যের ট্রাক। মোকাম থেকে আসছে না ক্রেতা। এ কারণে শ্রমিকরা প্রায় অলস বসে আছেন। দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা আয় করাও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। জামালখানে জুতা সেলাই তথা মুচির কাজ করেন বাদল নাথ। স্ত্রী ও পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে থাকেন ওই এলাকার একটি বস্তিতে। লকডাউনে অফিস-আদালত বন্ধ। প্রতিদিনের মতো বাক্সপ্যাটরা নিয়ে বসলে কোনো দিনে ২০-২৫ টাকার কাজ হয়। কোনো দিন এক টাকাও আয় হয় না। বাদল নাথের অভিযোগ, ‘গত বছর লকডাউনে জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীরা ত্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার কেউ ত্রাণ দিচ্ছে না। কোথাও ত্রাণ দিচ্ছে এমন খবরও পাচ্ছি না।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, গত বছর যেভাবে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছিল এবার সেরকমটি দেখা যাচ্ছে না। কারণ গত বছর টানা তিন মাসের লকডাউনসহ নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি অনেক ব্যবসায়ী। বড় ব্যবসায়ীরাও বড় ধাক্কা খেয়েছেন। অনেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। মূলত সে কারণেই এবার ত্রাণ তৎপরতা কম। তবে চেম্বারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যমতো ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে যেসব ব্যবসায়ীর সঙ্গতি আছে তাদের সাধ্যমতো অভাবগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন