খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে আইসিইউ শয্যা
jugantor
করোনা চিকিৎসা
খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে আইসিইউ শয্যা
সাধারণ শয্যায়ও থাকছে অক্সিজেন সংযোগ

  খুলনা ব্যুরো  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় করোনা রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) শয্যা বাড়ানো এবং সব সাধারণ শয্যায় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আটটি আইসিইউ এখন রোগীতে পূর্ণ। এছাড়া হাসপাতালের ১শ সাধারণ বেডে রোগীর সংখ্যা থাকছে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন। বাকি বেড পূরণ হয়ে গেলে পরবর্তী রোগীর ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় কোনো ইউনিট তৈরি না হলেও আইসিইউয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, করোনার শুরুতে গত বছর খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে একশ বেডের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালু করা হলেও ডিসেম্বরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খুমেক হাসপাতাল অভ্যন্তরে আইসিইউ ভবনের নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে চলছে একশ বেডের করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম। যার মধ্যে আটটি রয়েছে আইসিইউ বেড। এছাড়া ৩৬টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সূত্র জানায়, করোনা ওয়ার্ডে দুর্ভোগ কমাতে ইউনিসেফের সহায়তায় নতুন করে আরও ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত হচ্ছে। একইসাথে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬টি থেকে শতভাগ হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় কোনো ইউনিট এই মুহূর্তে করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, করোনা ইউনিটের বেড সংখ্যা বাড়াতে গেলে শুধু বেড বা অক্সিজেন সরবরাহ করলেই হয় না। এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত আছে। ভেন্টিলেটর চালাতে গেলে এর সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ, মনিটর, সাকার মেশিন, বেড, সাইড ট্রলি, এসি ইত্যাদিসহ অন্তত ৭-৮ প্রকারের সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। খুমেক হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক কমিটির সমন্বয়কারী এবং খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আমরা এই মুহূর্তেই দ্বিতীয় ইউনিট তৈরি করছি না। তবে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। একই সাথে সামর্থ্য অনুয়ায়ী কিছু বেডের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া আমরা চেষ্টা করছি শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ স্থাপনের। তিনি বলেন, আইসিইউ শয্যার সংখ্যা কয়টি বাড়ানো হচ্ছে, সেটি নিদিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে ইউনিসেফের সহায়তায় ১০টি আইসিইউ শয্যাসহ মোট ২৫ থেকে ৩০টা শয্যা প্রস্তুত করা যেতে পারে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আশা করা যায় প্রস্তাবিত বর্ধিত আইসিইউ শয্যাসহ সব কার্যক্রম আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বেডসহ শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু হলে আগের তুলনায় রোগীর ভোগান্তি কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২৭ জনের। এর মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা চিকিৎসা

খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে আইসিইউ শয্যা

সাধারণ শয্যায়ও থাকছে অক্সিজেন সংযোগ
 খুলনা ব্যুরো 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় করোনা রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) শয্যা বাড়ানো এবং সব সাধারণ শয্যায় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আটটি আইসিইউ এখন রোগীতে পূর্ণ। এছাড়া হাসপাতালের ১শ সাধারণ বেডে রোগীর সংখ্যা থাকছে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন। বাকি বেড পূরণ হয়ে গেলে পরবর্তী রোগীর ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় কোনো ইউনিট তৈরি না হলেও আইসিইউয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, করোনার শুরুতে গত বছর খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে একশ বেডের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালু করা হলেও ডিসেম্বরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খুমেক হাসপাতাল অভ্যন্তরে আইসিইউ ভবনের নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে চলছে একশ বেডের করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম। যার মধ্যে আটটি রয়েছে আইসিইউ বেড। এছাড়া ৩৬টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সূত্র জানায়, করোনা ওয়ার্ডে দুর্ভোগ কমাতে ইউনিসেফের সহায়তায় নতুন করে আরও ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত হচ্ছে। একইসাথে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬টি থেকে শতভাগ হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় কোনো ইউনিট এই মুহূর্তে করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, করোনা ইউনিটের বেড সংখ্যা বাড়াতে গেলে শুধু বেড বা অক্সিজেন সরবরাহ করলেই হয় না। এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত আছে। ভেন্টিলেটর চালাতে গেলে এর সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ, মনিটর, সাকার মেশিন, বেড, সাইড ট্রলি, এসি ইত্যাদিসহ অন্তত ৭-৮ প্রকারের সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। খুমেক হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক কমিটির সমন্বয়কারী এবং খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আমরা এই মুহূর্তেই দ্বিতীয় ইউনিট তৈরি করছি না। তবে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। একই সাথে সামর্থ্য অনুয়ায়ী কিছু বেডের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া আমরা চেষ্টা করছি শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ স্থাপনের। তিনি বলেন, আইসিইউ শয্যার সংখ্যা কয়টি বাড়ানো হচ্ছে, সেটি নিদিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে ইউনিসেফের সহায়তায় ১০টি আইসিইউ শয্যাসহ মোট ২৫ থেকে ৩০টা শয্যা প্রস্তুত করা যেতে পারে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আশা করা যায় প্রস্তাবিত বর্ধিত আইসিইউ শয্যাসহ সব কার্যক্রম আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বেডসহ শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু হলে আগের তুলনায় রোগীর ভোগান্তি কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২৭ জনের। এর মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন