রেড জোনে রংপুর, ঝুঁকি বাড়ছে উদাসীনতায়
jugantor
১২ বছরে ২৪৩ বার ভূকম্পন
রেড জোনে রংপুর, ঝুঁকি বাড়ছে উদাসীনতায়

  মাহবুব রহমান, রংপুর  

২২ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর অঞ্চলকে ২৫ বছর আগে ভূমিকম্পের রেড জোন ঘোষণা করা হলেও উদাসীনতায় ঝুঁকি বাড়ছে। গত ১২ বছরে এ অঞ্চলে ২৪৩ বার ভূকম্পন হয়েছে। মাত্রা সাড়ে সাত পেরুলে রংপুর শহরসহ আশপাশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এতসবের পরও সর্বত্রই উদাসীনতা। বালাই নেই রংপুর নগরীতে বিল্ডিং কোড মানার, এসব না মেনেই উঠছে একের পর এক বহুতল ভবন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করা ছাড়াও ছলছে দাপ্তরিক কাজকর্মও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রেড জোন ঘোষণার পর রংপুর সিটি করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকাও করে। তালিকায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবন, সার্কিট হাউজসহ শহরের প্রায় ৪৭টি সরকারি স্থাপনা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিছুটা সংস্কার করে ওই সব ভবনে এখনও বসবাস করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা সাড়ে সাত পেরুলে এবং তা দেড় মিনিট স্থায়ী হলে রংপুর অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. সিফাত রুমানা বলেন, ‘সাধারণত বড় ধরনের ভূকম্পন হয়ে থাকে প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে। যদিও বাংলাদেশ প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে নেই। তবে ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও বিন্যাসের স্বকীয়তা বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বাংলাদেশকে ভূকম্পনের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন উত্তর-পূর্বাঞ্চল। বাংলাদেশের নিচে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রংপুর অঞ্চলে। অথচ এই অঞ্চলের আবহাওয়া অফিসেই নেই ভূমিকম্প পরিমাপক সিসমোমিটার।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, সিসমোমিটার স্থাপনে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের অক্টোবরে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যার ঘটনার পর সে কাজ থমকে আছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৯৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিলের ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। স্থায়িত্ব ছিল ২৫-৩০ সেকেন্ড। এতে মানুষ ভয়ে খোলা জায়গায় নেমে আসে। ঐ বছর আরও দুই দফায় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রংপুর। এছাড়া ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যে ভূমিকম্প হয় তার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। ২০১০ সালে দুই বার, ২০০৯ সালের আট চার, ২০০৭ সালে ২৫ বার এবং ২০০৮ সালে ৪০ বার ভূমিকম্প হয়েছে এই অঞ্চলে। সবশেষ এ বছরের গত ৬ এপ্রিল রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১, উৎপত্তিস্থল ভুটানের ছ্যামছি এলাকা।

রংপুর নগরীতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তা নির্ধারণে গত বছর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠক হয়। রংপুর সেনানিবাসের ওই বৈঠকে সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। বৈঠকে একটি সুপারিশ তৈরি করা হয়। পরে তা প্রস্তাব আকারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো। প্রস্তাবটি এখনও ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে বলে জানান রংপুর সিটি মেয়র।

সিটি করপোরেশন এলাকায় বহু পুরাতন জীর্ণ ভবন রয়েছে। এছাড়া বিল্ডিং কোড না মেনে বহু নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। রংপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ওহিদুল ইসলাম জানান, অগ্নিনির্বাপক আইন অনুযায়ী বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে কমপক্ষে দুটি সিঁড়ি, সামনে ৩০ ফুট রাস্তা, পিছনে ও পাশে ৫ ফুট করে জায়গা রাখার বিধান থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না। বহুতল ভবন নির্মাণের আগে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে তা মহাপরিচালক বরাবরে পাঠিয়ে নকশার অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও সেই বিধান মানা হচ্ছে না। তিনি জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। তবে ৮ মাত্রার ভূকম্পন হলে উদ্ধারে যেসব উপকরণ প্রয়োজন, এখনও তার সংকট রয়েছে।’

কথা হয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসকারী রমজান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাত্র চার থেকে পাঁচশ টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকি। আমাদের বলে দিয়েছে এখানে থাকা যাবে না। আমরা বলছি দায়িত্ব আমাদের। মাইদুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দাও জানালেন, ভূমিকম্প যখন হবে তখন দেখা যাবে কী হয়। অত ভয় করি চললে কী হবে।’ রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন রণি জানালেন, আইনি জটিলতার কারণে পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভাঙা যাচ্ছে না। শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা আমাদের হাতে। শত বছরের পুরাতন ভবনও রয়েছে। আমরা চিঠি পাঠিয়েছি মন্ত্রণালয়ে। অনুমতি পেলে সেগুলো ভেঙে ফেলা হবে।’ রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েই গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন। ভবন ভেঙে ফেলার জন্য যে যন্ত্রপাতি আছে, তা যথেষ্ট। কিন্তু সরকারের অনুমতি লাগবে। সেটি নেই। আমরা সেই নির্দেশনার অপেক্ষায়। ‘এসব ভবনের সামনে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছি। কেউ সেখানে থাকলে তার নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে, আমরা সেটা স্পষ্ট বলে দিয়েছি।’

বিল্ডিং কোড না মানা নিয়ে মেয়র বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা রয়েছে। যারা নতুন সুউচ্চ ভবন তৈরি করছে, তাদের প্ল্যান ঠিকঠাক না হলে আমরা পাশ করছি না। এ বিষয়ে নগর ভবন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ভবন মালিকরা সব অনুমোদন ঠিকঠাক মতো নিলেও, নির্মাণের সময় নিয়ম মানেন না। তবে আমাদের ও ফায়ার সার্ভিসের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার না থাকায় এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

১২ বছরে ২৪৩ বার ভূকম্পন

রেড জোনে রংপুর, ঝুঁকি বাড়ছে উদাসীনতায়

 মাহবুব রহমান, রংপুর 
২২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর অঞ্চলকে ২৫ বছর আগে ভূমিকম্পের রেড জোন ঘোষণা করা হলেও উদাসীনতায় ঝুঁকি বাড়ছে। গত ১২ বছরে এ অঞ্চলে ২৪৩ বার ভূকম্পন হয়েছে। মাত্রা সাড়ে সাত পেরুলে রংপুর শহরসহ আশপাশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এতসবের পরও সর্বত্রই উদাসীনতা। বালাই নেই রংপুর নগরীতে বিল্ডিং কোড মানার, এসব না মেনেই উঠছে একের পর এক বহুতল ভবন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করা ছাড়াও ছলছে দাপ্তরিক কাজকর্মও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রেড জোন ঘোষণার পর রংপুর সিটি করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকাও করে। তালিকায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবন, সার্কিট হাউজসহ শহরের প্রায় ৪৭টি সরকারি স্থাপনা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিছুটা সংস্কার করে ওই সব ভবনে এখনও বসবাস করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা সাড়ে সাত পেরুলে এবং তা দেড় মিনিট স্থায়ী হলে রংপুর অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. সিফাত রুমানা বলেন, ‘সাধারণত বড় ধরনের ভূকম্পন হয়ে থাকে প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে। যদিও বাংলাদেশ প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে নেই। তবে ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও বিন্যাসের স্বকীয়তা বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বাংলাদেশকে ভূকম্পনের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন উত্তর-পূর্বাঞ্চল। বাংলাদেশের নিচে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রংপুর অঞ্চলে। অথচ এই অঞ্চলের আবহাওয়া অফিসেই নেই ভূমিকম্প পরিমাপক সিসমোমিটার।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, সিসমোমিটার স্থাপনে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের অক্টোবরে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যার ঘটনার পর সে কাজ থমকে আছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৯৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিলের ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। স্থায়িত্ব ছিল ২৫-৩০ সেকেন্ড। এতে মানুষ ভয়ে খোলা জায়গায় নেমে আসে। ঐ বছর আরও দুই দফায় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রংপুর। এছাড়া ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যে ভূমিকম্প হয় তার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। ২০১০ সালে দুই বার, ২০০৯ সালের আট চার, ২০০৭ সালে ২৫ বার এবং ২০০৮ সালে ৪০ বার ভূমিকম্প হয়েছে এই অঞ্চলে। সবশেষ এ বছরের গত ৬ এপ্রিল রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১, উৎপত্তিস্থল ভুটানের ছ্যামছি এলাকা।

রংপুর নগরীতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তা নির্ধারণে গত বছর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠক হয়। রংপুর সেনানিবাসের ওই বৈঠকে সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। বৈঠকে একটি সুপারিশ তৈরি করা হয়। পরে তা প্রস্তাব আকারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো। প্রস্তাবটি এখনও ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে বলে জানান রংপুর সিটি মেয়র।

সিটি করপোরেশন এলাকায় বহু পুরাতন জীর্ণ ভবন রয়েছে। এছাড়া বিল্ডিং কোড না মেনে বহু নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। রংপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ওহিদুল ইসলাম জানান, অগ্নিনির্বাপক আইন অনুযায়ী বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে কমপক্ষে দুটি সিঁড়ি, সামনে ৩০ ফুট রাস্তা, পিছনে ও পাশে ৫ ফুট করে জায়গা রাখার বিধান থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না। বহুতল ভবন নির্মাণের আগে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে তা মহাপরিচালক বরাবরে পাঠিয়ে নকশার অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও সেই বিধান মানা হচ্ছে না। তিনি জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। তবে ৮ মাত্রার ভূকম্পন হলে উদ্ধারে যেসব উপকরণ প্রয়োজন, এখনও তার সংকট রয়েছে।’

কথা হয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসকারী রমজান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাত্র চার থেকে পাঁচশ টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকি। আমাদের বলে দিয়েছে এখানে থাকা যাবে না। আমরা বলছি দায়িত্ব আমাদের। মাইদুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দাও জানালেন, ভূমিকম্প যখন হবে তখন দেখা যাবে কী হয়। অত ভয় করি চললে কী হবে।’ রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন রণি জানালেন, আইনি জটিলতার কারণে পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভাঙা যাচ্ছে না। শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা আমাদের হাতে। শত বছরের পুরাতন ভবনও রয়েছে। আমরা চিঠি পাঠিয়েছি মন্ত্রণালয়ে। অনুমতি পেলে সেগুলো ভেঙে ফেলা হবে।’ রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েই গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন। ভবন ভেঙে ফেলার জন্য যে যন্ত্রপাতি আছে, তা যথেষ্ট। কিন্তু সরকারের অনুমতি লাগবে। সেটি নেই। আমরা সেই নির্দেশনার অপেক্ষায়। ‘এসব ভবনের সামনে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছি। কেউ সেখানে থাকলে তার নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে, আমরা সেটা স্পষ্ট বলে দিয়েছি।’

বিল্ডিং কোড না মানা নিয়ে মেয়র বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা রয়েছে। যারা নতুন সুউচ্চ ভবন তৈরি করছে, তাদের প্ল্যান ঠিকঠাক না হলে আমরা পাশ করছি না। এ বিষয়ে নগর ভবন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ভবন মালিকরা সব অনুমোদন ঠিকঠাক মতো নিলেও, নির্মাণের সময় নিয়ম মানেন না। তবে আমাদের ও ফায়ার সার্ভিসের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার না থাকায় এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন