বিপর্যয়ের মুখে পাবনার ‘মিনি গার্মেন্ট’ শিল্প
jugantor
বিপর্যয়ের মুখে পাবনার ‘মিনি গার্মেন্ট’ শিল্প

  আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় পাবনায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার সম্ভাবনাময় হোসিয়ারি ও মিনি গার্মেন্ট শিল্প। রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে এই শিল্পে। দাবি করা হচ্ছে পাবনাতেই এই শিল্পে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় সোয়া লাখ মানুষ এখন দুশ্চিন্তায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবনার সোয়াশ’ বছরের আদি হোসিয়ারি শিল্পের অস্তিত্ব হারানোর পর নতুন নামে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়ে ঘুরে দাঁড়ায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা। এতে মালিক-শ্রমিক পরিবারের কয়েক লাখ মানুষের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে নতুন করে এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তথ্য বলছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছিল এই ব্যবসায়ীরা। করোনার প্রকোপ কমে আসায় উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেন এবং উৎপাদন ও বাজারজাত ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউনের কারণে তাদের ব্যবসায় ছন্দপতন হয়।

পাবনা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারাস গ্রুপের চেয়ারম্যান বারিক হোসেন জনি বলেন, গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রথম দফা লকডাউন শুরু হলে তারা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেননি। ভেবেছিলেন, এক সপ্তাহের পর লকডাউন প্রত্যাহার হবে। কিন্তু দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হওয়ায় আশা শেষ হয়ে যায়। বায়াররা আসছেন না। ফয়সাল হোসিয়ারির মালিক ফয়সাল হোসেন জানান, উৎপাদন চলছিল এবং বাইরেও পণ্য যাচ্ছিল। গত ১২ এপ্রিল কয়েক গাড়ি মাল যায়। এরপর সব বন্ধ। এতে প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের। গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ওসাকা’র প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ বিশ্বাস রিপু জানান, পাবনার হোসিয়ারি ও মিনি গার্মেন্ট শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ৯০ ভাগই রপ্তানি হয় এবং এর প্রধান বাজার ভারত ও মালয়েশিয়া। কিন্তু করোনার কারণে রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ। ব্যবসায়ীরা জানান, মাল সরবরাহ না করায় বা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাকাও আদায় হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে মিনি গার্মেন্টস ও হোসিয়ারি শিল্পের ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৪ কোটি টাকা।

পাবনার হোসিয়ারি এবং তাঁত শিল্পের খ্যাতি ছিল জগতজোড়া। এই পণ্য সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপেও রপ্তানি হতো। কিন্তু ৫০ এর দশকে শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে এ শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসে। বেকার হয়ে পড়েন হাজার হাজার মালিক-শ্রমিক। কালের প্রবাহে গার্মেন্টসে অব্যবহৃত কাপড় বা ঝুট দিয়ে টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী তৈরির মাধ্যমে পাবনার ওই বিলুপ্ত হোসিয়ারি শিল্প আবার জেগে ওঠে। মিনি গার্মেন্টস নাম দেওয়া এই শিল্পের পণ্য ভারত এবং মালয়েশিয়া ছাড়াও বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। করোনার কারণে উৎপাদন ও বাজারজাত সব বন্ধ। পাবনা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারারার্স গ্রুপের সভাপতি বারিক হোসেন জনি জানান, এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া হোসিয়ারি শিল্পের যে উত্থান হয়েছিল তা হয়ত আবার ধসে যাবে। ইতিহাস বলছে, ব্রিটিশ সরকারের নির্যাতনে মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার বাসনা নিয়ে জমিদার রায় বাহাদুর এবং জিতেন্দ্রনাথ কবিরাজের উদ্যোগে পাবনার দিলালপুরে গড়ে তোলা হয় ওই শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর এটি ছিল পাবনা তথা এই উপমহাদেশের প্রথম হোসিয়ারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। মাত্র ১০ বছরে ১টি মাত্র হোসিয়ারি থেকে প্রায় ৬০০টি কারখানার জন্ম হয় পাবনা শহরে। পাশাপাশি পাবনার আরও একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প তাঁতেরও গোড়াপত্তন হয় ১৯১৮ সালে। অল্প দিনেই সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্যের বাজারও গড়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে ১৯১৮ থেকে ১৯৪৭ সাল ছিল পাবনার হোসিয়ারি শিল্পের যৌবনকাল। সে সময় পাবনার উৎপাদিত হোসিয়ারি ও তাঁতশিল্প পাবনার ঐতিহাসিক ইছামতি নদী দিয়ে শুধু কলকাতা নয়, পাকিস্তানসহ ইউরোপের অনেক দেশে রপ্তানি করা হতো। অর্থাৎ ব্রিটিশ আমল থেকেই এ জেলার হোসিয়ারি বা গেঞ্জি শিল্প পাবনার অর্থনীতির চাকাকে অত্যন্ত সচলভাবে ধরে রেখেছিল। ষাটের দশক পর্যন্ত এ শিল্প ভালোভাবেই চলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বড় ব্যবসায়ী আদম খানের পাবনার হোসিয়ারি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সুতার অভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প মালিকেরা ব্যবসা পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে থাকেন। ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে হোসিয়ারি শিল্প একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন পাবনা শহরের বলরামপুরের হোসিয়ারি ব্যবসায়ী সেলিম রেজা। তিনি জানান, স্বাধীনতাউত্তর অর্ধশতাধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ হোসিয়ারি কারখানা ছিল। যেখানে সুতা থেকে গেঞ্জি পাবনাতেই তৈরি হতো। এখন ওইসব স্বয়ংক্রিয় কারখানা একটিও নেই। ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ফুয়াদ বলেন, স্বাধীনতার পর রঙ ও সুতার দামসহ নানা সমস্যার কারণে অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারেননি। অনেকে আদি ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে যান। কেউ মারা যান। ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ায় চিনু সাহা, তার ভাই কানু সাহা, নিখিল সাহাসহ অনেক বিখ্যাত হিন্দু হোসিয়ারি ব্যবসায়ী ভারতে চলে যান। প্রথম পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের অন্যতম সাহান হোসিয়ারির মালিক তালেব মিয়াও এখানকার ব্যবসা গুটিয়ে চলে যান নারায়ণগঞ্জ। এভাবেই জেলার ঐতিহাসক হোসিয়ারি শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে।

এদিকে ’৮০-এর দশকের পর ঝুট কাপড় নতুন নামে জেলার হোসিয়ারি ব্যবসা শুরু হয়। এতে হোসিয়ারি শিল্পের তরুণ প্রজšে§র হাতেই রচিত হয় নতুন ইতিহাস। নিভে যাওয়া ঐতিহ্য থেকে এখন নতুন নতুন তরুণ ব্যবসায়ী এই মিনি গার্মেন্টস বা হোসিয়ারি শিল্পের হাল ধরেছেন। কিন্তু লকডাউনের মতো অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা নতুন করে ধ্বংসের মুখে পড়বেন।

বিপর্যয়ের মুখে পাবনার ‘মিনি গার্মেন্ট’ শিল্প

 আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় পাবনায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার সম্ভাবনাময় হোসিয়ারি ও মিনি গার্মেন্ট শিল্প। রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে এই শিল্পে। দাবি করা হচ্ছে পাবনাতেই এই শিল্পে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় সোয়া লাখ মানুষ এখন দুশ্চিন্তায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবনার সোয়াশ’ বছরের আদি হোসিয়ারি শিল্পের অস্তিত্ব হারানোর পর নতুন নামে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়ে ঘুরে দাঁড়ায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ীরা। এতে মালিক-শ্রমিক পরিবারের কয়েক লাখ মানুষের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে নতুন করে এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তথ্য বলছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছিল এই ব্যবসায়ীরা। করোনার প্রকোপ কমে আসায় উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেন এবং উৎপাদন ও বাজারজাত ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউনের কারণে তাদের ব্যবসায় ছন্দপতন হয়।

পাবনা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারাস গ্রুপের চেয়ারম্যান বারিক হোসেন জনি বলেন, গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রথম দফা লকডাউন শুরু হলে তারা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেননি। ভেবেছিলেন, এক সপ্তাহের পর লকডাউন প্রত্যাহার হবে। কিন্তু দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হওয়ায় আশা শেষ হয়ে যায়। বায়াররা আসছেন না। ফয়সাল হোসিয়ারির মালিক ফয়সাল হোসেন জানান, উৎপাদন চলছিল এবং বাইরেও পণ্য যাচ্ছিল। গত ১২ এপ্রিল কয়েক গাড়ি মাল যায়। এরপর সব বন্ধ। এতে প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের। গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ওসাকা’র প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ বিশ্বাস রিপু জানান, পাবনার হোসিয়ারি ও মিনি গার্মেন্ট শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ৯০ ভাগই রপ্তানি হয় এবং এর প্রধান বাজার ভারত ও মালয়েশিয়া। কিন্তু করোনার কারণে রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ। ব্যবসায়ীরা জানান, মাল সরবরাহ না করায় বা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাকাও আদায় হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে মিনি গার্মেন্টস ও হোসিয়ারি শিল্পের ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৪ কোটি টাকা।

পাবনার হোসিয়ারি এবং তাঁত শিল্পের খ্যাতি ছিল জগতজোড়া। এই পণ্য সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপেও রপ্তানি হতো। কিন্তু ৫০ এর দশকে শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে এ শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসে। বেকার হয়ে পড়েন হাজার হাজার মালিক-শ্রমিক। কালের প্রবাহে গার্মেন্টসে অব্যবহৃত কাপড় বা ঝুট দিয়ে টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী তৈরির মাধ্যমে পাবনার ওই বিলুপ্ত হোসিয়ারি শিল্প আবার জেগে ওঠে। মিনি গার্মেন্টস নাম দেওয়া এই শিল্পের পণ্য ভারত এবং মালয়েশিয়া ছাড়াও বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। করোনার কারণে উৎপাদন ও বাজারজাত সব বন্ধ। পাবনা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারারার্স গ্রুপের সভাপতি বারিক হোসেন জনি জানান, এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া হোসিয়ারি শিল্পের যে উত্থান হয়েছিল তা হয়ত আবার ধসে যাবে। ইতিহাস বলছে, ব্রিটিশ সরকারের নির্যাতনে মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার বাসনা নিয়ে জমিদার রায় বাহাদুর এবং জিতেন্দ্রনাথ কবিরাজের উদ্যোগে পাবনার দিলালপুরে গড়ে তোলা হয় ওই শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর এটি ছিল পাবনা তথা এই উপমহাদেশের প্রথম হোসিয়ারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। মাত্র ১০ বছরে ১টি মাত্র হোসিয়ারি থেকে প্রায় ৬০০টি কারখানার জন্ম হয় পাবনা শহরে। পাশাপাশি পাবনার আরও একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প তাঁতেরও গোড়াপত্তন হয় ১৯১৮ সালে। অল্প দিনেই সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্যের বাজারও গড়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে ১৯১৮ থেকে ১৯৪৭ সাল ছিল পাবনার হোসিয়ারি শিল্পের যৌবনকাল। সে সময় পাবনার উৎপাদিত হোসিয়ারি ও তাঁতশিল্প পাবনার ঐতিহাসিক ইছামতি নদী দিয়ে শুধু কলকাতা নয়, পাকিস্তানসহ ইউরোপের অনেক দেশে রপ্তানি করা হতো। অর্থাৎ ব্রিটিশ আমল থেকেই এ জেলার হোসিয়ারি বা গেঞ্জি শিল্প পাবনার অর্থনীতির চাকাকে অত্যন্ত সচলভাবে ধরে রেখেছিল। ষাটের দশক পর্যন্ত এ শিল্প ভালোভাবেই চলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বড় ব্যবসায়ী আদম খানের পাবনার হোসিয়ারি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সুতার অভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প মালিকেরা ব্যবসা পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে থাকেন। ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে হোসিয়ারি শিল্প একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন পাবনা শহরের বলরামপুরের হোসিয়ারি ব্যবসায়ী সেলিম রেজা। তিনি জানান, স্বাধীনতাউত্তর অর্ধশতাধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ হোসিয়ারি কারখানা ছিল। যেখানে সুতা থেকে গেঞ্জি পাবনাতেই তৈরি হতো। এখন ওইসব স্বয়ংক্রিয় কারখানা একটিও নেই। ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ফুয়াদ বলেন, স্বাধীনতার পর রঙ ও সুতার দামসহ নানা সমস্যার কারণে অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারেননি। অনেকে আদি ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে যান। কেউ মারা যান। ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ায় চিনু সাহা, তার ভাই কানু সাহা, নিখিল সাহাসহ অনেক বিখ্যাত হিন্দু হোসিয়ারি ব্যবসায়ী ভারতে চলে যান। প্রথম পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের অন্যতম সাহান হোসিয়ারির মালিক তালেব মিয়াও এখানকার ব্যবসা গুটিয়ে চলে যান নারায়ণগঞ্জ। এভাবেই জেলার ঐতিহাসক হোসিয়ারি শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে।

এদিকে ’৮০-এর দশকের পর ঝুট কাপড় নতুন নামে জেলার হোসিয়ারি ব্যবসা শুরু হয়। এতে হোসিয়ারি শিল্পের তরুণ প্রজšে§র হাতেই রচিত হয় নতুন ইতিহাস। নিভে যাওয়া ঐতিহ্য থেকে এখন নতুন নতুন তরুণ ব্যবসায়ী এই মিনি গার্মেন্টস বা হোসিয়ারি শিল্পের হাল ধরেছেন। কিন্তু লকডাউনের মতো অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা নতুন করে ধ্বংসের মুখে পড়বেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন