‘বকশিশে’ অতিষ্ঠ রোগী দেখার কেউ নেই
jugantor
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট
‘বকশিশে’ অতিষ্ঠ রোগী দেখার কেউ নেই

  ইমরান খান, শেকৃবি  

০৩ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদে পদে কর্মচারীদের বিশেষ সিন্ডিকেট সদস্যদের বকশিশ দিতে হয়। কোনো রোগী বা তার স্বজন বকশিশ না দিলে তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। এতে রীতিমতো অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিভিন্ন সময় রোগীরা এসব সিন্ডিকেটের হেনস্তার বিষয়ে অভিযোগ করলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এবার বকশিশ না দেওয়ায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এক ছাত্রী ও তার পরিবার। এ সময় মুঠোফোনে ভিডিও করলে ওই ছাত্রীর ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন হাবিব নামের এক কর্মচারী। বুধবার করোনা কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ২৬ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে বাবাকে হৃদরোগের সিসিইউ-১ এর বি-১৬নং বেডে ভর্তি করি। হাসপাতালের গেট দিয়ে ঢোকা থেকে শুরু করে হুইল চেয়ারে বাবাকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই কর্মচারীরা চা-নাস্তার নামে টাকা দাবি করেন। ২৮ এপ্রিল বাবাকে রিলিজ দেওয়া হলে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার নামে ৩ জন ওয়ার্ড কর্মচারী টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে আপত্তি জানালে হুট করে হাবিব নামের এক কর্মচারী এসে আমাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় আমি ফোনে ভিডিও করতে চাইলে তিনি মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন এবং গালাগাল করেন। ওই ছাত্রীর বন্ধু সাজেদুল বলেন, আমরা শেকৃবির স্টুডেন্ট পরিচয় দিলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

আমরা পরিচালকের কাছে জানাব বললে হাবিব বলেন, জাহান্নামে যা। বারবার বলতে থাকেন- যা যা, পারলে যা করার করিস। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী আরও বলেন, এর আগে ১০ মার্চ আমার মা হৃদরোগের সিসিইউতে মারা যান। তখনও গেটম্যান, কর্মচারীরা টাকার জন্য হয়রানি করেন। দুই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। অভিযুক্ত হাবিব বলেন, আমি এ ধরনের আচরণ করিনি। আমাদের এক স্টাফের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। ফোন ছুড়ে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করা হয়েছিল। মোবাইলে হাত দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে শেকৃবির প্রক্টর ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমরা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অনুপস্থিতিতে উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা লিখিত অভিযোগ জানাব। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, প্রথমত পরিচালককে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। আমাদের কাছে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেব। বহুদিন ধরে অসহায় রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে উল্লেখ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ জানালে আমরা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট

‘বকশিশে’ অতিষ্ঠ রোগী দেখার কেউ নেই

 ইমরান খান, শেকৃবি 
০৩ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদে পদে কর্মচারীদের বিশেষ সিন্ডিকেট সদস্যদের বকশিশ দিতে হয়। কোনো রোগী বা তার স্বজন বকশিশ না দিলে তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। এতে রীতিমতো অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিভিন্ন সময় রোগীরা এসব সিন্ডিকেটের হেনস্তার বিষয়ে অভিযোগ করলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এবার বকশিশ না দেওয়ায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এক ছাত্রী ও তার পরিবার। এ সময় মুঠোফোনে ভিডিও করলে ওই ছাত্রীর ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন হাবিব নামের এক কর্মচারী। বুধবার করোনা কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ২৬ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে বাবাকে হৃদরোগের সিসিইউ-১ এর বি-১৬নং বেডে ভর্তি করি। হাসপাতালের গেট দিয়ে ঢোকা থেকে শুরু করে হুইল চেয়ারে বাবাকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই কর্মচারীরা চা-নাস্তার নামে টাকা দাবি করেন। ২৮ এপ্রিল বাবাকে রিলিজ দেওয়া হলে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার নামে ৩ জন ওয়ার্ড কর্মচারী টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে আপত্তি জানালে হুট করে হাবিব নামের এক কর্মচারী এসে আমাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় আমি ফোনে ভিডিও করতে চাইলে তিনি মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন এবং গালাগাল করেন। ওই ছাত্রীর বন্ধু সাজেদুল বলেন, আমরা শেকৃবির স্টুডেন্ট পরিচয় দিলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

আমরা পরিচালকের কাছে জানাব বললে হাবিব বলেন, জাহান্নামে যা। বারবার বলতে থাকেন- যা যা, পারলে যা করার করিস। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী আরও বলেন, এর আগে ১০ মার্চ আমার মা হৃদরোগের সিসিইউতে মারা যান। তখনও গেটম্যান, কর্মচারীরা টাকার জন্য হয়রানি করেন। দুই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। অভিযুক্ত হাবিব বলেন, আমি এ ধরনের আচরণ করিনি। আমাদের এক স্টাফের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। ফোন ছুড়ে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করা হয়েছিল। মোবাইলে হাত দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে শেকৃবির প্রক্টর ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমরা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অনুপস্থিতিতে উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা লিখিত অভিযোগ জানাব। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, প্রথমত পরিচালককে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। আমাদের কাছে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেব। বহুদিন ধরে অসহায় রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে উল্লেখ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ জানালে আমরা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন