পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পের কাজ চলছে পুরোদমে
jugantor
পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পের কাজ চলছে পুরোদমে
সেতু উদ্বোধনের দিন ট্রেন চালাব, এটাই পাক্কা কথা -রেলপথমন্ত্রী

  শিপন হাবীব, মাওয়া থেকে ফিরে  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার সময়ও পুরোদমে চলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ। একই দিন পদ্মাসেতুতে সড়ক যান ও ট্রেন চালানো হবে, এমন প্রতিশ্রুতি আর চ্যালেঞ্জ রক্ষায় অতিরিক্ত শ্রমিক আর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। সঙ্গে ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রকল্পের মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী যুগান্তরকে জানান, পদ্মাসেতুর দুই পাশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ রাত দিন চলছে। সেতুর উভয় পাশে উড়াল রেলপথ সংযুক্ত হয়েছে। এখন পদ্মাসেতু থেকে অনুমতি পেলেই মূল সেতুই রেল স্লিপার বসানোর কাজ শুরু হবে। এ জন্য নদীতে ভারি যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তুলনার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ শ্রমিক দিন রাত কাজ করছে। সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেতু উদ্বোধনের দিন ট্রেন চালাবো, এটাই পাক্কা কথা। আশা করছি, আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হবে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ঢাকা হতে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কি.মি. ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাতীয় ও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এ রেলপথটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৩টি জেলায় প্রথম রেলসংযোগ স্থাপন করবে। ১৪.১০.২০১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের গ্রাউন্ড ব্রেকিং সানুগ্রহ উদ্বোধন করেন। এরপর হতে এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এ সেকশনে অবস্থিত ১২টি মেজর ব্রীজের মধ্যে ১১টি, ৬৯টি কালভার্টের মধ্যে ৬২টি, ২৭.২কি.মি. এমব্যাংকমেন্টের মধ্যে ১৮কি.মি. নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। সেতুর উভয় পার্শ্ব সংযোগের জন্য মাওয়া প্রান্তে ২.৫৮৯কি.মি. দীর্ঘ ভায়াডাক্ট-২ এবং জাজিরা প্রান্তে ৪.০৩১কি.মি. দীর্ঘ ভায়াডাক্ট-৩ অবস্থিত - যার কাজ প্রায় শেষের পথে। ৪টি স্টেশনের মধ্যে ৩টির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা সেকশনের সার্বিক অগ্রগতি ৬৬%। এ প্রকল্পের ঠিকাদার চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি) কোভিড মহামারীর প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরলস পরিশ্রম করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সিএসসি (কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট) এবং প্রকল্প দপ্তরের কর্মকর্তারা কাজের গুণগত মান তদারকি এবং প্রকল্পের সুষ্ঠু পরিচালনের জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর দিন হতে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে রেলপথ চালু করা সম্ভব হবে।

মাওয়া প্রান্তে ২.৫৮৯কি.মি. দীর্ঘ ভায়াডাক্ট-২ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় নভেম্বর ২০১৯ সালে। প্রায় ১ বছর ৫ মাসে ভায়াডাক্টের মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজের অগ্রগতি প্রায় ৯৬%। এ ভায়াডাক্টের ৪১১টি পাইল এবং ৮১২টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট নির্মাণ সমাপ্ত। ১টি এবাটমেন্ট, ৬৭টি পিয়ারের মধ্যে ৬৬টি এবং ৬৮টি স্প্যান এর মধ্যে ৬৫টি স্প্যান স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৬৩টি স্প্যানের প্যারাপেটওয়াল নির্মিত হয়েছে। বিবিএ এর চাহিদানুসারে পিয়ার নং ১৪ ও ১৫ এর ডিজাইন পরিবর্তন করতে হওয়ায় ওই দুটি পিয়ার নির্মাণ কাজ জুলাই ২০২১ এর মধ্যে শেষ হবে। গত ০৩.০৫.২০২১ তারিখে ভায়াডাক্ট-২ এর সাথে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টের সংযোগকারী স্প্যানটি স্থাপন করা হয়েছে। জুন ২০২১ হতে ভায়াডাক্ট-২ এর ওপরে ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক নির্মাণের কাজ শুরু হবে যা শেষ হতে প্রায় ৪-৫ মাস সময় লাগবে। ফলে ২০২১ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের সঙ্গে রেলপথ সংযুক্ত হবে।

সিআরইসি’র প্রতিনিধি ওয়্যাং কুন বলেন, ‘সিআরইসি অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ছিল প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশার অনুমোদন ও পেমেন্ট প্রদানে দেরি হওয়ার ফলে প্রকল্পের কাজে দেড় বছরের কালক্ষেপণ। পাশাপাশি আরও ছিল বৈশ্বিক মহামারি ও বন্যার ফলে সৃষ্ট প্রতিকূলতা। এরপর শুরু হয় পাইলিংয়ের কাজ। ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে বক্স গার্ডার নির্মাণ কাজের পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভায়াডাক্ট নির্মাণে সময় লেগেছে মাত্র দেড়বছর।’

শেষ স্প্যান বসানোর সময় রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ডি এন মজুমদার, অতিরিক্ত সচিব ও পিবিআরএলপি’র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন এ. চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্ট কনসোর্টিয়ামের চিফ কো-অর্ডিনেটর অফিসার (সিওও) মেজর জেনারেল জাহিদ এবং চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) প্রকল্প পরিচালক ওয়্যাং কুন সময় উপস্থিত ছিলেন

পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পের কাজ চলছে পুরোদমে

সেতু উদ্বোধনের দিন ট্রেন চালাব, এটাই পাক্কা কথা -রেলপথমন্ত্রী
 শিপন হাবীব, মাওয়া থেকে ফিরে 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার সময়ও পুরোদমে চলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ। একই দিন পদ্মাসেতুতে সড়ক যান ও ট্রেন চালানো হবে, এমন প্রতিশ্রুতি আর চ্যালেঞ্জ রক্ষায় অতিরিক্ত শ্রমিক আর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। সঙ্গে ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রকল্পের মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী যুগান্তরকে জানান, পদ্মাসেতুর দুই পাশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ রাত দিন চলছে। সেতুর উভয় পাশে উড়াল রেলপথ সংযুক্ত হয়েছে। এখন পদ্মাসেতু থেকে অনুমতি পেলেই মূল সেতুই রেল স্লিপার বসানোর কাজ শুরু হবে। এ জন্য নদীতে ভারি যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তুলনার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ শ্রমিক দিন রাত কাজ করছে। সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেতু উদ্বোধনের দিন ট্রেন চালাবো, এটাই পাক্কা কথা। আশা করছি, আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হবে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ঢাকা হতে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কি.মি. ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাতীয় ও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এ রেলপথটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৩টি জেলায় প্রথম রেলসংযোগ স্থাপন করবে। ১৪.১০.২০১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের গ্রাউন্ড ব্রেকিং সানুগ্রহ উদ্বোধন করেন। এরপর হতে এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এ সেকশনে অবস্থিত ১২টি মেজর ব্রীজের মধ্যে ১১টি, ৬৯টি কালভার্টের মধ্যে ৬২টি, ২৭.২কি.মি. এমব্যাংকমেন্টের মধ্যে ১৮কি.মি. নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। সেতুর উভয় পার্শ্ব সংযোগের জন্য মাওয়া প্রান্তে ২.৫৮৯কি.মি. দীর্ঘ ভায়াডাক্ট-২ এবং জাজিরা প্রান্তে ৪.০৩১কি.মি. দীর্ঘ ভায়াডাক্ট-৩ অবস্থিত - যার কাজ প্রায় শেষের পথে। ৪টি স্টেশনের মধ্যে ৩টির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা সেকশনের সার্বিক অগ্রগতি ৬৬%। এ প্রকল্পের ঠিকাদার চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি) কোভিড মহামারীর প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরলস পরিশ্রম করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সিএসসি (কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট) এবং প্রকল্প দপ্তরের কর্মকর্তারা কাজের গুণগত মান তদারকি এবং প্রকল্পের সুষ্ঠু পরিচালনের জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর দিন হতে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে রেলপথ চালু করা সম্ভব হবে।

মাওয়া প্রান্তে ২.৫৮৯কি.মি. দীর্ঘ ভায়াডাক্ট-২ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় নভেম্বর ২০১৯ সালে। প্রায় ১ বছর ৫ মাসে ভায়াডাক্টের মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজের অগ্রগতি প্রায় ৯৬%। এ ভায়াডাক্টের ৪১১টি পাইল এবং ৮১২টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট নির্মাণ সমাপ্ত। ১টি এবাটমেন্ট, ৬৭টি পিয়ারের মধ্যে ৬৬টি এবং ৬৮টি স্প্যান এর মধ্যে ৬৫টি স্প্যান স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৬৩টি স্প্যানের প্যারাপেটওয়াল নির্মিত হয়েছে। বিবিএ এর চাহিদানুসারে পিয়ার নং ১৪ ও ১৫ এর ডিজাইন পরিবর্তন করতে হওয়ায় ওই দুটি পিয়ার নির্মাণ কাজ জুলাই ২০২১ এর মধ্যে শেষ হবে। গত ০৩.০৫.২০২১ তারিখে ভায়াডাক্ট-২ এর সাথে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টের সংযোগকারী স্প্যানটি স্থাপন করা হয়েছে। জুন ২০২১ হতে ভায়াডাক্ট-২ এর ওপরে ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক নির্মাণের কাজ শুরু হবে যা শেষ হতে প্রায় ৪-৫ মাস সময় লাগবে। ফলে ২০২১ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের সঙ্গে রেলপথ সংযুক্ত হবে।

সিআরইসি’র প্রতিনিধি ওয়্যাং কুন বলেন, ‘সিআরইসি অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ছিল প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশার অনুমোদন ও পেমেন্ট প্রদানে দেরি হওয়ার ফলে প্রকল্পের কাজে দেড় বছরের কালক্ষেপণ। পাশাপাশি আরও ছিল বৈশ্বিক মহামারি ও বন্যার ফলে সৃষ্ট প্রতিকূলতা। এরপর শুরু হয় পাইলিংয়ের কাজ। ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে বক্স গার্ডার নির্মাণ কাজের পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভায়াডাক্ট নির্মাণে সময় লেগেছে মাত্র দেড়বছর।’

শেষ স্প্যান বসানোর সময় রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ডি এন মজুমদার, অতিরিক্ত সচিব ও পিবিআরএলপি’র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন এ. চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্ট কনসোর্টিয়ামের চিফ কো-অর্ডিনেটর অফিসার (সিওও) মেজর জেনারেল জাহিদ এবং চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) প্রকল্প পরিচালক ওয়্যাং কুন সময় উপস্থিত ছিলেন

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন