সরকারের সমালোচক দুস্থ সাংবাদিকের জন্যও সহায়তা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
jugantor
সরকারের সমালোচক দুস্থ সাংবাদিকের জন্যও সহায়তা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিক যদি দুস্থ হন, তার জন্যও কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা উন্মুক্ত। সাংবাদিকবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিকাশ নিশ্চিত করেছে ও তা অব্যাহত আছে।

রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী এ সময় তার উদ্যোগে রমজানের আগে দেওয়া করোনাকালীন বিশেষ বরাদ্দ দুই কোটি টাকা ঈদের আগে সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সচিব খাজা মিয়া বক্তব্য দেন। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা নজিরবিহীন। দেশের স্বার্থে, বহুমাত্রিক সমাজব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়া ও রাষ্ট্রের বিকাশের স্বার্থে এটি প্রয়োজন, সে বিশ্বাস নিয়েই আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, গণমাধ্যম নিয়ে নানা সমালোচনা করা হয়, কেউ কেউ বিবৃতি দেয় আবার কেউ কেউ জাতিসংঘের কাছে চিঠি লেখে। সেই চিঠি লেখা আর বিএনপির বিবৃতি আসলে একসূত্রে গাঁথা। এগুলো বৃহত্তর রাজনীতির একটা অংশ ছাড়া কিছু নয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, আমি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। করোনাকে পরাভূত করে তিনি আবার সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান, এটিই মহান স্রষ্টার কাছে আমার প্রার্থনা। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তার বক্তৃতায় সাংবাদিকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের একাগ্রতার কথা তুলে ধরেন। সচিব খাজা মিয়া এ আয়োজনের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানান। এদিন সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩০ জনের হাতে চেক হস্তান্তর করেন অতিথিরা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০০ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যকে দুই কোটি আট লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই গেজেটে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯৬ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা ২৩১ জনকে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকা ৩০৩ জনকে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা ৩৩৯ জনকে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ১৯৯ জনকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাকালীন বিশেষ অনুদান হিসাবে তিন হাজার ৩৩৫ জনকে ১০ হাজার করে তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর পর্যন্ত ট্রাস্ট থেকে চার হাজার ৬৪০ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারকে ১৪ কোটি সাত লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে সিডমানি হিসাবে জমা হয়েছে ৪৩ কোটি আট লাখ ২৭ হাজার ৮১ টাকা। এ ছাড়াও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাস্টকে ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন।

সরকারের সমালোচক দুস্থ সাংবাদিকের জন্যও সহায়তা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিক যদি দুস্থ হন, তার জন্যও কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা উন্মুক্ত। সাংবাদিকবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিকাশ নিশ্চিত করেছে ও তা অব্যাহত আছে।

রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী এ সময় তার উদ্যোগে রমজানের আগে দেওয়া করোনাকালীন বিশেষ বরাদ্দ দুই কোটি টাকা ঈদের আগে সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সচিব খাজা মিয়া বক্তব্য দেন। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা নজিরবিহীন। দেশের স্বার্থে, বহুমাত্রিক সমাজব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়া ও রাষ্ট্রের বিকাশের স্বার্থে এটি প্রয়োজন, সে বিশ্বাস নিয়েই আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, গণমাধ্যম নিয়ে নানা সমালোচনা করা হয়, কেউ কেউ বিবৃতি দেয় আবার কেউ কেউ জাতিসংঘের কাছে চিঠি লেখে। সেই চিঠি লেখা আর বিএনপির বিবৃতি আসলে একসূত্রে গাঁথা। এগুলো বৃহত্তর রাজনীতির একটা অংশ ছাড়া কিছু নয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, আমি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। করোনাকে পরাভূত করে তিনি আবার সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান, এটিই মহান স্রষ্টার কাছে আমার প্রার্থনা। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তার বক্তৃতায় সাংবাদিকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের একাগ্রতার কথা তুলে ধরেন। সচিব খাজা মিয়া এ আয়োজনের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানান। এদিন সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩০ জনের হাতে চেক হস্তান্তর করেন অতিথিরা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০০ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যকে দুই কোটি আট লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই গেজেটে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯৬ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারের সদস্যকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা ২৩১ জনকে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকা ৩০৩ জনকে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা ৩৩৯ জনকে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ১৯৯ জনকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাকালীন বিশেষ অনুদান হিসাবে তিন হাজার ৩৩৫ জনকে ১০ হাজার করে তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর পর্যন্ত ট্রাস্ট থেকে চার হাজার ৬৪০ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক পরিবারকে ১৪ কোটি সাত লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে সিডমানি হিসাবে জমা হয়েছে ৪৩ কোটি আট লাখ ২৭ হাজার ৮১ টাকা। এ ছাড়াও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাস্টকে ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন