পুলিশের ভুলে তছনছ সাজানো সংসার
jugantor
১৭ মাস পর কারামুক্ত নিরপরাধ সেই হাসিনা
পুলিশের ভুলে তছনছ সাজানো সংসার

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিরপরাধ হয়েও প্রায় ১৭ মাস অন্যের সাজা ভোগ করা সেই হাসিনা বেগমের (৪০) মুক্তি মিলেছে। তবে তছনছ হয়ে গেছে ভুক্তভোগী নারীর সংসার। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে হারিয়েছেন বসতবাড়িও। যাদের ভুলের কারণে দীর্ঘদিন জেলে থাকা, তাদের বিচার দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে হাসিনা বেগম এসব কথা বলেছেন।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক শরীফুল আলম ভূঞা হাসিনা বেগমের মুক্তির আদেশ দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় দীর্ঘদিন পর সন্তান শামীম নেওয়াজকে (১৬) পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই নারী। জেলগেটের সামনে হাসিনা বেগম বলেন, নামের একাংশ মিল থাকায় মাদক বহনের একটি মামলায় প্রায় সতেরো মাস জেল খেটেছেন তিনি। এই সময়ে জেল থেকে বের করতে তার সন্তান ৩০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিল বসতবাড়ি। সেই টাকা মামলার পেছনে খরচ করেও জেল থেকে বের হতে পারেননি; বরং বসতবাড়িটি এখন হাতছাড়া।

হাসিনা আরও বলেন, জেলের ভেতর কতটা কষ্ট পেয়েছি, তার কথা বাদই দিলাম। পুলিশের ভুলে আমার জীবন থেকে এতগুলো দিন চলে গেছে, সেই দিনগুলো কি ফেরত দিতে পারবেন? আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।

ছেলে শামীম নেওয়াজ বলেন, একটি ভুলে আমাদের জীবন-পরিবার এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার মা জেলে যাওয়ার পর আমার দিনমজুর বাবাও এলাকা ছেড়ে কোথায় চলে গেছেন জানি না। হারিয়েছি আমাদের বসতবাড়ি। আমার দুই বোন থাকেন নানুর বাড়িতে। বর্তমানে আমি শহরে একটি বাসায় কাজ করি।

শামীম নেওয়াজের কাছ থেকে তার মায়ের বিনা দোষে সাজা ভোগের বিষয়টি জানতে পারেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। এরপর তিনি ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার কাজ শুরু করেন।

গোলাম মাওলা মুরাদ মঙ্গলবার বলেন, শামীম নেওয়াজের কাছ থেকে সবকিছু শুনে ২২ মার্চ আদালতে আবেদন করি। এরপর আদালত টেকনাফ থানার পুলিশকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, প্রকৃত আসামি হাসিনা আক্তারের বদলে জেলে আছেন হাসিনা বেগম। তাদের স্বামীর নাম এক তবে অন্য তথ্যে পার্থক্য আছে। জেল কর্তৃপক্ষও একটি প্রতিবেদন দেয়। সবকিছু যাচাই-বাছাইয়ের পর আদালত হাসিনা বেগমকে মুক্তি দিয়েছেন।

মুরাদ বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবার আবেদন করব। হাসিনা বেগমের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েও আবেদন করা হবে। ইয়াবা বহনের মাদক মামলায় দণ্ডিত হাসিনা আক্তারের বদলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করেছিল টেকনাফ থানা পুলিশ। দুই নারীর স্বামীর নামই হামিদ হোসেন।

১৭ মাস পর কারামুক্ত নিরপরাধ সেই হাসিনা

পুলিশের ভুলে তছনছ সাজানো সংসার

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিরপরাধ হয়েও প্রায় ১৭ মাস অন্যের সাজা ভোগ করা সেই হাসিনা বেগমের (৪০) মুক্তি মিলেছে। তবে তছনছ হয়ে গেছে ভুক্তভোগী নারীর সংসার। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে হারিয়েছেন বসতবাড়িও। যাদের ভুলের কারণে দীর্ঘদিন জেলে থাকা, তাদের বিচার দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে হাসিনা বেগম এসব কথা বলেছেন।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক শরীফুল আলম ভূঞা হাসিনা বেগমের মুক্তির আদেশ দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় দীর্ঘদিন পর সন্তান শামীম নেওয়াজকে (১৬) পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই নারী। জেলগেটের সামনে হাসিনা বেগম বলেন, নামের একাংশ মিল থাকায় মাদক বহনের একটি মামলায় প্রায় সতেরো মাস জেল খেটেছেন তিনি। এই সময়ে জেল থেকে বের করতে তার সন্তান ৩০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিল বসতবাড়ি। সেই টাকা মামলার পেছনে খরচ করেও জেল থেকে বের হতে পারেননি; বরং বসতবাড়িটি এখন হাতছাড়া।

হাসিনা আরও বলেন, জেলের ভেতর কতটা কষ্ট পেয়েছি, তার কথা বাদই দিলাম। পুলিশের ভুলে আমার জীবন থেকে এতগুলো দিন চলে গেছে, সেই দিনগুলো কি ফেরত দিতে পারবেন? আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।

ছেলে শামীম নেওয়াজ বলেন, একটি ভুলে আমাদের জীবন-পরিবার এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার মা জেলে যাওয়ার পর আমার দিনমজুর বাবাও এলাকা ছেড়ে কোথায় চলে গেছেন জানি না। হারিয়েছি আমাদের বসতবাড়ি। আমার দুই বোন থাকেন নানুর বাড়িতে। বর্তমানে আমি শহরে একটি বাসায় কাজ করি।

শামীম নেওয়াজের কাছ থেকে তার মায়ের বিনা দোষে সাজা ভোগের বিষয়টি জানতে পারেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। এরপর তিনি ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার কাজ শুরু করেন।

গোলাম মাওলা মুরাদ মঙ্গলবার বলেন, শামীম নেওয়াজের কাছ থেকে সবকিছু শুনে ২২ মার্চ আদালতে আবেদন করি। এরপর আদালত টেকনাফ থানার পুলিশকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, প্রকৃত আসামি হাসিনা আক্তারের বদলে জেলে আছেন হাসিনা বেগম। তাদের স্বামীর নাম এক তবে অন্য তথ্যে পার্থক্য আছে। জেল কর্তৃপক্ষও একটি প্রতিবেদন দেয়। সবকিছু যাচাই-বাছাইয়ের পর আদালত হাসিনা বেগমকে মুক্তি দিয়েছেন।

মুরাদ বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবার আবেদন করব। হাসিনা বেগমের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েও আবেদন করা হবে। ইয়াবা বহনের মাদক মামলায় দণ্ডিত হাসিনা আক্তারের বদলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করেছিল টেকনাফ থানা পুলিশ। দুই নারীর স্বামীর নামই হামিদ হোসেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন