ছোট্ট মিমের কান্না থামছেই না
jugantor
শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনা
ছোট্ট মিমের কান্না থামছেই না

  খুলনা ব্যুরো  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘মা, আব্বা, তোমরা আমাকে কেন নিয়ে গেলে না, আমি এখন তোমাদের কোথায় পাব, আমি কার কাছে থাকব’- এমন কথা বলে অঝোরেই কাঁদছে ছোট্ট মিম। কান্না যেন তার থামছেই না। বাবা-মা ও ছোট দুই বোনকে হারানো মিমের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে আত্মীয়স্বজন। সোমবার মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় বাবা মনির শিকদার, মা হেনা বেগম ও দুই বোন সুমী ও রুমীকে হারিয়েছে শিশু মিম। মঙ্গলবার খুলনার তেরখাদার পারোখালীতে মিমের বাবা, মা ও দুই বোনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর-১১ মসজিদ মার্কেটে কাপড়ের দোকানদার মনির শিকদার মায়ের লাশ দেখতে তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে রওওনা হয়েছিলেন। মাকে আর দেখা হলো না। সপরিবারে তিনিও চলে গেলেন পরপারে। পদ্মা নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সংঘর্ষে মনিরসহ তার পরিবারের চারজন নিহত হয়। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যায় তার বড় মেয়ে ৯ বছরের মিম খাতুন।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার তেরখাদা সদর ইউনিয়নের পারোখালীতে চারজনের জানাজা শেষে মনিরের মা লাইলী বেগমের কবরের পাশে তাদের লাশ দাফন করা হয়। শিবচরে দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটে মা-বাবা ও বোনদের সঙ্গে শিশু মিমও ছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে। রোববার রাতে দাদি লাইলী বেগমকেও হারায় মিম। দাদির লাশ দেখতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে মিমরা দুর্ঘটনার শিকার হয়।

মিমের ছোট চাচা কামরুজ্জামান জানান, রোববার রাতে তাদের মা লাইলী বেগম (৯০) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন তিনি। আর সোমবার সেহরি সেরে ঢাকার মিরপুর থেকে তেরখাদায় বাড়ির উদ্দেশে তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ফিরছিলেন ভাই মনির শিকদার। পদ্মা নদীর শিবচরে মনিরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার ভাইপো মিরাজ শিকদারের। সেখানেই শেষ কথা হয়েছিল তাদের। মিরাজ তার নানিকে নিয়ে আগের স্পিডবোটে পদ্মা পেরিয়ে তেরখাদায় আসেন। পরে তারা জানতে পারেন বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটের ২৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন। কামরুজ্জামান আরও বলেন, মা-বাবা ও দুই বোনকে হারিয়ে শিশু মিম এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। জানাজার পর তাকে তেরখাদার পানতিতায় তার নানাবাড়ি রেখে এসেছি। কিন্তু তার কান্না আর থামছে না। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও নেই তাদের। মিম এখন কোথায় থাকবে, কীভাবে থাকবে, তার ভবিষ্যৎই বা কী? এ নিয়ে চিন্তিত তারা।

তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে মিমের জন্য এক লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিমের বিয়ের আগ পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনা

ছোট্ট মিমের কান্না থামছেই না

 খুলনা ব্যুরো 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘মা, আব্বা, তোমরা আমাকে কেন নিয়ে গেলে না, আমি এখন তোমাদের কোথায় পাব, আমি কার কাছে থাকব’- এমন কথা বলে অঝোরেই কাঁদছে ছোট্ট মিম। কান্না যেন তার থামছেই না। বাবা-মা ও ছোট দুই বোনকে হারানো মিমের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে আত্মীয়স্বজন। সোমবার মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় বাবা মনির শিকদার, মা হেনা বেগম ও দুই বোন সুমী ও রুমীকে হারিয়েছে শিশু মিম। মঙ্গলবার খুলনার তেরখাদার পারোখালীতে মিমের বাবা, মা ও দুই বোনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর-১১ মসজিদ মার্কেটে কাপড়ের দোকানদার মনির শিকদার মায়ের লাশ দেখতে তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে রওওনা হয়েছিলেন। মাকে আর দেখা হলো না। সপরিবারে তিনিও চলে গেলেন পরপারে। পদ্মা নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সংঘর্ষে মনিরসহ তার পরিবারের চারজন নিহত হয়। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যায় তার বড় মেয়ে ৯ বছরের মিম খাতুন।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার তেরখাদা সদর ইউনিয়নের পারোখালীতে চারজনের জানাজা শেষে মনিরের মা লাইলী বেগমের কবরের পাশে তাদের লাশ দাফন করা হয়। শিবচরে দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটে মা-বাবা ও বোনদের সঙ্গে শিশু মিমও ছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে। রোববার রাতে দাদি লাইলী বেগমকেও হারায় মিম। দাদির লাশ দেখতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে মিমরা দুর্ঘটনার শিকার হয়।

মিমের ছোট চাচা কামরুজ্জামান জানান, রোববার রাতে তাদের মা লাইলী বেগম (৯০) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন তিনি। আর সোমবার সেহরি সেরে ঢাকার মিরপুর থেকে তেরখাদায় বাড়ির উদ্দেশে তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ফিরছিলেন ভাই মনির শিকদার। পদ্মা নদীর শিবচরে মনিরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার ভাইপো মিরাজ শিকদারের। সেখানেই শেষ কথা হয়েছিল তাদের। মিরাজ তার নানিকে নিয়ে আগের স্পিডবোটে পদ্মা পেরিয়ে তেরখাদায় আসেন। পরে তারা জানতে পারেন বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটের ২৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন। কামরুজ্জামান আরও বলেন, মা-বাবা ও দুই বোনকে হারিয়ে শিশু মিম এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। জানাজার পর তাকে তেরখাদার পানতিতায় তার নানাবাড়ি রেখে এসেছি। কিন্তু তার কান্না আর থামছে না। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও নেই তাদের। মিম এখন কোথায় থাকবে, কীভাবে থাকবে, তার ভবিষ্যৎই বা কী? এ নিয়ে চিন্তিত তারা।

তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে মিমের জন্য এক লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিমের বিয়ের আগ পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন