লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন নারীসহ ১৬০ অভিবাসী
jugantor
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন নারীসহ ১৬০ অভিবাসী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৬০ অভিবাসী। অভিবাসীদের বহনকারী বিমানটি ৪ মে মঙ্গলবার লিবিয়ার বেনগাজি শহর থেকে ছেড়ে আসে এবং পরদিন বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রত্যাবাসীদের মধ্যে ১৫৯ জন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারি এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এই অভিবাসীরা লিবিয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিবাসীদের নিরাপদে দেশে ফিরতে সহায়তা করে। লিবিয়ায় মারা যাওয়া একজন বাংলাদেশির মরদেহও এই বিমানের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় মানবিক প্রত্যাবর্তন (ভিএইচআর) কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।

সংস্থাটি জানায়, লিবিয়া প্রস্থানের আগে প্রত্যাবর্তনকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কাউন্সেলিং পরিষেবা, যাতায়াত, স্ক্রিনিংসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয় আইওএম। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া হয়, করা হয় কোভিড-১৯ পরীক্ষা। ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তা এবং আইওএম বাংলাদেশের কর্মীরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসীদের গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরতে তাদের আর্থিক সহযোগিতা দেয় আইওএম। পাশাপাশি তাদেরকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। একজন অভিবাসী বলেন, লিবিয়ায় জীবন অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। কারণ, সেখানে অনেক প্রতিকূলতা ছিল। আমি পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করতে না-পারায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। ওখানে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। অনেক বছর পর পরিবারকে দেখতে পাব বলে খুবই আনন্দিত আমি।

আইওএম বাংলাদেশ-এর মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, বাংলাদেশি অভিবাসীরা লিবিয়ায় অসহায় অবস্থায় ছিলেন। কোভিড-১৯ তাদের বিপদাপন্নতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই অভিবাসীদের নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের সহযোগিতা করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এটি করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

আইওএমের স্বেচ্ছায় মানবিক প্রত্যাবর্তন (ভিএইচআর) প্রোগ্রামের আওতায় ২০১৫ সাল থেকে মোট দুই হাজার ৯৯২ জন বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। আইওএম জানায়, ভিএইচআর উদ্যোগটি অধিকারভিত্তিক এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক নীতি এবং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ, নিয়মিত এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করে। এ উদ্যোগটির প্রয়োজনীয়তা আরও বিস্তৃত হয় যখন ২০২০ সালে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে আক্রমণের শিকার হয়ে ৩০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন নারীসহ ১৬০ অভিবাসী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৬০ অভিবাসী। অভিবাসীদের বহনকারী বিমানটি ৪ মে মঙ্গলবার লিবিয়ার বেনগাজি শহর থেকে ছেড়ে আসে এবং পরদিন বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রত্যাবাসীদের মধ্যে ১৫৯ জন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারি এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এই অভিবাসীরা লিবিয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিবাসীদের নিরাপদে দেশে ফিরতে সহায়তা করে। লিবিয়ায় মারা যাওয়া একজন বাংলাদেশির মরদেহও এই বিমানের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় মানবিক প্রত্যাবর্তন (ভিএইচআর) কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।

সংস্থাটি জানায়, লিবিয়া প্রস্থানের আগে প্রত্যাবর্তনকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কাউন্সেলিং পরিষেবা, যাতায়াত, স্ক্রিনিংসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয় আইওএম। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া হয়, করা হয় কোভিড-১৯ পরীক্ষা। ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তা এবং আইওএম বাংলাদেশের কর্মীরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসীদের গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরতে তাদের আর্থিক সহযোগিতা দেয় আইওএম। পাশাপাশি তাদেরকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। একজন অভিবাসী বলেন, লিবিয়ায় জীবন অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। কারণ, সেখানে অনেক প্রতিকূলতা ছিল। আমি পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করতে না-পারায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। ওখানে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। অনেক বছর পর পরিবারকে দেখতে পাব বলে খুবই আনন্দিত আমি।

আইওএম বাংলাদেশ-এর মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, বাংলাদেশি অভিবাসীরা লিবিয়ায় অসহায় অবস্থায় ছিলেন। কোভিড-১৯ তাদের বিপদাপন্নতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই অভিবাসীদের নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের সহযোগিতা করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এটি করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

আইওএমের স্বেচ্ছায় মানবিক প্রত্যাবর্তন (ভিএইচআর) প্রোগ্রামের আওতায় ২০১৫ সাল থেকে মোট দুই হাজার ৯৯২ জন বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। আইওএম জানায়, ভিএইচআর উদ্যোগটি অধিকারভিত্তিক এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক নীতি এবং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ, নিয়মিত এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করে। এ উদ্যোগটির প্রয়োজনীয়তা আরও বিস্তৃত হয় যখন ২০২০ সালে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে আক্রমণের শিকার হয়ে ৩০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন