ছুটির দিনে লাপাত্তা সামাজিক দূরত্ব
jugantor
ঈদের কেনাকাটা
ছুটির দিনে লাপাত্তা সামাজিক দূরত্ব

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান করোনা মহামারিতে ক্রেতাদের ভিড়ে শারীরিক দূরত্ব এখন কাগুজে সরকারি আদেশে পরিণত হয়েছে। চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে আগামী বৃহস্পতি অথবা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই আজকালের মধ্যেই নগরীর বেশিরভাগ মানুষ শহর ছাড়বেন। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মানার সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা।

সীমিত আকারে লকডাউন থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ তা মানছেন না বললেই চলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। দ্বিতীয়বারের মতো ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হোক এটা চাইছেন না নগরবাসী। তাই চলছে কেনাকাটা আর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি। তবে আগের বছরের চেয়ে এবারের ঈদ বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম রাখার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা জানান, শেষ মুহূর্তে বেচাকেনার ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচাকেনা কম। যুগান্তরের ব্যুরো থেকে পাঠানো রিপোর্ট-

চট্টগ্রাম : সোমবার ছুটির দিন বেশিরভাগ মার্কেট-শপিং মল ছিল লোকে লোকারণ্য। ভিড়-ঠাসাঠাসির মধ্যে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ক্রেতারা মাস্ক পরে এলেও ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মার্কেটে কেনাকাটা করতে হচ্ছে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। এ কারণে নগরীর শপিং মল কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজট লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার পবিত্র শবে কদর উপলক্ষ্যে নগরীর বাসিন্দারা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকলেও সোমবার সরকারি ছুটির দিন ছুটেছেন মার্কেট-শপিং মলে। সোমবার নগরীর টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, ষোলশহরের চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স, চকবাজারের মতি টাওয়ার, বালি আর্কেড, আগ্রাবাদের আক্তারুজ্জামান সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, হকার্স মার্কেট ছিল ক্রেতায় ঠাসা। হকার্স মার্কেটের দুই প্রান্ত দিয়ে বানের পানির মতো ক্রেতারা প্রবেশ করছেন ও বের হচ্ছেন। এখানে ভিড় এতটাই বেশি যে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। একই অবস্থা টেরিবাজার এবং রিয়াজউদ্দিন বাজারেরও। এখানকার সরু গলিগুলো দিয়ে হাঁটাচলা করাই কঠিন হয়ে উঠেছে। হাত ধোয়া কিংবা স্যানিটাইজিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা হচ্ছে না। ষোলশহর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেট ও আফমি প্লাজা, জিইসি মোড়ের স্যানমার ওস্যান সিটি, নিউমার্কেট ছাড়াও দেশি দশ, অঞ্জনস, আড়ং, রঙ, দেশাল, সাদাকালো, নাগরদোলাসহ ফ্যাশন হাউজগুলোতে লেগেছিল ভিড়। রিয়াজুদ্দিন বাজারের শাহ আমানত ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, সোমবার ছুটির দিনে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচা-বিক্রি কম।

বরিশাল ব্যুরো : করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর বেশিরভাগ দোকানে ক্রেতা প্রবেশের সময় স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে না। গাদাগাদি করে ক্রেতারা মার্কেটে প্রবেশ করলেও মার্কেট কর্তৃপক্ষ তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। ভিড় সামলাতে না পারলেও সবাইকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। নিজের স্বার্থেই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের শর্তে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান-শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি উবে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় হচ্ছে নগরীর চকবাজার, কাঠপট্টি, হেমায়েত উদ্দিন রোডসহ সদর রোডের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শপিংমলগুলোতে। গরিবের ঈদ বাজার হিসাবে পরিচিত হাজী মহসিন হকার্স মাকেট, সিটি হকার্স মার্কেট এবং জেলা পরিষদ পুকুর পাড়ের খোলা উন্মুক্ত স্থানেও প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতাদের একাংশ মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেককে মাস্কবিহীন এবং শিশুদের নিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। চকবাজারের অভিজাত শাড়ি প্রতিষ্ঠান শাড়ি মিউজিয়ামের মালিক এমরাজ জানান, মাস্ক ছাড়া কাউকে দোকানে ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা। দোকানের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কেউ হাত ধোয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করতে বললেও অনেকে শুনছেন না।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম নিশাত ফারাবী বলেন, ঈদ বাজারে ভিড় সামলানো যাচ্ছে না। তবে সবাইকে মাস্ক পরাতে চেষ্টা করছেন তারা। অনিয়ম হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট : করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও ঈদবাজারে ব্যবসায়ী কিংবা ক্রেতা কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মানুষের অতিরিক্ত চাপে শারীরিক দূরত্ব কোনোভাবেই মানা সম্ভব হচ্ছে না। মাস্ক ব্যবহারেও অনেকের আগ্রহ নেই। বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার কথা থাকলেও মুখের বদলে তা ঝুলানো হচ্ছে থুঁতনিতে। সরকার নির্ধারিত সময়ও মানছেন না ক্রেতা-ব্যবসায়ীরা। নগরীর ব্লু-ওয়াটার, শুকরিয়া মার্কেট, আল হামরা, কাকলী শপিং সিটি, মিলিনিয়াম মার্কেট, সিটি সেন্টার, ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড, সিলেট প্লাজা, মধুবন মার্কেট, লতিফ সেন্টার, হাসান মার্কেটে ভিড়। জিন্দাবাজার এলাকার নারীদের নিত্যদিনের ব্যবহারের পোশাক, কসমেটিকস কিংবা ন্যায্যমূল্যের কাপড়ের জন্য ফেডারেল ট্রেড সেন্টার কিংবা শ্যামলী মার্কেটগুলোতে নারীদের ভিড়ই বেশি দেখা গেছে।

তবে সম্প্রতি শুক্রিয়া মার্কেটে প্রশাসনের অভিযানের পর এখন কিছুটা সতর্ক সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ৫ মে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেটের তিনটি দোকানকে জরিমানা করেন জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মার্কেটের ভিতর থেকে ক্রেতাদের বের করে দিয়ে মার্কেট বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এরপর থেকে সিলেটের সব মার্কেটের সামনে অতিরিক্ত সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো মার্কেটের সামনে টানানো হয়েছে ট্যানেল। আবার কোথাও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে ক্রেতাদের প্রবেশ করানো হচ্ছে ভেতরে।

ঈদের কেনাকাটা

ছুটির দিনে লাপাত্তা সামাজিক দূরত্ব

 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান করোনা মহামারিতে ক্রেতাদের ভিড়ে শারীরিক দূরত্ব এখন কাগুজে সরকারি আদেশে পরিণত হয়েছে। চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে আগামী বৃহস্পতি অথবা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই আজকালের মধ্যেই নগরীর বেশিরভাগ মানুষ শহর ছাড়বেন। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মানার সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা।

সীমিত আকারে লকডাউন থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ তা মানছেন না বললেই চলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। দ্বিতীয়বারের মতো ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হোক এটা চাইছেন না নগরবাসী। তাই চলছে কেনাকাটা আর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি। তবে আগের বছরের চেয়ে এবারের ঈদ বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম রাখার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা জানান, শেষ মুহূর্তে বেচাকেনার ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচাকেনা কম। যুগান্তরের ব্যুরো থেকে পাঠানো রিপোর্ট-

চট্টগ্রাম : সোমবার ছুটির দিন বেশিরভাগ মার্কেট-শপিং মল ছিল লোকে লোকারণ্য। ভিড়-ঠাসাঠাসির মধ্যে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ক্রেতারা মাস্ক পরে এলেও ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মার্কেটে কেনাকাটা করতে হচ্ছে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। এ কারণে নগরীর শপিং মল কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজট লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার পবিত্র শবে কদর উপলক্ষ্যে নগরীর বাসিন্দারা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকলেও সোমবার সরকারি ছুটির দিন ছুটেছেন মার্কেট-শপিং মলে। সোমবার নগরীর টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, ষোলশহরের চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স, চকবাজারের মতি টাওয়ার, বালি আর্কেড, আগ্রাবাদের আক্তারুজ্জামান সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, হকার্স মার্কেট ছিল ক্রেতায় ঠাসা। হকার্স মার্কেটের দুই প্রান্ত দিয়ে বানের পানির মতো ক্রেতারা প্রবেশ করছেন ও বের হচ্ছেন। এখানে ভিড় এতটাই বেশি যে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। একই অবস্থা টেরিবাজার এবং রিয়াজউদ্দিন বাজারেরও। এখানকার সরু গলিগুলো দিয়ে হাঁটাচলা করাই কঠিন হয়ে উঠেছে। হাত ধোয়া কিংবা স্যানিটাইজিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা হচ্ছে না। ষোলশহর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেট ও আফমি প্লাজা, জিইসি মোড়ের স্যানমার ওস্যান সিটি, নিউমার্কেট ছাড়াও দেশি দশ, অঞ্জনস, আড়ং, রঙ, দেশাল, সাদাকালো, নাগরদোলাসহ ফ্যাশন হাউজগুলোতে লেগেছিল ভিড়। রিয়াজুদ্দিন বাজারের শাহ আমানত ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, সোমবার ছুটির দিনে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচা-বিক্রি কম।

বরিশাল ব্যুরো : করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর বেশিরভাগ দোকানে ক্রেতা প্রবেশের সময় স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে না। গাদাগাদি করে ক্রেতারা মার্কেটে প্রবেশ করলেও মার্কেট কর্তৃপক্ষ তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। ভিড় সামলাতে না পারলেও সবাইকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। নিজের স্বার্থেই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের শর্তে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান-শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি উবে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় হচ্ছে নগরীর চকবাজার, কাঠপট্টি, হেমায়েত উদ্দিন রোডসহ সদর রোডের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শপিংমলগুলোতে। গরিবের ঈদ বাজার হিসাবে পরিচিত হাজী মহসিন হকার্স মাকেট, সিটি হকার্স মার্কেট এবং জেলা পরিষদ পুকুর পাড়ের খোলা উন্মুক্ত স্থানেও প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতাদের একাংশ মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেককে মাস্কবিহীন এবং শিশুদের নিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। চকবাজারের অভিজাত শাড়ি প্রতিষ্ঠান শাড়ি মিউজিয়ামের মালিক এমরাজ জানান, মাস্ক ছাড়া কাউকে দোকানে ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা। দোকানের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কেউ হাত ধোয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করতে বললেও অনেকে শুনছেন না।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম নিশাত ফারাবী বলেন, ঈদ বাজারে ভিড় সামলানো যাচ্ছে না। তবে সবাইকে মাস্ক পরাতে চেষ্টা করছেন তারা। অনিয়ম হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট : করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও ঈদবাজারে ব্যবসায়ী কিংবা ক্রেতা কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মানুষের অতিরিক্ত চাপে শারীরিক দূরত্ব কোনোভাবেই মানা সম্ভব হচ্ছে না। মাস্ক ব্যবহারেও অনেকের আগ্রহ নেই। বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার কথা থাকলেও মুখের বদলে তা ঝুলানো হচ্ছে থুঁতনিতে। সরকার নির্ধারিত সময়ও মানছেন না ক্রেতা-ব্যবসায়ীরা। নগরীর ব্লু-ওয়াটার, শুকরিয়া মার্কেট, আল হামরা, কাকলী শপিং সিটি, মিলিনিয়াম মার্কেট, সিটি সেন্টার, ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড, সিলেট প্লাজা, মধুবন মার্কেট, লতিফ সেন্টার, হাসান মার্কেটে ভিড়। জিন্দাবাজার এলাকার নারীদের নিত্যদিনের ব্যবহারের পোশাক, কসমেটিকস কিংবা ন্যায্যমূল্যের কাপড়ের জন্য ফেডারেল ট্রেড সেন্টার কিংবা শ্যামলী মার্কেটগুলোতে নারীদের ভিড়ই বেশি দেখা গেছে।

তবে সম্প্রতি শুক্রিয়া মার্কেটে প্রশাসনের অভিযানের পর এখন কিছুটা সতর্ক সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ৫ মে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেটের তিনটি দোকানকে জরিমানা করেন জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মার্কেটের ভিতর থেকে ক্রেতাদের বের করে দিয়ে মার্কেট বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এরপর থেকে সিলেটের সব মার্কেটের সামনে অতিরিক্ত সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো মার্কেটের সামনে টানানো হয়েছে ট্যানেল। আবার কোথাও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে ক্রেতাদের প্রবেশ করানো হচ্ছে ভেতরে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন