এবারো গম দিতে পারছেন না চাষিরা
jugantor
গুদামে ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য
এবারো গম দিতে পারছেন না চাষিরা

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবারও কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি গম কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও দালাল ফড়িয়ারাই সরকারি গুদামে দিচ্ছেন গম। অনেক এলাকায় কৃষকরা জানেনই না গম কেনা হচ্ছে সরকারি গুদামে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি গুদাম ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ফড়িয়া দালালদের সম্পর্ক গভীর। এতে কৃষকের নামে গম কিনে গুদাম ভরা হচ্ছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর গুদাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকার গম চাষিরা এ অভিযোগ করেছেন। চাষিরা বলছেন, সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্য সংগ্রহের চিত্র একটুও বদলায়নি। দালাল ফড়িয়ারাই সব করছেন।

এদিকে, গুদামে পৌঁছানোর পথে রোববার রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৪০০ বস্তা গম আটক করা হয়েছে। গমের বস্তায় লেখা রয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। গমের পরিমাণ ৫০০ মণ। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজশাহীর কাকনহাট খাদ্য গুদাম থেকেই এসব বস্তা সরবরাহ করা হয়।

গোদাগাড়ী থানার ওসি খলিলুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে গোদাগাড়ীর কাকনহাটের রসুলপুরে অভিযান চালায় পুলিশ। এসব গম নিয়ে যাচ্ছিলেন রসুলপুর গ্রামের ফড়িয়া সিন্ডিকেটের মূল হোতা আতাউর রহমান ওরফে আতা। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গম বোঝাই ট্রলি আটক করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে আতাউর রহমান আতাসহ আরও কয়েকজন ফড়িয়াকে আসামি করে গোদাগাড়ী থানায় মামলা করেছে। আতাউর রহমান আতা পলাতক রয়েছেন।

রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারি বলেন, গোদাগাড়ীতে ৪০০ বস্তা গম আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল উদ্দিনের দাবি গমের বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তর লেখা থাকলেও এসব গম কোথায় কে নিয়ে যাচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই তারা গোদাগাড়ীর দুটি খাদ্য গুদামে ধান-গম বিক্রি করতে পারেন না ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য। ফড়িয়াদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সখ্য রয়েছে। যদিও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পবা বাগমারা ও মোহনপুরে গম চাষিদের অভিযোগ, স্থানীয় খাদ্য গুদামে ফড়িয়ারাই গম দিচ্ছে। আমদানি করা অথবা দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকা নিুমানের গম ২৮ টাকা কেজি দরে দেওয়া হচ্ছে গুদামে। যদিও চাষিদের দাবি খোলাবাজারে গমের কেজি ২৬ থেকে ২৭ টাকা। এ কারণে অনেক চাষি ঝামেলা এড়াতে গুদামে গম দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারপরও যেসব চাষির উদ্বৃত্ত গম আছে তারা খাদ্য গুদামে দিতে চায়।

উল্লেখ্য, সরকার চলতি মৌসুমে সারা দেশে ১ লাখ টন গম কেনার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে তার মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৮৮ টনই কেনা হচ্ছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা থেকে। আর সর্বাধিক ৩৮ হাজার ৫২২ টন কেনা হচ্ছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায়। দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১৫ হাজার ৭৬৫ টন গম কেনা হচ্ছে উত্তরের সবচেয়ে ছোট জেলা ঠাকুরগাঁও থেকে। খাদ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ টন গম উৎপাদিত হয়েছে এই জেলায়।

জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গুদামে ১ এপ্রিল থেকে গম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। রাজশাহী বিভাগে ৩৮ হাজার ৫২২ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ মে পর্যন্ত ১২ হাজার ১৫০ টন ও রংপুর বিভাগের ২৮ হাজার ৩৬৬ টনের বিপরীতে ৯ হাজার ২৩৪ টন গম কেনা হয়েছে। আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে এবার ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ টন গম উৎপাদিত হয়েছে। তার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে গম হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ১৭৯ টন। ৩০ জুনের মধ্যে গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

গুদামে ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য

এবারো গম দিতে পারছেন না চাষিরা

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবারও কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি গম কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও দালাল ফড়িয়ারাই সরকারি গুদামে দিচ্ছেন গম। অনেক এলাকায় কৃষকরা জানেনই না গম কেনা হচ্ছে সরকারি গুদামে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি গুদাম ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ফড়িয়া দালালদের সম্পর্ক গভীর। এতে কৃষকের নামে গম কিনে গুদাম ভরা হচ্ছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর গুদাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকার গম চাষিরা এ অভিযোগ করেছেন। চাষিরা বলছেন, সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্য সংগ্রহের চিত্র একটুও বদলায়নি। দালাল ফড়িয়ারাই সব করছেন।

এদিকে, গুদামে পৌঁছানোর পথে রোববার রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৪০০ বস্তা গম আটক করা হয়েছে। গমের বস্তায় লেখা রয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। গমের পরিমাণ ৫০০ মণ। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজশাহীর কাকনহাট খাদ্য গুদাম থেকেই এসব বস্তা সরবরাহ করা হয়।

গোদাগাড়ী থানার ওসি খলিলুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে গোদাগাড়ীর কাকনহাটের রসুলপুরে অভিযান চালায় পুলিশ। এসব গম নিয়ে যাচ্ছিলেন রসুলপুর গ্রামের ফড়িয়া সিন্ডিকেটের মূল হোতা আতাউর রহমান ওরফে আতা। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গম বোঝাই ট্রলি আটক করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে আতাউর রহমান আতাসহ আরও কয়েকজন ফড়িয়াকে আসামি করে গোদাগাড়ী থানায় মামলা করেছে। আতাউর রহমান আতা পলাতক রয়েছেন।

রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারি বলেন, গোদাগাড়ীতে ৪০০ বস্তা গম আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল উদ্দিনের দাবি গমের বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তর লেখা থাকলেও এসব গম কোথায় কে নিয়ে যাচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই তারা গোদাগাড়ীর দুটি খাদ্য গুদামে ধান-গম বিক্রি করতে পারেন না ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য। ফড়িয়াদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সখ্য রয়েছে। যদিও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পবা বাগমারা ও মোহনপুরে গম চাষিদের অভিযোগ, স্থানীয় খাদ্য গুদামে ফড়িয়ারাই গম দিচ্ছে। আমদানি করা অথবা দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকা নিুমানের গম ২৮ টাকা কেজি দরে দেওয়া হচ্ছে গুদামে। যদিও চাষিদের দাবি খোলাবাজারে গমের কেজি ২৬ থেকে ২৭ টাকা। এ কারণে অনেক চাষি ঝামেলা এড়াতে গুদামে গম দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারপরও যেসব চাষির উদ্বৃত্ত গম আছে তারা খাদ্য গুদামে দিতে চায়।

উল্লেখ্য, সরকার চলতি মৌসুমে সারা দেশে ১ লাখ টন গম কেনার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে তার মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৮৮ টনই কেনা হচ্ছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা থেকে। আর সর্বাধিক ৩৮ হাজার ৫২২ টন কেনা হচ্ছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায়। দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১৫ হাজার ৭৬৫ টন গম কেনা হচ্ছে উত্তরের সবচেয়ে ছোট জেলা ঠাকুরগাঁও থেকে। খাদ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ টন গম উৎপাদিত হয়েছে এই জেলায়।

জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গুদামে ১ এপ্রিল থেকে গম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। রাজশাহী বিভাগে ৩৮ হাজার ৫২২ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ মে পর্যন্ত ১২ হাজার ১৫০ টন ও রংপুর বিভাগের ২৮ হাজার ৩৬৬ টনের বিপরীতে ৯ হাজার ২৩৪ টন গম কেনা হয়েছে। আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে এবার ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ টন গম উৎপাদিত হয়েছে। তার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে গম হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ১৭৯ টন। ৩০ জুনের মধ্যে গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন