বেতন দেওয়া হয়েছে ৯০ ভাগ কারখানায়
jugantor
বিজিএমইএ’র দাবি
বেতন দেওয়া হয়েছে ৯০ ভাগ কারখানায়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৯০ শতাংশ কারখানায় এপ্রিলের বেতন এবং ৯২ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়ার দাবি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অবশ্য শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৬৭ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানায় সবচেয়ে বেশি বেতন-বোনাস বকেয়া রয়েছে।

শিল্প পুলিশ বলছে, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ’র সদস্যভুক্ত এবং বেপজা ও অন্য এলাকায় ৭ হাজার ৮৯২টি গার্মেন্ট কারখানা আছে। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব কারখানার মধ্যে এপ্রিলের বেতন দিয়েছে ৫ হাজার ৭৪টি কারখানা, প্রায় ৬৫ শতাংশ। বোনাস দিয়েছে ৫ হাজার ২২৭টি কারখানা, প্রায় ৬৭ শতাংশ। অবশ্য বিজিএমইএ দাবি করছে, সংগঠনটির সদস্যরা ৯০ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৯২ শতাংশ কারখানায় বোনাস দিয়েছে। আর বিকেএমইএ বলছে, ৯৫ শতাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হয়েছে। বেতন ইস্যুতে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ভিডিও বার্তায় বলেন, এখন পোশাক শিল্প কঠিনতম সময় পার করছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এখনো কারখানাগুলো হিমশিম খাচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী পোশাকের খুচরা দাম কমে গেছে। তাই অর্ডার আগের তুলনায় অনেক কম। এমন সময়ে দ্বিতীয় ঢেউ বিশাল ধাক্কা। হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও ৯০ ভাগ কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতন এবং ৯২ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেগুলো নজরে রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

শিল্প পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো বেতন-বোনাস দেওয়ায় পিছিয়ে আছে। মোট ৮১৬টি কারখানার মধ্যে ৪১০টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক কারখানায় বেতন দেওয়া বাকি আছে। অবশ্য বোনাস দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৫০ কারখানার। উল্টো চিত্র বিজিএমএই সদস্যভুক্ত কারখানার। এক হাজার ৬৪৩টি কারখানার মধ্যে বেতন বাকি আছে ৩৭৪টি কারখানার। আর বোনাস বাকি আছে ৫৫৮টি কারখানার।

শিল্প পুলিশের তথ্য ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বিকেএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংগঠনের সদস্য কারখানাগুলোর ৯৫ শতাংশ বোনাস-বেতন পরিশোধ করেছে। কাল শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অসন্তোষের খবর আসেনি। একটি কারখানায় সমস্যা হতে পারে। মালিক কারখানা তালা মেরে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। ওই মালিককে খুঁজে বের করতে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, শ্রমিকরা অনেক কষ্টে আছে। করোনার মধ্যে তাদের অনেক কারখানায় কাজ কমেছে। ওভারটাইম না থাকাতে আয় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বেতন-বোনাসটুকুই তাদের জীবন বাঁচানোর মূল ক্ষেত্র। অথচ অনেক কারখানা এখন বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি। তিনি বলেন, অনেক বড় কারখানার মালিক এখনো বেতন-বোনাস দেয়নি। তারা আগামীকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এখন বোঝা যাচ্ছে না। তবে বড়দের ধরা গেলেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে এখনো বেতন-বোনাস কিছুই হয়নি। তারা আদৌ দিতে পারবে কি না এ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। তাদের দেখারও কেউ নেই। শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার বলেন, ঈদের আগে মালিকরা সবসময় গোঁজামিলের আশ্রয় নেয়। শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় নেয়, যাতে শেষ দিন কিছু না করা যায়। শেষ দিনে বেতন-বোনাস পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেয়। যাতে পরের দিন কেউ বলতে না পারে। মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই তারা যেন আজকের মধ্যে সব পাওনাদি পরিশোধ করে দেয়।

বিজিএমইএ’র দাবি

বেতন দেওয়া হয়েছে ৯০ ভাগ কারখানায়

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৯০ শতাংশ কারখানায় এপ্রিলের বেতন এবং ৯২ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়ার দাবি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অবশ্য শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৬৭ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানায় সবচেয়ে বেশি বেতন-বোনাস বকেয়া রয়েছে।

শিল্প পুলিশ বলছে, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ’র সদস্যভুক্ত এবং বেপজা ও অন্য এলাকায় ৭ হাজার ৮৯২টি গার্মেন্ট কারখানা আছে। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব কারখানার মধ্যে এপ্রিলের বেতন দিয়েছে ৫ হাজার ৭৪টি কারখানা, প্রায় ৬৫ শতাংশ। বোনাস দিয়েছে ৫ হাজার ২২৭টি কারখানা, প্রায় ৬৭ শতাংশ। অবশ্য বিজিএমইএ দাবি করছে, সংগঠনটির সদস্যরা ৯০ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৯২ শতাংশ কারখানায় বোনাস দিয়েছে। আর বিকেএমইএ বলছে, ৯৫ শতাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হয়েছে। বেতন ইস্যুতে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ভিডিও বার্তায় বলেন, এখন পোশাক শিল্প কঠিনতম সময় পার করছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এখনো কারখানাগুলো হিমশিম খাচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী পোশাকের খুচরা দাম কমে গেছে। তাই অর্ডার আগের তুলনায় অনেক কম। এমন সময়ে দ্বিতীয় ঢেউ বিশাল ধাক্কা। হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও ৯০ ভাগ কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতন এবং ৯২ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেগুলো নজরে রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

শিল্প পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো বেতন-বোনাস দেওয়ায় পিছিয়ে আছে। মোট ৮১৬টি কারখানার মধ্যে ৪১০টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক কারখানায় বেতন দেওয়া বাকি আছে। অবশ্য বোনাস দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৫০ কারখানার। উল্টো চিত্র বিজিএমএই সদস্যভুক্ত কারখানার। এক হাজার ৬৪৩টি কারখানার মধ্যে বেতন বাকি আছে ৩৭৪টি কারখানার। আর বোনাস বাকি আছে ৫৫৮টি কারখানার।

শিল্প পুলিশের তথ্য ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বিকেএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংগঠনের সদস্য কারখানাগুলোর ৯৫ শতাংশ বোনাস-বেতন পরিশোধ করেছে। কাল শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অসন্তোষের খবর আসেনি। একটি কারখানায় সমস্যা হতে পারে। মালিক কারখানা তালা মেরে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। ওই মালিককে খুঁজে বের করতে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, শ্রমিকরা অনেক কষ্টে আছে। করোনার মধ্যে তাদের অনেক কারখানায় কাজ কমেছে। ওভারটাইম না থাকাতে আয় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বেতন-বোনাসটুকুই তাদের জীবন বাঁচানোর মূল ক্ষেত্র। অথচ অনেক কারখানা এখন বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি। তিনি বলেন, অনেক বড় কারখানার মালিক এখনো বেতন-বোনাস দেয়নি। তারা আগামীকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এখন বোঝা যাচ্ছে না। তবে বড়দের ধরা গেলেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে এখনো বেতন-বোনাস কিছুই হয়নি। তারা আদৌ দিতে পারবে কি না এ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। তাদের দেখারও কেউ নেই। শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার বলেন, ঈদের আগে মালিকরা সবসময় গোঁজামিলের আশ্রয় নেয়। শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় নেয়, যাতে শেষ দিন কিছু না করা যায়। শেষ দিনে বেতন-বোনাস পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেয়। যাতে পরের দিন কেউ বলতে না পারে। মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই তারা যেন আজকের মধ্যে সব পাওনাদি পরিশোধ করে দেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন