সুনির্দিষ্ট কর বসিয়ে তামাক পণ্যের দাম বাড়াতে হবে
jugantor
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
সুনির্দিষ্ট কর বসিয়ে তামাক পণ্যের দাম বাড়াতে হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তামাকমুক্ত দেশ গড়তে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে। আর এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে তামাকপণ্যকে। তবে পণ্যটির দাম বাড়ালে তরুণ জনগোষ্ঠী ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এতে বর্তমান তামাক ব্যবহারকারী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হবে।

সোমবার ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মার যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে বলা হয়, তামাক করবিষয়ক ‘বাজেট প্রস্তাব ২০২১-২২’ বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ১১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে, তিন লাখ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং চার লাখ তরুণের অকাল মৃত্যু রোধ হবে এবং সিগারেট থেকে সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরই সরকারের কাছে দাবি জানাই তামাকের কর বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বাজেটে তার প্রতিফলন দেখি না। প্রধানমন্ত্রী ভেবে চিন্তেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যারা এই ঘোষণার অন্তরায় হিসাবে কাজ করছেন তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ তামাকের রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালেরও দাবি জানান।

বাসসের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নতুন প্রজš§কে তামাক থেকে দূরে রাখার জন্য পাঠ্যক্রম এবং সহশিক্ষা পাঠ্যক্রমে তামাকের কুফল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন যেখানে কর বৃদ্ধির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, তামাক-কর বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে বিএটিবিতে সরকারের অংশীদারিত্ব এবং এনবিআর এ তামাক কোম্পানির প্রভাব।

বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বেশি কাজ করতে হবে। কিন্তু সেটি আমরা দেখছি না। এ বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিড়ি-সিগারেট ব্যবহারের কারণে লোকজন অসুস্থ হয় এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে। এ কারণে দারিদ্র্য আরও বাড়ে এই বিষয়ে বেশি প্রচারণা এবং সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, আমরা তামাকপণ্যে কর বাড়াতে চাই। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তামাকপণ্যের দাম বাড়লে দরিদ্র মানুষ তামাক ব্যবহার থেকে সরে আসে।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার। এ ছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

সুনির্দিষ্ট কর বসিয়ে তামাক পণ্যের দাম বাড়াতে হবে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তামাকমুক্ত দেশ গড়তে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে। আর এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে তামাকপণ্যকে। তবে পণ্যটির দাম বাড়ালে তরুণ জনগোষ্ঠী ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এতে বর্তমান তামাক ব্যবহারকারী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হবে।

সোমবার ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মার যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে বলা হয়, তামাক করবিষয়ক ‘বাজেট প্রস্তাব ২০২১-২২’ বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ১১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে, তিন লাখ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং চার লাখ তরুণের অকাল মৃত্যু রোধ হবে এবং সিগারেট থেকে সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরই সরকারের কাছে দাবি জানাই তামাকের কর বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বাজেটে তার প্রতিফলন দেখি না। প্রধানমন্ত্রী ভেবে চিন্তেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যারা এই ঘোষণার অন্তরায় হিসাবে কাজ করছেন তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ তামাকের রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালেরও দাবি জানান।

বাসসের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নতুন প্রজš§কে তামাক থেকে দূরে রাখার জন্য পাঠ্যক্রম এবং সহশিক্ষা পাঠ্যক্রমে তামাকের কুফল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন যেখানে কর বৃদ্ধির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, তামাক-কর বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে বিএটিবিতে সরকারের অংশীদারিত্ব এবং এনবিআর এ তামাক কোম্পানির প্রভাব।

বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বেশি কাজ করতে হবে। কিন্তু সেটি আমরা দেখছি না। এ বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিড়ি-সিগারেট ব্যবহারের কারণে লোকজন অসুস্থ হয় এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে। এ কারণে দারিদ্র্য আরও বাড়ে এই বিষয়ে বেশি প্রচারণা এবং সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, আমরা তামাকপণ্যে কর বাড়াতে চাই। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তামাকপণ্যের দাম বাড়লে দরিদ্র মানুষ তামাক ব্যবহার থেকে সরে আসে।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার। এ ছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন