চুরি ডাকাতি রোধে বিশেষ নজরদারিতে সিএমপি
jugantor
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হচ্ছে নগরী
চুরি ডাকাতি রোধে বিশেষ নজরদারিতে সিএমপি
শিল্প-কারখানা ব্যাংক বীমা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান চেম্বার সভাপতির

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত যানবাহন, ভাড়ায় চালিত গাড়ি, এমনকি ট্রাকে চড়ে মানুষ বাড়ি ফিরছে। আজ থেকে নগরী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাবে। সড়কে ইতোমধ্যে কমে গেছে যানবাহন। প্রতি বছরই ফাঁকা বাড়িতে ঘটে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। বাড়ে গ্রিল কাটা চোর দল, ছিনতাইকারীর উৎপাত। তাই বাড়িফেরা মানুষ থাকে উৎকণ্ঠায়। এ অবস্থায় ঈদের ছুটিতে ফাঁকা নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

ফাঁকা নগরীতে গ্রিল কাটা চোর চক্র, ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের উপদ্রব ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সড়কে টহলের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বাসাবাড়ি ছাড়াও ঈদের ছুটিতে দোকানপাট, অফিস-আদালত, কল-কারখানা ও বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তায়ও থাকবে বাড়তি পুলিশ সদস্য। নিরাপত্তার বিষয়ে আজ বৈঠক করবে সিএমপি কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন, ঈদের আগে ও পরে সরকারি ছুটির কারণে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মার্কেট ও অফিস আদালত বন্ধ থাকায় এ সময় চুরি-ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চেম্বার সভাপতি পরিচালকমণ্ডলীর পক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে নগরীর অনেকেই বাসাবাড়িতে তালা লাগিয়ে নাড়ির টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় নগরী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তাই সুযোগ বুঝে ছিনতাইকারী, চোর-ডাকাত ও গ্রিল কাটা চক্র হানা দেয়। চোর-ডাকাত ও গ্রিল কাটা সদস্যদের নজর থাকে তালা ঝুলানো খালি বাসাবাড়িতে। তালা ভেঙে কিংবা গ্রিল কেটে বাসাবাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে তারা। গত কয়েক বছর ঈদের ছুটিতে নগরীতে খুন-রাহাজানিসহ চুরি-ছিনতাই ও গ্রিল কেটে বাসাবাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তাঘাটে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু। মূলত এসব বিষয় মাথায় রেখেই এবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ঈদের ছুটিতে শহরের নিরাপত্তায় বেশ কিছু করণীয় নির্ধারণ করেছে। আজ এ নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে সিএমপি কমিশনারের। বৈঠক থেকেই নগরীর ১৬ থানার ওসিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সূত্র জানায়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিশেষ শাখা) উপ-কমিশনার মনজুর মোরশেদ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘অন্যান্য বছর ঈদে যেভাবে নগরী ফাঁকা হয়ে যায় এবার ঠিক সেরকম হবে না বলেই মনে হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে অধিকাংশ মানুষ শহরে অবস্থান করবেন। এর পরও ঈদের ছুটিতে বাসাবাড়ি, ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যাতে কোনো ধরনের চুরি-ডাকাতি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকবে পুলিশ। একইভাবে ফাঁকা সড়কে যাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়েও লক্ষ রাখা হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হচ্ছে নগরী

চুরি ডাকাতি রোধে বিশেষ নজরদারিতে সিএমপি

শিল্প-কারখানা ব্যাংক বীমা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান চেম্বার সভাপতির
 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত যানবাহন, ভাড়ায় চালিত গাড়ি, এমনকি ট্রাকে চড়ে মানুষ বাড়ি ফিরছে। আজ থেকে নগরী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাবে। সড়কে ইতোমধ্যে কমে গেছে যানবাহন। প্রতি বছরই ফাঁকা বাড়িতে ঘটে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। বাড়ে গ্রিল কাটা চোর দল, ছিনতাইকারীর উৎপাত। তাই বাড়িফেরা মানুষ থাকে উৎকণ্ঠায়। এ অবস্থায় ঈদের ছুটিতে ফাঁকা নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

ফাঁকা নগরীতে গ্রিল কাটা চোর চক্র, ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের উপদ্রব ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সড়কে টহলের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বাসাবাড়ি ছাড়াও ঈদের ছুটিতে দোকানপাট, অফিস-আদালত, কল-কারখানা ও বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তায়ও থাকবে বাড়তি পুলিশ সদস্য। নিরাপত্তার বিষয়ে আজ বৈঠক করবে সিএমপি কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন, ঈদের আগে ও পরে সরকারি ছুটির কারণে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মার্কেট ও অফিস আদালত বন্ধ থাকায় এ সময় চুরি-ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চেম্বার সভাপতি পরিচালকমণ্ডলীর পক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে নগরীর অনেকেই বাসাবাড়িতে তালা লাগিয়ে নাড়ির টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় নগরী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তাই সুযোগ বুঝে ছিনতাইকারী, চোর-ডাকাত ও গ্রিল কাটা চক্র হানা দেয়। চোর-ডাকাত ও গ্রিল কাটা সদস্যদের নজর থাকে তালা ঝুলানো খালি বাসাবাড়িতে। তালা ভেঙে কিংবা গ্রিল কেটে বাসাবাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে তারা। গত কয়েক বছর ঈদের ছুটিতে নগরীতে খুন-রাহাজানিসহ চুরি-ছিনতাই ও গ্রিল কেটে বাসাবাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তাঘাটে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু। মূলত এসব বিষয় মাথায় রেখেই এবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ঈদের ছুটিতে শহরের নিরাপত্তায় বেশ কিছু করণীয় নির্ধারণ করেছে। আজ এ নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে সিএমপি কমিশনারের। বৈঠক থেকেই নগরীর ১৬ থানার ওসিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সূত্র জানায়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিশেষ শাখা) উপ-কমিশনার মনজুর মোরশেদ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘অন্যান্য বছর ঈদে যেভাবে নগরী ফাঁকা হয়ে যায় এবার ঠিক সেরকম হবে না বলেই মনে হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে অধিকাংশ মানুষ শহরে অবস্থান করবেন। এর পরও ঈদের ছুটিতে বাসাবাড়ি, ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যাতে কোনো ধরনের চুরি-ডাকাতি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকবে পুলিশ। একইভাবে ফাঁকা সড়কে যাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়েও লক্ষ রাখা হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন