এখন পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতীকে ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে
jugantor
এখন পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতীকে ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেটে গুরুতর জখম নিয়ে পঞ্চগড়ে পাওয়া বিরল প্রজাতির রেড কোরাল কুকরি সাপটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চগড়ের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় মাটি কাটার সময় খনন যন্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিল সাপটি। রাজশাহীর সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন তার স্থানীয় এক সহযোগীর মাধ্যমে সাপটি উদ্ধার করে রাজশাহীতে আনেন। গবেষক বোরহান বিশ্বাসের মতে, কমলা রঙের কোরাল কুকরি দেশে পাওয়া এই প্রজাতির একমাত্র সাপ। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সাপটি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর পবায় বোরহান বিশ্বাসের সাপের চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।

এদিকে উদ্ধারের সময় বোরহান বিশ্বাসসহ প্রাণিবিজ্ঞানীরা এই প্রজাতির সাপ এটিই দেশে প্রথম দেখতে পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের প্রাণিবিজ্ঞানীরাও খোঁজখবর নিয়ে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন। কমলাবতী সাপটির সারা শরীর কমলা রঙের। উদ্ধারের সময় বাংলা কোনো নাম ছিল না। রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সাপপ্রেমী বোরহান বিশ্বাস এর নাম দিয়েছেন ‘কমলাবতী’। টানা তিন মাসের চিকিৎসায় তিনি সাপটিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলেছেন। উদ্ধারের সময় সাপটির পেট কেটে গিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। কয়েকবার খোলস বদলানোর ফলে ক্ষতস্থানের দাগ এখন মুছে গেছে কমলাবতীর। এখন সাপটি খেতেও পারে আবার চলতেও পারে।

৯ মে রোববার আন্তর্জাতিক ন্যাচার জার্নাল এশিয়া প্যাসিফিকে এই সাপটিকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে বোরহান বিশ্বাস বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের কাজের জন্য একটা বড় স্বীকৃতি। কমলাবতীর এই নতুন জীবন পাওয়াতে আমাদের খুব আনন্দ হচ্ছে।’ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই কাজ করছেন। কোথাও সাপ উদ্ধারের জন্য ডাক পড়লে তিনি অকুতোভয়ে ছুটে যান। সাপ উদ্ধার করেন। রাজশাহীর পবা উপজেলায় নিজের সাপ উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে সাপের চিকিৎসা দেন তিনি।

বোরহান বিশ্বাস বলেন, আর কয়েক দিন গবেষণার পর কমলাবতীকেও নিরাপদ প্রকৃতির মাঝে মুক্ত করে দেওয়া হবে। পঞ্চগড়ে যে এলাকা থেকে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানেই ছাড়া হবে। ঈদের পরই দিনক্ষণ ঠিক হবে।

এখন পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতীকে ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেটে গুরুতর জখম নিয়ে পঞ্চগড়ে পাওয়া বিরল প্রজাতির রেড কোরাল কুকরি সাপটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চগড়ের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় মাটি কাটার সময় খনন যন্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিল সাপটি। রাজশাহীর সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন তার স্থানীয় এক সহযোগীর মাধ্যমে সাপটি উদ্ধার করে রাজশাহীতে আনেন। গবেষক বোরহান বিশ্বাসের মতে, কমলা রঙের কোরাল কুকরি দেশে পাওয়া এই প্রজাতির একমাত্র সাপ। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সাপটি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর পবায় বোরহান বিশ্বাসের সাপের চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।

এদিকে উদ্ধারের সময় বোরহান বিশ্বাসসহ প্রাণিবিজ্ঞানীরা এই প্রজাতির সাপ এটিই দেশে প্রথম দেখতে পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের প্রাণিবিজ্ঞানীরাও খোঁজখবর নিয়ে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন। কমলাবতী সাপটির সারা শরীর কমলা রঙের। উদ্ধারের সময় বাংলা কোনো নাম ছিল না। রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সাপপ্রেমী বোরহান বিশ্বাস এর নাম দিয়েছেন ‘কমলাবতী’। টানা তিন মাসের চিকিৎসায় তিনি সাপটিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলেছেন। উদ্ধারের সময় সাপটির পেট কেটে গিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। কয়েকবার খোলস বদলানোর ফলে ক্ষতস্থানের দাগ এখন মুছে গেছে কমলাবতীর। এখন সাপটি খেতেও পারে আবার চলতেও পারে।

৯ মে রোববার আন্তর্জাতিক ন্যাচার জার্নাল এশিয়া প্যাসিফিকে এই সাপটিকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে বোরহান বিশ্বাস বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের কাজের জন্য একটা বড় স্বীকৃতি। কমলাবতীর এই নতুন জীবন পাওয়াতে আমাদের খুব আনন্দ হচ্ছে।’ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই কাজ করছেন। কোথাও সাপ উদ্ধারের জন্য ডাক পড়লে তিনি অকুতোভয়ে ছুটে যান। সাপ উদ্ধার করেন। রাজশাহীর পবা উপজেলায় নিজের সাপ উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে সাপের চিকিৎসা দেন তিনি।

বোরহান বিশ্বাস বলেন, আর কয়েক দিন গবেষণার পর কমলাবতীকেও নিরাপদ প্রকৃতির মাঝে মুক্ত করে দেওয়া হবে। পঞ্চগড়ে যে এলাকা থেকে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানেই ছাড়া হবে। ঈদের পরই দিনক্ষণ ঠিক হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন