পিরোজপুর ও মাদারীপুরে ৭ গুলিবিদ্ধসহ আহত ২৬
jugantor
ইউপি নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ
পিরোজপুর ও মাদারীপুরে ৭ গুলিবিদ্ধসহ আহত ২৬

  পিরোজপুর ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচর এবং পিরোজপুরের কদমতলায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ২৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় শিবচরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। অপর দিকে, শনিবার রাতে পিরোজপুরের কদমতলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন।

শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এবারের ইউপি নির্বাচনে আতিকুর ও মনোয়ার দুজনই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকলেও নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার সন্ধ্যায় আকনকান্দি গ্রামে আতিকের সমর্থক মিরাজ আকন ও মনোয়ারের সমর্থক তুষার বেপারীর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায় মিরাজকে তুষার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মনোয়ারের সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সালাম মাদবরকে (৬৫) তার দোকানে ঢুকে আতিকের লোকজন মারধর করে। এরই জের ধরে রাত ৮টার দিক সাহেব বাজারে আতিকের সমর্থক দুলাল বেপারীর মার্কেটে মনোয়ারের ছোটভাই মানজার বেপারীর নেতৃত্বে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় দুলালসহ অন্যরা মার্কেটের সামনে জড়ো হলে মনোয়ারের বাড়ির ছাদ থেকে তাদের লক্ষ্য করে মানজারের নেতৃত্বে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় মাহবুবুর রহমান, এসকান বেপারী, কাউসার বেপারী, আবদুর রাজ্জাক মাদবর, ওবায়দুল বেপারীসহ সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার, শাহাদাৎ, কাদির, আলমগীর বেপারীকে আটক করে পুলিশ। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. এমদাদুল হক রাসেল বলেন, আহত কয়েকজন রাতে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে সাতজন গুলিবিদ্ধ।

এদিকে, পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে কদমতলা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খানকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরও পাঁচ কর্মী আহত হন। আহত অন্যরা হলেন-মিজান শেখ, মুনান খান, লিটন খান, তন্ময় গাজী, তাজুল ইসলাম। আহতদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, গুরুতর আহত মিজান ও মুনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারম্যান হানিফ খান জানান, ঈদের পর কুশল বিনিময়ের জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম বায়েজীদ হোসেন এবং তার মামা প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী সিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে সোহাগ সিকদার, সজিব সিকদার, বক্কর, সোহেল খান, সাহেদ, বাবুল, শহীদ, আনিচ, এনায়েত সিকদারসহ প্রায় ৫০-৬০ জনের দল তাদের ওপর হামলা চালায়। তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৭-৮ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান এসএম বায়েজীদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, সরকারি ভাতাবঞ্চিতদের খোঁজখবর নিতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের নাগরপুরে তিনি ছিলেন। কিন্তু তাকে ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে জড়িয়ে অসত্য কথা বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউপি নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ

পিরোজপুর ও মাদারীপুরে ৭ গুলিবিদ্ধসহ আহত ২৬

 পিরোজপুর ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচর এবং পিরোজপুরের কদমতলায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ২৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় শিবচরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। অপর দিকে, শনিবার রাতে পিরোজপুরের কদমতলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন।

শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এবারের ইউপি নির্বাচনে আতিকুর ও মনোয়ার দুজনই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকলেও নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার সন্ধ্যায় আকনকান্দি গ্রামে আতিকের সমর্থক মিরাজ আকন ও মনোয়ারের সমর্থক তুষার বেপারীর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায় মিরাজকে তুষার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মনোয়ারের সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সালাম মাদবরকে (৬৫) তার দোকানে ঢুকে আতিকের লোকজন মারধর করে। এরই জের ধরে রাত ৮টার দিক সাহেব বাজারে আতিকের সমর্থক দুলাল বেপারীর মার্কেটে মনোয়ারের ছোটভাই মানজার বেপারীর নেতৃত্বে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় দুলালসহ অন্যরা মার্কেটের সামনে জড়ো হলে মনোয়ারের বাড়ির ছাদ থেকে তাদের লক্ষ্য করে মানজারের নেতৃত্বে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় মাহবুবুর রহমান, এসকান বেপারী, কাউসার বেপারী, আবদুর রাজ্জাক মাদবর, ওবায়দুল বেপারীসহ সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার, শাহাদাৎ, কাদির, আলমগীর বেপারীকে আটক করে পুলিশ। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. এমদাদুল হক রাসেল বলেন, আহত কয়েকজন রাতে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে সাতজন গুলিবিদ্ধ।

এদিকে, পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে কদমতলা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খানকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরও পাঁচ কর্মী আহত হন। আহত অন্যরা হলেন-মিজান শেখ, মুনান খান, লিটন খান, তন্ময় গাজী, তাজুল ইসলাম। আহতদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, গুরুতর আহত মিজান ও মুনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারম্যান হানিফ খান জানান, ঈদের পর কুশল বিনিময়ের জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম বায়েজীদ হোসেন এবং তার মামা প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী সিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে সোহাগ সিকদার, সজিব সিকদার, বক্কর, সোহেল খান, সাহেদ, বাবুল, শহীদ, আনিচ, এনায়েত সিকদারসহ প্রায় ৫০-৬০ জনের দল তাদের ওপর হামলা চালায়। তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৭-৮ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান এসএম বায়েজীদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, সরকারি ভাতাবঞ্চিতদের খোঁজখবর নিতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের নাগরপুরে তিনি ছিলেন। কিন্তু তাকে ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে জড়িয়ে অসত্য কথা বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন