এক যুগ ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদ আনন্দ নেই: মির্জা ফখরুল
jugantor
এক যুগ ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদ আনন্দ নেই: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক যুগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঈদের দিন শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত দলের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এমন মন্তব্য করে আরও বলেন, ‘ঈদ বলতে যেটা সব সময় বুঝি সেই ঈদ এক যুগ ধরেই আমাদের নেই। কারণ, আমাদের কমপক্ষে ৩৫ লাখ নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আসামি। যারা আসামি হন তাদের পরিবারে কখনো ঈদ আসে না। এটাই বাস্তবতা।

তিনি বলেন, করোনা মহামারিকালে সারা দেশে এবার একটা কষ্টের মধ্য দিয়ে, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে ঈদ পালিত হয়েছে। এক দিকে করোনার ভয়াবহ আক্রমণ, অন্য দিকে ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন। এই দুই দানবের হাত থেকে এই দেশ যেন রক্ষা পায়, জনগণ যেন রক্ষা পায় সেই দোয়াই করছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পারি।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে, জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক জানিয়েছেন, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ভুল নীতি অনুসরণ করছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণে আজকে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। বাড়ি যাওয়ার পথে (ফেরিতে) পদপিষ্ট হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, প্রণোদনার যে টাকা তা যদি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছত তাহলে এ অবস্থা হতো না। সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রণোদনা বা কোনো সাহায্য পায়নি-এটা বাস্তবতা।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার আগে ঈদের দিন দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে স্বামী জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতেন খালেদা জিয়া। এবারের ঈদের দিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ রায় ও নজরুল ইসলাম খানকে সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও উপস্থিত ছিলেন। এরপর স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসানসহ মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

‘কথা বলার অধিকার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হয়েছে’ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, এদিকে ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রম পাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে রোববার বিকালে জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন দিয়ে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। এখন যে কোনো সাংবাদিক লিখলে সরকার যদি মনে করে সংবাদটি তাদের বিপক্ষে গেছে তাহলে সেই সাংবাদিককে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত সবাইকে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইন-আদালত দুটোকেই তারা নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আজ দেশে যে ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা থেকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বলেন, বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ না থাকা সত্ত্বে¡ও অনুমতি দেয়নি সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম ও অন্যরা।

এক যুগ ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদ আনন্দ নেই: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক যুগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঈদের দিন শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত দলের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এমন মন্তব্য করে আরও বলেন, ‘ঈদ বলতে যেটা সব সময় বুঝি সেই ঈদ এক যুগ ধরেই আমাদের নেই। কারণ, আমাদের কমপক্ষে ৩৫ লাখ নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আসামি। যারা আসামি হন তাদের পরিবারে কখনো ঈদ আসে না। এটাই বাস্তবতা।

তিনি বলেন, করোনা মহামারিকালে সারা দেশে এবার একটা কষ্টের মধ্য দিয়ে, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে ঈদ পালিত হয়েছে। এক দিকে করোনার ভয়াবহ আক্রমণ, অন্য দিকে ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন। এই দুই দানবের হাত থেকে এই দেশ যেন রক্ষা পায়, জনগণ যেন রক্ষা পায় সেই দোয়াই করছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পারি।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে, জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক জানিয়েছেন, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ভুল নীতি অনুসরণ করছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণে আজকে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। বাড়ি যাওয়ার পথে (ফেরিতে) পদপিষ্ট হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, প্রণোদনার যে টাকা তা যদি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছত তাহলে এ অবস্থা হতো না। সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রণোদনা বা কোনো সাহায্য পায়নি-এটা বাস্তবতা।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার আগে ঈদের দিন দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে স্বামী জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতেন খালেদা জিয়া। এবারের ঈদের দিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ রায় ও নজরুল ইসলাম খানকে সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও উপস্থিত ছিলেন। এরপর স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসানসহ মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

‘কথা বলার অধিকার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হয়েছে’ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, এদিকে ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রম পাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে রোববার বিকালে জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন দিয়ে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। এখন যে কোনো সাংবাদিক লিখলে সরকার যদি মনে করে সংবাদটি তাদের বিপক্ষে গেছে তাহলে সেই সাংবাদিককে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত সবাইকে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইন-আদালত দুটোকেই তারা নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আজ দেশে যে ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা থেকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বলেন, বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ না থাকা সত্ত্বে¡ও অনুমতি দেয়নি সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম ও অন্যরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন