ঈদ কেটেছে বন্দিদশায় বাড়ি ফেরার আকুতি
jugantor
ঝিনাইদহ পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টার
ঈদ কেটেছে বন্দিদশায় বাড়ি ফেরার আকুতি
৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহ পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা ভারতফেরত যাত্রীদের মুখে বাড়ি ফেরার আকুতি। ঈদের সময়টা তাদের এই সেন্টারেই কেটেছে। চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন তারা। কেউ দুরারোগ্য ক্যান্সারে কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বাড়ি। করোনা মহামারির মধ্যে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে বৈধভাবেই দেশে ফিরেন। অনেকের সঙ্গে আছেন নিকটজনও। চলতি মাসের ৩ তারিখ কিংবা ৪ তারিখে অথবা ৮ তারিখে তারা এসেছেন। কয়েকজনের কাছে টাকা-পয়সা নেই। গেল ১৫ দিন খাওয়ার ব্যবস্থা করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন। কিন্তু সোমবার যারা ছাড়া পেলেন তাদের কাছ থেকে খাওয়া খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

খুলনার মাসুম শেখ জানান, তিনি চিকিৎসা নিতে কলকাতা গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে আসেন ৩ মে। এরপর থেকে ঝিনাইদহের পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে। বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছেলে নুর আলম (১৪) তাকে দেখার জন্য ছটফট করছে। খাওয়া বাবদ দুই হাজার টাকা অন্য একজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে পরিশোধ করেন। পরে অবশ্য দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মানবিক বিবেচনায় সেই টাকা নেননি। ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে কষ্টের ১৪ দিন শেষে যাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে তারা মুক্তির আনন্দ নিয়ে ফিরে গেছেন নিজ নিজ বাড়িতে। তবে এ সংখ্যা মাত্র ২৩ জন। এখনও ৯৬ জন নারী-পুরুষ এই সেন্টারে রয়ে গেছেন। এছাড়া আরও ৪৮ জন ভারতফেরত বাংলাদেশি জেলা শহরের একটি এনজিওর আবাসিকে থাকছেন। তারাও পর্যায়ক্রমে বাড়ি ফিরবেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা ১১৯ জনের মধ্যে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮১ জনের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হয়েছে। এ সময় চার জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা কিভাবে পজেটিভ হলেন তা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে। কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় ফের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা আইইডিসিআর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আক্রান্তরা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শরীরে বহন করছেন কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, পরবর্তী নমুনা ল্যাবে টেস্ট করা হবে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ হতে দুই থেকে ১৪ দিন সময় লাগে।

এদিকে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসা ২৭ জনের মধ্যে যে তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল তারা এখন নেগেটিভ। এর আগে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা পজিটিভ আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম। তিনি বলেন, নেগেটিভ হলেও শিগগিরই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো নমুনার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় সদর হাসপাতালেই থাকতে হবে তাদের।

ঝিনাইদহ পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টার

ঈদ কেটেছে বন্দিদশায় বাড়ি ফেরার আকুতি

৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত
 ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহ পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা ভারতফেরত যাত্রীদের মুখে বাড়ি ফেরার আকুতি। ঈদের সময়টা তাদের এই সেন্টারেই কেটেছে। চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন তারা। কেউ দুরারোগ্য ক্যান্সারে কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বাড়ি। করোনা মহামারির মধ্যে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে বৈধভাবেই দেশে ফিরেন। অনেকের সঙ্গে আছেন নিকটজনও। চলতি মাসের ৩ তারিখ কিংবা ৪ তারিখে অথবা ৮ তারিখে তারা এসেছেন। কয়েকজনের কাছে টাকা-পয়সা নেই। গেল ১৫ দিন খাওয়ার ব্যবস্থা করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন। কিন্তু সোমবার যারা ছাড়া পেলেন তাদের কাছ থেকে খাওয়া খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

খুলনার মাসুম শেখ জানান, তিনি চিকিৎসা নিতে কলকাতা গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে আসেন ৩ মে। এরপর থেকে ঝিনাইদহের পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে। বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছেলে নুর আলম (১৪) তাকে দেখার জন্য ছটফট করছে। খাওয়া বাবদ দুই হাজার টাকা অন্য একজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে পরিশোধ করেন। পরে অবশ্য দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মানবিক বিবেচনায় সেই টাকা নেননি। ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে কষ্টের ১৪ দিন শেষে যাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে তারা মুক্তির আনন্দ নিয়ে ফিরে গেছেন নিজ নিজ বাড়িতে। তবে এ সংখ্যা মাত্র ২৩ জন। এখনও ৯৬ জন নারী-পুরুষ এই সেন্টারে রয়ে গেছেন। এছাড়া আরও ৪৮ জন ভারতফেরত বাংলাদেশি জেলা শহরের একটি এনজিওর আবাসিকে থাকছেন। তারাও পর্যায়ক্রমে বাড়ি ফিরবেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা ১১৯ জনের মধ্যে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮১ জনের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হয়েছে। এ সময় চার জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা কিভাবে পজেটিভ হলেন তা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে। কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় ফের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা আইইডিসিআর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আক্রান্তরা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শরীরে বহন করছেন কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, পরবর্তী নমুনা ল্যাবে টেস্ট করা হবে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ হতে দুই থেকে ১৪ দিন সময় লাগে।

এদিকে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসা ২৭ জনের মধ্যে যে তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল তারা এখন নেগেটিভ। এর আগে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা পজিটিভ আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম। তিনি বলেন, নেগেটিভ হলেও শিগগিরই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো নমুনার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় সদর হাসপাতালেই থাকতে হবে তাদের।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন