নবীগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে ১৩ পরিবার
jugantor
লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডব
নবীগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে ১৩ পরিবার
আ.লীগের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার

  নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

০৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাতাইহাল গ্রামের লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে ১৩টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে গত রোববার নিরীহ পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ঘটনায় করা মামলায় গজনাইপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাহুবল-হবিগঞ্জ সড়কের মশাজান ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডালিম আহমেদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর অভিযোগ, হামলাকারীদের কবল থেকে বাদ পড়েনি গাছপালা, গবাদিপশু ও আসবাবপত্র। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিসপত্র লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষগুলো আহাজারি করছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামসহ ছয় মৌজার লোকজন পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়। এ ঘটনায় রোববার রাতেই পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের জামাল হোসেন বাদী হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সোমবার ভোর রাতে পুলিশ ৭ জনকে আটক করে। তাদের সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, প্রায় ২ হাজার মণ ধান, ৮টি টিউবওয়েল, ১৫টি গরু, ২০টি ছাগল, অসংখ্য হাঁস-মুরগি লুটপাট করে নিয়ে যায়।

গত ২৬ মে রাতে নোয়াগাঁও গ্রামের রোক্কা বিলে উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিনের ফিশারির পাহারাদার আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী জারু বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নোয়াগাঁও গ্রামের ৭ জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় নুর উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এর জেরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত রোববার সকালে প্রশাসনের সাথে সাতাইহাল গ্রামের নেতৃস্থানীয়দের বৈঠক চলাকালে ওই গ্রামের কয়েকশ’ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়।

লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডব

নবীগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে ১৩ পরিবার

আ.লীগের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার
 নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
০৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাতাইহাল গ্রামের লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে ১৩টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে গত রোববার নিরীহ পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ঘটনায় করা মামলায় গজনাইপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাহুবল-হবিগঞ্জ সড়কের মশাজান ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডালিম আহমেদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর অভিযোগ, হামলাকারীদের কবল থেকে বাদ পড়েনি গাছপালা, গবাদিপশু ও আসবাবপত্র। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিসপত্র লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষগুলো আহাজারি করছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামসহ ছয় মৌজার লোকজন পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়। এ ঘটনায় রোববার রাতেই পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের জামাল হোসেন বাদী হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সোমবার ভোর রাতে পুলিশ ৭ জনকে আটক করে। তাদের সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, প্রায় ২ হাজার মণ ধান, ৮টি টিউবওয়েল, ১৫টি গরু, ২০টি ছাগল, অসংখ্য হাঁস-মুরগি লুটপাট করে নিয়ে যায়।

গত ২৬ মে রাতে নোয়াগাঁও গ্রামের রোক্কা বিলে উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিনের ফিশারির পাহারাদার আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী জারু বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নোয়াগাঁও গ্রামের ৭ জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় নুর উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এর জেরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত রোববার সকালে প্রশাসনের সাথে সাতাইহাল গ্রামের নেতৃস্থানীয়দের বৈঠক চলাকালে ওই গ্রামের কয়েকশ’ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন