১৪ বছর পর লাভের মুখে পাথরখনি
jugantor
১২ বছরে লোকসান ৫৬৫ কোটি টাকা
১৪ বছর পর লাভের মুখে পাথরখনি

  মুজিব মাসুদ  

০৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১৪ বছর পর লাভের ধারায় ফিরেছে দেশের একমাত্র পাথরখনি মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি (এমজিএমসিএল)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে, গত দুই বছর ধরে লাভের ধারায় ফিরেছে এই খনি। এর মধ্যে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো লোকসানের কলঙ্ক ঘুচিয়ে লাভ করে ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এরপর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লাভের অঙ্ক বেড়ে গিয়ে ২২ কোটিতে উন্নীত হয়।

পাথরখনির ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার কাজে নিয়োজিত বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সূত্রে জানা গেছে, করোনা না থাকলে আগামী অর্থবছরে লাভের অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু বিদ্যমান মহামারির কারণে এ সময়ে লাভের অঙ্ক অর্ধশত কোটি অতিক্রম করবে। অভিযোগ আছে এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরীণ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে দীর্ঘ ১২ বছর খনিটি লাভ করতে পারেনি। দীর্ঘ সময়ে খনিটি প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে।

এদিকে দেশব্যাপী পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জিটিসি তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। করোনা মহামারিতেও শতাধিক বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশি প্রকৌশলীসহ ৭৫০ দক্ষ খনিশ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের সব মেগা প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে।

জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিষ্কার করে। এরপর ১৯৯৪ সালের ২৭ মার্চ খনি উন্নয়নের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কো-অপারেশন করপোরেশনের (নামনাম) সঙ্গে একটি চুক্তি করে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চুক্তির পরপর খনি উন্নয়ন নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে নামনাম। অপর দিকে নামনাম কর্তৃপক্ষ খনির উন্নয়নকাজ শেষ করলেও নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন শুরু করতে পারেনি কোম্পানি। শেষ পর্যন্ত কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০০৭ সালের ২৫ মে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন কাজ শুরু করে এমজিএমসিএল। শুরুতে প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন ছিল ৩০০-৪০০ মেট্রিক টন। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন হলেও ছিল না খনির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। একপর্যায়ে খনিটি প্রায় কয়েকশ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধের উপক্রম হয়।

এরপর ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর খনি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার জন্য বেলারুশ কোম্পানি জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে এমজিএমসিএলের সঙ্গে জিটিসির ছয় বছর মেয়াদি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। জিটিসি ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে দেখা যায় খনিটির বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অচল। এ অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় খনির কাজ। এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে এবং খনির কাজে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে খোদ এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট নিজদের পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা নিয়ে দুই বছর সময় নষ্ট করে। এরপর খনির ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন নিয়েও উৎপাদন ব্যাহত হয় আরও এক বছর। জানা গেছে এমজিএমসিএলের দক্ষ বিশেষজ্ঞ না থাকায় কর্তৃপক্ষ খনির ড্রয়িং-ডিজাইন করতে দায়িত্ব দেয় পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের। অভিযোগ আছে এই সুযোগে ওই বিদেশি বিশেষজ্ঞ টিম দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তাদের নিজদের পক্ষে ড্রয়িং-ডিজাইন তৈরি করে নেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমজিএমসিএলের নানা প্রতিবন্ধকতা, ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন না করা এবং মালামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি না দিয়ে ৪৭ মাস বসিয়ে রাখা হয়েছিল জিটিসিকে। এমনকি তাদের পাওনা বিল পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল তিন বছর।

বেলারুশ কোম্পানি জিটিসি সূত্র জানায়, এসব কারণে তারা পুরো চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে খনির উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন করতে পারেনি। এখন জিটিসি তিন শিফটে প্রতিদিন খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। এটি খনির উৎপাদন ইতিহাসে নতুন রেকর্ড বলেও জানান জিটিসির চেয়ারম্যান ড. মো. সিরাজুল ইসলাম কাজী। তিনি বলেন, প্রতিদিন তিন শিফটে পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খনিটি চালু করা হয়েছিল সেটি অতিক্রম করে এখন এক দিনে তিন শিফটে ছয় হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করছেন তারা। এটি আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তার মতে, চুক্তি অনুযায়ী তাদের মেয়াদের নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১.১ মিলিয়ন টন পাথর উৎপাদন ও আরও দুটি নতুন স্টোপ নির্মাণকাজ শেষ করতে পারবেন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও ২০ শতাংশ পাথর বেশি উৎপাদন করবে।

খোদ এমজিএমসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে উৎপাদনে থাকা পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার কোম্পানির অধিকাংশ শ্রমিককে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। যার কারণে কয়লাখনি স্বল্প পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে। সেখানে জিটিসি পুরো দমে উৎপাদন চালু রেখেছে। মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর এখন পুরো দমে উৎপাদন চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়েছে। তিনি এজন্য পেট্রোবাংলা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তার মতে, করোনার মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত থাকায় খনিতে শ্রমিকদের প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। গত ২ বছর ধরে খনি লাভবান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

১২ বছরে লোকসান ৫৬৫ কোটি টাকা

১৪ বছর পর লাভের মুখে পাথরখনি

 মুজিব মাসুদ 
০৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১৪ বছর পর লাভের ধারায় ফিরেছে দেশের একমাত্র পাথরখনি মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি (এমজিএমসিএল)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে, গত দুই বছর ধরে লাভের ধারায় ফিরেছে এই খনি। এর মধ্যে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো লোকসানের কলঙ্ক ঘুচিয়ে লাভ করে ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এরপর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লাভের অঙ্ক বেড়ে গিয়ে ২২ কোটিতে উন্নীত হয়।

পাথরখনির ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার কাজে নিয়োজিত বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সূত্রে জানা গেছে, করোনা না থাকলে আগামী অর্থবছরে লাভের অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু বিদ্যমান মহামারির কারণে এ সময়ে লাভের অঙ্ক অর্ধশত কোটি অতিক্রম করবে। অভিযোগ আছে এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরীণ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে দীর্ঘ ১২ বছর খনিটি লাভ করতে পারেনি। দীর্ঘ সময়ে খনিটি প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে।

এদিকে দেশব্যাপী পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জিটিসি তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। করোনা মহামারিতেও শতাধিক বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশি প্রকৌশলীসহ ৭৫০ দক্ষ খনিশ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের সব মেগা প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে।

জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিষ্কার করে। এরপর ১৯৯৪ সালের ২৭ মার্চ খনি উন্নয়নের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কো-অপারেশন করপোরেশনের (নামনাম) সঙ্গে একটি চুক্তি করে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চুক্তির পরপর খনি উন্নয়ন নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে নামনাম। অপর দিকে নামনাম কর্তৃপক্ষ খনির উন্নয়নকাজ শেষ করলেও নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন শুরু করতে পারেনি কোম্পানি। শেষ পর্যন্ত কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০০৭ সালের ২৫ মে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন কাজ শুরু করে এমজিএমসিএল। শুরুতে প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন ছিল ৩০০-৪০০ মেট্রিক টন। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন হলেও ছিল না খনির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। একপর্যায়ে খনিটি প্রায় কয়েকশ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধের উপক্রম হয়।

এরপর ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর খনি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার জন্য বেলারুশ কোম্পানি জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে এমজিএমসিএলের সঙ্গে জিটিসির ছয় বছর মেয়াদি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। জিটিসি ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে দেখা যায় খনিটির বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অচল। এ অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় খনির কাজ। এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে এবং খনির কাজে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে খোদ এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট নিজদের পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা নিয়ে দুই বছর সময় নষ্ট করে। এরপর খনির ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন নিয়েও উৎপাদন ব্যাহত হয় আরও এক বছর। জানা গেছে এমজিএমসিএলের দক্ষ বিশেষজ্ঞ না থাকায় কর্তৃপক্ষ খনির ড্রয়িং-ডিজাইন করতে দায়িত্ব দেয় পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের। অভিযোগ আছে এই সুযোগে ওই বিদেশি বিশেষজ্ঞ টিম দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তাদের নিজদের পক্ষে ড্রয়িং-ডিজাইন তৈরি করে নেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমজিএমসিএলের নানা প্রতিবন্ধকতা, ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন না করা এবং মালামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি না দিয়ে ৪৭ মাস বসিয়ে রাখা হয়েছিল জিটিসিকে। এমনকি তাদের পাওনা বিল পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল তিন বছর।

বেলারুশ কোম্পানি জিটিসি সূত্র জানায়, এসব কারণে তারা পুরো চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে খনির উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন করতে পারেনি। এখন জিটিসি তিন শিফটে প্রতিদিন খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। এটি খনির উৎপাদন ইতিহাসে নতুন রেকর্ড বলেও জানান জিটিসির চেয়ারম্যান ড. মো. সিরাজুল ইসলাম কাজী। তিনি বলেন, প্রতিদিন তিন শিফটে পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খনিটি চালু করা হয়েছিল সেটি অতিক্রম করে এখন এক দিনে তিন শিফটে ছয় হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করছেন তারা। এটি আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তার মতে, চুক্তি অনুযায়ী তাদের মেয়াদের নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১.১ মিলিয়ন টন পাথর উৎপাদন ও আরও দুটি নতুন স্টোপ নির্মাণকাজ শেষ করতে পারবেন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও ২০ শতাংশ পাথর বেশি উৎপাদন করবে।

খোদ এমজিএমসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে উৎপাদনে থাকা পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার কোম্পানির অধিকাংশ শ্রমিককে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। যার কারণে কয়লাখনি স্বল্প পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে। সেখানে জিটিসি পুরো দমে উৎপাদন চালু রেখেছে। মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর এখন পুরো দমে উৎপাদন চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়েছে। তিনি এজন্য পেট্রোবাংলা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তার মতে, করোনার মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত থাকায় খনিতে শ্রমিকদের প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। গত ২ বছর ধরে খনি লাভবান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন