রাঙামাটিতে ধসপ্রবণ পাহাড়ে ফের বসতি
jugantor
রাঙামাটিতে ধসপ্রবণ পাহাড়ে ফের বসতি
প্রাণহানির শঙ্কা * ঝুঁকিতে ৫ হাজার পরিবার * ধস রোধে সরকারের পদক্ষেপ নেই

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছর বর্ষায় রাঙামাটি সদরসহ জেলার কোথাও না কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালে সদরের কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। অথচ ধসপ্রবণ পাহাড়ের পাদদেশে আবারও জনবসতি গড়ে উঠেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঁচ হাজার পরিবার বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের জরিপে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তথ্য উঠে এসেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবার ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। তবে পাহাড় ধস রোধে সরকারের কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই।

ভারি বৃষ্টি হলেই রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দেয়। প্রতি বর্ষায় পাহাড় ধসের ঝুঁকির মুখে পড়ে এখানকার বহু মানুষ। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৮ সালের জুনে নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে দুটি শিশুসহ ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে কাপ্তাইয়ে তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু এরপরও অসংখ্য মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। শহরের মধ্যেই পাহাড় ধসপ্রবণ ৩৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার তথ্যমতে, পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে শহরের আনাচে-কানাচে তিন হাজারের অধিক পরিবারের মানুষ বসবাস করছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় আরও দুই হাজার পরিবারের মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রবল বর্ষণে এসব এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের শিমুলতলী, ভেদাভেদি মুসলিমপাড়া, টেলিভিশন সেন্টার এলাকা, রেডিও স্টেশন, যুব উন্নয়ন এলাকা, রাঙাপানি, তবলছড়ি ও মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বহু মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ও ঢালে বসবাস করছেন। অথচ ওইসব এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত ভিটায় নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও মেরামত করে বসবাস করছে মানুষজন। ওইসব এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসে বিধিনিষেধ জারি করে সাইনবোর্ড স্থাপন ও লিফলেট বিতরণসহ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ে সরছে না মানুষ। কাপ্তাই, কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও ঝুঁকির মধ্যে বহু পরিবার বসবাস করছে। আবার অনেক জায়গায় ধসে যাওয়া পাহাড়ি ভূমি বিক্রিও হচ্ছে। এসব জায়গা কিনে মেরামত করে তৈরি করা হচ্ছে স্থাপনা। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে জনবসতি।

জেলা প্রশাসন জানায়, কয়েকদিন ধরে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, দুর্যোগকালে সরকারি ছুটির দিনেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে কেউ কর্মস্থলে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত ও সেখানে বসবাস নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বসতি ছেড়ে নিরাপদে সরে না গেলে জোর করে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। শহরের মধ্যে পাহাড় ধসপ্রবণ ৩৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ হাজারের অধিক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। দুর্যোগকালে স্কুল-কলেজগুলো খোলা রাখতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এদিকে শহরসহ জেলায় পাহাড় ধস রোধে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই সরকারের। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর স্থায়ী মেরামত চলছে বলে জানান রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন। তিনি জানান, গুরুত্ব ও প্রয়োজন অনুসারে অভ্যন্তরীণ সড়কের অনেকগুলো অংশ ও স্থানে স্থায়ী মেরামত করা হয়েছে। অনেকগুলোর কাজ চলছে। বাকিগুলোর কাজ চলতি বর্ষা মৌসুমের পরে শেষ করা যাবে। কারণ বর্ষায় কাজ করলে সড়কের ক্ষতি আরও বেড়ে যাবে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।

রাঙামাটিতে ধসপ্রবণ পাহাড়ে ফের বসতি

প্রাণহানির শঙ্কা * ঝুঁকিতে ৫ হাজার পরিবার * ধস রোধে সরকারের পদক্ষেপ নেই
 সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছর বর্ষায় রাঙামাটি সদরসহ জেলার কোথাও না কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালে সদরের কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। অথচ ধসপ্রবণ পাহাড়ের পাদদেশে আবারও জনবসতি গড়ে উঠেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঁচ হাজার পরিবার বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের জরিপে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তথ্য উঠে এসেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবার ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। তবে পাহাড় ধস রোধে সরকারের কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই।

ভারি বৃষ্টি হলেই রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দেয়। প্রতি বর্ষায় পাহাড় ধসের ঝুঁকির মুখে পড়ে এখানকার বহু মানুষ। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৮ সালের জুনে নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে দুটি শিশুসহ ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে কাপ্তাইয়ে তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু এরপরও অসংখ্য মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। শহরের মধ্যেই পাহাড় ধসপ্রবণ ৩৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার তথ্যমতে, পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে শহরের আনাচে-কানাচে তিন হাজারের অধিক পরিবারের মানুষ বসবাস করছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় আরও দুই হাজার পরিবারের মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রবল বর্ষণে এসব এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের শিমুলতলী, ভেদাভেদি মুসলিমপাড়া, টেলিভিশন সেন্টার এলাকা, রেডিও স্টেশন, যুব উন্নয়ন এলাকা, রাঙাপানি, তবলছড়ি ও মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বহু মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ও ঢালে বসবাস করছেন। অথচ ওইসব এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত ভিটায় নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও মেরামত করে বসবাস করছে মানুষজন। ওইসব এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসে বিধিনিষেধ জারি করে সাইনবোর্ড স্থাপন ও লিফলেট বিতরণসহ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ে সরছে না মানুষ। কাপ্তাই, কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও ঝুঁকির মধ্যে বহু পরিবার বসবাস করছে। আবার অনেক জায়গায় ধসে যাওয়া পাহাড়ি ভূমি বিক্রিও হচ্ছে। এসব জায়গা কিনে মেরামত করে তৈরি করা হচ্ছে স্থাপনা। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে জনবসতি।

জেলা প্রশাসন জানায়, কয়েকদিন ধরে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, দুর্যোগকালে সরকারি ছুটির দিনেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে কেউ কর্মস্থলে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত ও সেখানে বসবাস নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বসতি ছেড়ে নিরাপদে সরে না গেলে জোর করে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। শহরের মধ্যে পাহাড় ধসপ্রবণ ৩৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ হাজারের অধিক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। দুর্যোগকালে স্কুল-কলেজগুলো খোলা রাখতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এদিকে শহরসহ জেলায় পাহাড় ধস রোধে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই সরকারের। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর স্থায়ী মেরামত চলছে বলে জানান রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন। তিনি জানান, গুরুত্ব ও প্রয়োজন অনুসারে অভ্যন্তরীণ সড়কের অনেকগুলো অংশ ও স্থানে স্থায়ী মেরামত করা হয়েছে। অনেকগুলোর কাজ চলছে। বাকিগুলোর কাজ চলতি বর্ষা মৌসুমের পরে শেষ করা যাবে। কারণ বর্ষায় কাজ করলে সড়কের ক্ষতি আরও বেড়ে যাবে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন