পৌঁছাতে লাগছে তিন দিন প্যাকেটেই পচছে আম
jugantor
সুন্দরবন কুরিয়ারে অব্যবস্থাপনা
পৌঁছাতে লাগছে তিন দিন প্যাকেটেই পচছে আম

  রাজশাহী ব্যুরো  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে দুই প্যাকেটে ৪০ কেজি আম ঢাকায় পাঠান রাজশাহীর ব্যবসায়ী সম্রাট হোসেন। কেজিপ্রতি ১২ টাকা করে ৪৮০ টাকা মাশুল পরিশোধ করেন। প্রাপক মিরপুর মাজার রোডের নুরুল ইসলাম। প্রাপক ও প্রেরণ দুজনই বুকিং শাখা রাজশাহী ও মিরপুর-১০ এ পরদিন ২৯ মে বিকালে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পণ্যের অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হন তারা। ৩১ মে সন্ধ্যায়ও কোনো বার্তা না পেয়ে প্রেরক সুন্দরবনের হটলাইনে ফোন করে নম্বরটি বন্ধ পান।

এদিকে উপায়ান্তর না দেখে শেষে প্রাপক সুন্দরবনের মিরপুর-১০ শাখায় সরাসরি যান। পণ্যের আগমন ও নির্গমন চার্ট খুঁজে দেখতে পান ২৯ মে মিরপুর-১০ শাখার ম্যানেজার মাসুদুর রহমান প্যাকেটগুলো রিসিভ করেছেন। কিন্তু প্রাপককে কোনো ফোন বা বার্তা পাঠানো হয়নি। বহু কষ্টে তিন দিন পর প্যাকেট খুঁজে বের করে দেখা যায় সব আমই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সম্রাট হোসেনের অভিযোগ, সুন্দরবন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি এজন্য ক্ষতিপূরণ চাইবেন। সুন্দরবনের মিরপুর-১০ শাখার ম্যানেজার মাসুদুর রহমান জানান, তারা প্রাপকের নম্বরে এসএমএস দিয়েছিল কিন্তু নম্বরটি ভুল হয়েছিল। কিন্তু আম পচে যাওয়ায় প্রাপককে আর জানানো হয়নি। রাজশাহী অঞ্চলের ডিজিএম আলতাফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমাদের ক্রটির জন্যই ঘটেছে। অভিযোগ পেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

আমের ভরা মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মোকামে অস্থায়ী শাখা বসিয়ে হাজার হাজার প্যাকেট আম বুকিং নিচ্ছে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ইউএসবি, এজেআর, করতোয়া, আহমেদ, জননীসহ আরও কিছু কুরিয়ার সার্ভিস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কেজিতে মাশুল নেয় ৮ টাকা। সুন্দরবন ও এসএ পরিবহণ নিচ্ছে ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২-১৫ টাকা কেজি করেছে। অথচ উচ্চহারে মাশুল আদায়কারী এ দুটি কুরিয়ার সার্ভিসে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হয়রানি।

বানেশ্বরের আম ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের অভিযোগ, ঢাকায় কর্নেল ইকবালের নামে তিনি সুন্দরবনের বানেশ্বর শাখা থেকে এক প্যাকেট আম পাঠান ৭ জুন। মিরপুর-১০ থেকে ডেলিভারি হয় ১০ জুন সকালে। ৩ জুন তিনি ঢাকার তোফাজ্জল হোসেনের কাছে দুই প্যাকেটে ৪০ কেজি আম পাঠান সুন্দরবনের মাধ্যমে। ৫ জুন মিরপুর-১০ থেকে এক প্যাকেট ডেলিভারি দেওয়া হলেও আরেক প্যাকেটের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ৭ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে নাটোরের বড়াইগ্রামের প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের কাছে এক প্যাকেট আম পাঠান একজন। ১০ জুন সকালে প্রাপক আমের প্যাকেট সংগ্রহ করে খুলে দেখেন বেশিরভাগ আমই পচে গেছে। সুন্দরবনের নাটোর শাখার ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল হক রিজু বলেন, করোনায় জনবলের সংকটে তিন দিন আগে নাটোর থেকে পাঠানো আম তেজগাঁও ডিপোতে গাড়ি থেকে খালাস করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ডেলিভারিতে বিলম্ব ঘটছে। আম ঢাকায় পাঠাতেও দেরি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ১৬টি জেলা শাখা ছাড়াও আম মৌসুমে প্রতিটি উপজেলা ও আমের মোকামে শতাধিক এজেন্ট শাখা খোলা হয়েছে। প্রতিদিন এই কুরিয়ার সার্ভিস বহন ক্ষমতার দ্বিগুণ, ক্ষেত্রবিশেষে তিন-চারগুণ পরিমাণ আমের বুকিং নিচ্ছে। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় ডেলিভারি করার কথা বলা হলেও গন্তব্যে আম পৌঁছাতেই লাগছে দুই অথবা তিন দিন। এভাবেই তারা গ্রাহকদের প্রতারণা করে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকায় সুন্দরবনের শাখা থাকলেও তারা কল্যাণপুর, মিরপুর-১০ ও উত্তরা শাখা থেকে আমের অধিকাংশ চালান ডেলিভারি নিতে বাধ্য করছে। এসব শাখায় বড় কোনো গুদাম নেই। যেনতেন করে আমের প্যাকেট যেখানে সেখানে গাদাগাদি করে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আম। মিরপুর-১০ ও কল্যাণপুর ডিপোতে আম পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সুন্দরবনের রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আলতাফ হোসেন বলেন, বুকিংয়ের চাপ বেশি। এ কারণে তারা আম সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারছেন না। তার ওপর সড়কে যানজট থাকছে। করোনার কারণে জনবল সংকট আছে। গাড়ি ঢাকায় পৌঁছেও জনবলের অভাবে খালাস করা যাচ্ছে না। তবে কারও প্যাকেট হারিয়ে গেলে তারা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন।

সুন্দরবন কুরিয়ারে অব্যবস্থাপনা

পৌঁছাতে লাগছে তিন দিন প্যাকেটেই পচছে আম

 রাজশাহী ব্যুরো 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে দুই প্যাকেটে ৪০ কেজি আম ঢাকায় পাঠান রাজশাহীর ব্যবসায়ী সম্রাট হোসেন। কেজিপ্রতি ১২ টাকা করে ৪৮০ টাকা মাশুল পরিশোধ করেন। প্রাপক মিরপুর মাজার রোডের নুরুল ইসলাম। প্রাপক ও প্রেরণ দুজনই বুকিং শাখা রাজশাহী ও মিরপুর-১০ এ পরদিন ২৯ মে বিকালে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পণ্যের অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হন তারা। ৩১ মে সন্ধ্যায়ও কোনো বার্তা না পেয়ে প্রেরক সুন্দরবনের হটলাইনে ফোন করে নম্বরটি বন্ধ পান।

এদিকে উপায়ান্তর না দেখে শেষে প্রাপক সুন্দরবনের মিরপুর-১০ শাখায় সরাসরি যান। পণ্যের আগমন ও নির্গমন চার্ট খুঁজে দেখতে পান ২৯ মে মিরপুর-১০ শাখার ম্যানেজার মাসুদুর রহমান প্যাকেটগুলো রিসিভ করেছেন। কিন্তু প্রাপককে কোনো ফোন বা বার্তা পাঠানো হয়নি। বহু কষ্টে তিন দিন পর প্যাকেট খুঁজে বের করে দেখা যায় সব আমই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সম্রাট হোসেনের অভিযোগ, সুন্দরবন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি এজন্য ক্ষতিপূরণ চাইবেন। সুন্দরবনের মিরপুর-১০ শাখার ম্যানেজার মাসুদুর রহমান জানান, তারা প্রাপকের নম্বরে এসএমএস দিয়েছিল কিন্তু নম্বরটি ভুল হয়েছিল। কিন্তু আম পচে যাওয়ায় প্রাপককে আর জানানো হয়নি। রাজশাহী অঞ্চলের ডিজিএম আলতাফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমাদের ক্রটির জন্যই ঘটেছে। অভিযোগ পেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

আমের ভরা মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মোকামে অস্থায়ী শাখা বসিয়ে হাজার হাজার প্যাকেট আম বুকিং নিচ্ছে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ইউএসবি, এজেআর, করতোয়া, আহমেদ, জননীসহ আরও কিছু কুরিয়ার সার্ভিস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কেজিতে মাশুল নেয় ৮ টাকা। সুন্দরবন ও এসএ পরিবহণ নিচ্ছে ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২-১৫ টাকা কেজি করেছে। অথচ উচ্চহারে মাশুল আদায়কারী এ দুটি কুরিয়ার সার্ভিসে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হয়রানি।

বানেশ্বরের আম ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের অভিযোগ, ঢাকায় কর্নেল ইকবালের নামে তিনি সুন্দরবনের বানেশ্বর শাখা থেকে এক প্যাকেট আম পাঠান ৭ জুন। মিরপুর-১০ থেকে ডেলিভারি হয় ১০ জুন সকালে। ৩ জুন তিনি ঢাকার তোফাজ্জল হোসেনের কাছে দুই প্যাকেটে ৪০ কেজি আম পাঠান সুন্দরবনের মাধ্যমে। ৫ জুন মিরপুর-১০ থেকে এক প্যাকেট ডেলিভারি দেওয়া হলেও আরেক প্যাকেটের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ৭ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে নাটোরের বড়াইগ্রামের প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের কাছে এক প্যাকেট আম পাঠান একজন। ১০ জুন সকালে প্রাপক আমের প্যাকেট সংগ্রহ করে খুলে দেখেন বেশিরভাগ আমই পচে গেছে। সুন্দরবনের নাটোর শাখার ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল হক রিজু বলেন, করোনায় জনবলের সংকটে তিন দিন আগে নাটোর থেকে পাঠানো আম তেজগাঁও ডিপোতে গাড়ি থেকে খালাস করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ডেলিভারিতে বিলম্ব ঘটছে। আম ঢাকায় পাঠাতেও দেরি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ১৬টি জেলা শাখা ছাড়াও আম মৌসুমে প্রতিটি উপজেলা ও আমের মোকামে শতাধিক এজেন্ট শাখা খোলা হয়েছে। প্রতিদিন এই কুরিয়ার সার্ভিস বহন ক্ষমতার দ্বিগুণ, ক্ষেত্রবিশেষে তিন-চারগুণ পরিমাণ আমের বুকিং নিচ্ছে। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় ডেলিভারি করার কথা বলা হলেও গন্তব্যে আম পৌঁছাতেই লাগছে দুই অথবা তিন দিন। এভাবেই তারা গ্রাহকদের প্রতারণা করে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকায় সুন্দরবনের শাখা থাকলেও তারা কল্যাণপুর, মিরপুর-১০ ও উত্তরা শাখা থেকে আমের অধিকাংশ চালান ডেলিভারি নিতে বাধ্য করছে। এসব শাখায় বড় কোনো গুদাম নেই। যেনতেন করে আমের প্যাকেট যেখানে সেখানে গাদাগাদি করে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আম। মিরপুর-১০ ও কল্যাণপুর ডিপোতে আম পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সুন্দরবনের রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আলতাফ হোসেন বলেন, বুকিংয়ের চাপ বেশি। এ কারণে তারা আম সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারছেন না। তার ওপর সড়কে যানজট থাকছে। করোনার কারণে জনবল সংকট আছে। গাড়ি ঢাকায় পৌঁছেও জনবলের অভাবে খালাস করা যাচ্ছে না। তবে কারও প্যাকেট হারিয়ে গেলে তারা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন