আসছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
jugantor
গাবুরায় বাঁধ পুনর্বাসন
আসছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

  হামিদ-উজ-জামান  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাঁধ পুনর্বাসনে আসছে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকার প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। সেই সঙ্গে যে কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেই ব্যাপক ক্ষতির শিকার হন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশসহ লবণাক্ত পানির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। এজন্য উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লিখিত বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নং-১৫ পুনর্বাসন।’ এটির অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। এরই অংশ হিসাবে পরিকল্পনা কমিশনে গঠন করা কমিটি সরেজমিন ঘুরে এসেছে প্রকল্প এলাকা। শিগগিরই সংশোধিত ডিপিপির খসড়া চূড়ন্ত হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নং-১৫ পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়ে ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। ওই সভার কার্যপত্রে বলা হয়, ৫০ কোটি বা অধিক ব্যয়ের প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করা প্রয়োজন। কিন্তু এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেটি করা হয়নি। এজন্য পানিসম্পদ সেক্টরের অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থা দিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব (পিআরএল ভোগরত) বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ধারণার ওপর প্রকল্প নেওয়া হলে পরে দেখা যায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। যেমন জমি অধিগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরে স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। আবার প্রকল্প এলাকার পরিবেশ, প্রয়োজনীয়তা, উপযোগিতা সব কিছুই উঠে আসে সমীক্ষার প্রতিবেদনে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির অন্যতম প্রধান কারণই হলো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না করে প্রকল্পে নেওয়া। একনেক বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় জানতে চান সম্ভাব্যতা করা হয়েছে কিনা। তিনি নিজেও বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প প্রস্তাব করাটা নিয়মেরও ব্যত্যয়।

তবে এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) এসএম রেজাউল মোস্তফা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আইডব্লিউএমসহ পানিসম্পদ সংশ্লিষ্ট তিনটি সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি করেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব সংস্থা অত্যন্ত দক্ষ। তারা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ করে থাকে। কাজেই এটাও এক ধরনের সমীক্ষা। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গঠিত কমিটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ডিপিপি সংশোধন করা হচ্ছে। শিগগিরই এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। এছাড়া ওই এলাকায় বাঁধ খুবই জরুরি। এটা সবাই জানেন। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি সেটি বাস্তবায়িত হলে বাঁধগুলো খুব শক্ত ও মজবুত হবে। আমরা চেষ্টা করব নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের।

প্রকল্পে প্রস্তাবিত মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ৮১ দশমিক ১২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন এবং ২১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া ৭ দশমিক ৮১৯ কিলোমিটার নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ, ৫টি রেগুলেটর পুনর্বাসন, ১১টি আরসিসি বক্স ইনলেট এবং ২২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন করা হবে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের অর্থ বিভাগ হতে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে প্রাপ্ত মোট সিলিং ৬২ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মন্ত্রণালয় হতে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মোট চাহিদা ২০৯ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। মোট গ্যাপ ১৪৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ গ্যাপ পূরণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কিভাবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির অর্থায়ন নিশ্চিত করবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২১ সালের মার্চ হতে ২০২৩ সালের জুনে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

গাবুরায় বাঁধ পুনর্বাসন

আসছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

 হামিদ-উজ-জামান 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাঁধ পুনর্বাসনে আসছে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকার প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। সেই সঙ্গে যে কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেই ব্যাপক ক্ষতির শিকার হন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশসহ লবণাক্ত পানির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। এজন্য উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লিখিত বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নং-১৫ পুনর্বাসন।’ এটির অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। এরই অংশ হিসাবে পরিকল্পনা কমিশনে গঠন করা কমিটি সরেজমিন ঘুরে এসেছে প্রকল্প এলাকা। শিগগিরই সংশোধিত ডিপিপির খসড়া চূড়ন্ত হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নং-১৫ পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়ে ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। ওই সভার কার্যপত্রে বলা হয়, ৫০ কোটি বা অধিক ব্যয়ের প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করা প্রয়োজন। কিন্তু এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেটি করা হয়নি। এজন্য পানিসম্পদ সেক্টরের অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থা দিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব (পিআরএল ভোগরত) বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ধারণার ওপর প্রকল্প নেওয়া হলে পরে দেখা যায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। যেমন জমি অধিগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরে স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। আবার প্রকল্প এলাকার পরিবেশ, প্রয়োজনীয়তা, উপযোগিতা সব কিছুই উঠে আসে সমীক্ষার প্রতিবেদনে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির অন্যতম প্রধান কারণই হলো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না করে প্রকল্পে নেওয়া। একনেক বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় জানতে চান সম্ভাব্যতা করা হয়েছে কিনা। তিনি নিজেও বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প প্রস্তাব করাটা নিয়মেরও ব্যত্যয়।

তবে এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) এসএম রেজাউল মোস্তফা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আইডব্লিউএমসহ পানিসম্পদ সংশ্লিষ্ট তিনটি সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি করেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব সংস্থা অত্যন্ত দক্ষ। তারা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ করে থাকে। কাজেই এটাও এক ধরনের সমীক্ষা। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গঠিত কমিটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ডিপিপি সংশোধন করা হচ্ছে। শিগগিরই এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। এছাড়া ওই এলাকায় বাঁধ খুবই জরুরি। এটা সবাই জানেন। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি সেটি বাস্তবায়িত হলে বাঁধগুলো খুব শক্ত ও মজবুত হবে। আমরা চেষ্টা করব নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের।

প্রকল্পে প্রস্তাবিত মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ৮১ দশমিক ১২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন এবং ২১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া ৭ দশমিক ৮১৯ কিলোমিটার নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ, ৫টি রেগুলেটর পুনর্বাসন, ১১টি আরসিসি বক্স ইনলেট এবং ২২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন করা হবে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের অর্থ বিভাগ হতে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে প্রাপ্ত মোট সিলিং ৬২ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মন্ত্রণালয় হতে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মোট চাহিদা ২০৯ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। মোট গ্যাপ ১৪৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ গ্যাপ পূরণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কিভাবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির অর্থায়ন নিশ্চিত করবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২১ সালের মার্চ হতে ২০২৩ সালের জুনে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন