ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
jugantor
গুরুদাসপুর হাজেরা ক্লিনিক
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

  গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের গুরুদাসপুর হাজেরা ক্লিনিকে মকবুল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তি ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। বিষয়টি গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখানোয় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি রোগীর পরিবার। গুরুদাসপুর পৌর সদরের হাজেরা ক্লিনিকে বুধবার রাত আটটায় এ ঘটনা ঘটে। লাশটি বৃহস্পতিবার সকালে দাফন করা হয়েছে।

মকবুল হোসেন উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বিলকাঠোর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হার্নিয়া অপারেশনের জন্য বুধবার বিকালে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন।

চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল ও তার ছোটভাই আমিরুল ইসলাম সাগর ওই ক্লিনিকটি পরিচালনা করেন। আমিনুল ইসলাম সোহেল তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হলেও তিনি নিয়মিত বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজেরা ক্লিনিকে রোগী দেখেন। সপ্তাহখানেক আগেও ওই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারেই এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মকবুল হোসেনের স্ত্রী লাইলি বেগম বলেন, হার্নিয়া ছাড়া তার স্বামীর কোনো রোগ ছিল না। অপারেশনের জন্য বুধবার সকাল ১০টায় তারা হাজেরা ক্লিনিকে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় বিকাল পর্যন্ত ক্লিনিকেই অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল তার স্বামীকে ভর্তি করিয়ে অপারেশনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়।

মকবুলের মেয়ে রোকসানা আক্তার বলেন, রাত আটটায় তার বাবাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কোমরে ইনজেকশন পুষ করা হয়। তখন থেকেই তার বাবা চিৎকার করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ সময় কোমড় দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তড়িঘড়ি করে বেডে নিয়ে ক্লিনিকের লোকজন বুকের ওপর উপর্যুপরি চাপ দেয়। একপর্যায়ে ক্লিনিকের ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রাজশাহী পাঠান। তিনি বলেন, তার বাবাকে রাজশাহী নেওয়ার জন্য যে অ্যাম্বুলেন্সটি ক্লিনিকের লোকজন ঠিক করেছিলেন, সেই অ্যাম্বুলেন্সটি তার বাবাকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে যায়নি। অ্যাম্বুলেন্সের চালক শফিউল আলম পথেই ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেরত নিয়ে আসেন। ওই চালকই বলেন তার বাবা মারা গেছেন।

তবে হাজেরা ক্লিনিকের চিকিৎসক মো. আমিনুল ইসলাম সোহেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও অ্যানেসথেসিয়া পুষ করা হয়নি। এ ছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকায় বিভিন্ন রোগীকে তিনিই অ্যানেসথেসিয়া পুষ করেন। আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, তারা যা বলেছেন তা সঠিক নয়। রোগী ক্লিনিকে মারা যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, অপচিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাজেরা ক্লিনিকে অনেক রোগী মারা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হয়ে হাজেরা ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসা দিতে পারেন না।

গুরুদাসপুর হাজেরা ক্লিনিক

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের গুরুদাসপুর হাজেরা ক্লিনিকে মকবুল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তি ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। বিষয়টি গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখানোয় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি রোগীর পরিবার। গুরুদাসপুর পৌর সদরের হাজেরা ক্লিনিকে বুধবার রাত আটটায় এ ঘটনা ঘটে। লাশটি বৃহস্পতিবার সকালে দাফন করা হয়েছে।

মকবুল হোসেন উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বিলকাঠোর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হার্নিয়া অপারেশনের জন্য বুধবার বিকালে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন।

চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল ও তার ছোটভাই আমিরুল ইসলাম সাগর ওই ক্লিনিকটি পরিচালনা করেন। আমিনুল ইসলাম সোহেল তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হলেও তিনি নিয়মিত বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজেরা ক্লিনিকে রোগী দেখেন। সপ্তাহখানেক আগেও ওই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারেই এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মকবুল হোসেনের স্ত্রী লাইলি বেগম বলেন, হার্নিয়া ছাড়া তার স্বামীর কোনো রোগ ছিল না। অপারেশনের জন্য বুধবার সকাল ১০টায় তারা হাজেরা ক্লিনিকে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় বিকাল পর্যন্ত ক্লিনিকেই অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল তার স্বামীকে ভর্তি করিয়ে অপারেশনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়।

মকবুলের মেয়ে রোকসানা আক্তার বলেন, রাত আটটায় তার বাবাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কোমরে ইনজেকশন পুষ করা হয়। তখন থেকেই তার বাবা চিৎকার করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ সময় কোমড় দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তড়িঘড়ি করে বেডে নিয়ে ক্লিনিকের লোকজন বুকের ওপর উপর্যুপরি চাপ দেয়। একপর্যায়ে ক্লিনিকের ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রাজশাহী পাঠান। তিনি বলেন, তার বাবাকে রাজশাহী নেওয়ার জন্য যে অ্যাম্বুলেন্সটি ক্লিনিকের লোকজন ঠিক করেছিলেন, সেই অ্যাম্বুলেন্সটি তার বাবাকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে যায়নি। অ্যাম্বুলেন্সের চালক শফিউল আলম পথেই ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেরত নিয়ে আসেন। ওই চালকই বলেন তার বাবা মারা গেছেন।

তবে হাজেরা ক্লিনিকের চিকিৎসক মো. আমিনুল ইসলাম সোহেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও অ্যানেসথেসিয়া পুষ করা হয়নি। এ ছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকায় বিভিন্ন রোগীকে তিনিই অ্যানেসথেসিয়া পুষ করেন। আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, তারা যা বলেছেন তা সঠিক নয়। রোগী ক্লিনিকে মারা যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, অপচিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাজেরা ক্লিনিকে অনেক রোগী মারা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হয়ে হাজেরা ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসা দিতে পারেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন