গৃহকর্তা হিফজুরকে ঘিরে পুলিশের সন্দেহ
jugantor
গোয়াইনঘাটে এক পরিবারের ৩ জন খুন
গৃহকর্তা হিফজুরকে ঘিরে পুলিশের সন্দেহ

  সিলেট ব্যুরো  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছেলে-মেয়েসহ গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বুধবার রাতে গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন গৃহবধূর বাবা আইয়ুব আলী। প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্তা হিফজুর রহমানকে সন্দেহ করার মতো বেশ কিছু কারণ পেয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের হিফজুর রহমানের ঘর থেকে তার স্ত্রী আলিমা বেগম (৩২), ছেলে মিজান আহমদ (১০) ও মেয়ে তানিশা আক্তারের (৩) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সময় হিফজুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার রাতে হিফজুরের আরেক ছেলে আফসান আহমদ (৫) তার মামার বাড়িতে ছিল। সে সুস্থ আছে। ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, আমি অসুস্থ। হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লাশে চোখ খুলে আবার বন্ধ করে ফেলেন হিফজুর। স্থানীয়রা তখন তার কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। হিফজুরের শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক কলহ ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ। তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত ও ফোনকলের বিষয়গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণেই হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে খুন করেন। এরপর নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান করেন। হিফজুরের পরিবারে কলহ ছিল বলে প্রতিবেশী জানিয়েছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার বিকালে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল আহাদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে তিনটি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন হিফজুরের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু একেক সময় একেক কথা বলছেন তিনি। সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। নিজেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে দাবি করছেন। স্ত্রী-সন্তানদের গলা কাটার ব্যাপারে প্রশ্ন করলেই কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বলছেন, মানুষ নয়, মাছ কেটেছি। এর বেশি আর কিছু বলতে রাজি নয় হিফজুর। আলিমা বেগমের পেটে পাঁচ মাসের মেয়েসন্তান ছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

গোয়াইনঘাটে এক পরিবারের ৩ জন খুন

গৃহকর্তা হিফজুরকে ঘিরে পুলিশের সন্দেহ

 সিলেট ব্যুরো 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছেলে-মেয়েসহ গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বুধবার রাতে গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন গৃহবধূর বাবা আইয়ুব আলী। প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্তা হিফজুর রহমানকে সন্দেহ করার মতো বেশ কিছু কারণ পেয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের হিফজুর রহমানের ঘর থেকে তার স্ত্রী আলিমা বেগম (৩২), ছেলে মিজান আহমদ (১০) ও মেয়ে তানিশা আক্তারের (৩) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সময় হিফজুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার রাতে হিফজুরের আরেক ছেলে আফসান আহমদ (৫) তার মামার বাড়িতে ছিল। সে সুস্থ আছে। ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, আমি অসুস্থ। হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লাশে চোখ খুলে আবার বন্ধ করে ফেলেন হিফজুর। স্থানীয়রা তখন তার কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। হিফজুরের শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক কলহ ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ। তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত ও ফোনকলের বিষয়গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণেই হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে খুন করেন। এরপর নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান করেন। হিফজুরের পরিবারে কলহ ছিল বলে প্রতিবেশী জানিয়েছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার বিকালে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল আহাদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে তিনটি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন হিফজুরের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু একেক সময় একেক কথা বলছেন তিনি। সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। নিজেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে দাবি করছেন। স্ত্রী-সন্তানদের গলা কাটার ব্যাপারে প্রশ্ন করলেই কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বলছেন, মানুষ নয়, মাছ কেটেছি। এর বেশি আর কিছু বলতে রাজি নয় হিফজুর। আলিমা বেগমের পেটে পাঁচ মাসের মেয়েসন্তান ছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন