সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব চায় বিএনপি
jugantor
সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব চায় বিএনপি
সাংগঠনিক জেলাগুলোতে চিঠি * কমিটিতে কমপক্ষে ৫ জন করে নারী নেত্রী রাখার নির্দেশ

  তারিকুল ইসলাম  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চায় দলটি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক জেলাগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে কমপক্ষে ৫ জন করে নারী নেত্রী রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, এ নিয়ে কাজ চলছে। আমাদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল তো এখনো করতে পারিনি। অনেক সাংগঠনিক জেলায় আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে, উপজেলা কমিটিগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে-সেগুলোতে ৫ জন করে মহিলা নেত্রী রাখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ৩৩ শতাংশে চলে যাব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একমাত্র নারী সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি সব সময় নারীবান্ধব দল। এখন আমাদের দলে প্রায় ১৪ শতাংশ নারী রয়েছে। হামলা-মামলা, কোভিড ইত্যাদি কারণে হয়তো ৩৩ শতাংশে আনতে পারিনি। তবে চেষ্টা করছি। ২০ শতাংশ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিএনপির অলরেডি নির্দেশ আছে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নারীদের কমিটিতে রাখতে হবে। সব জেলা-উপজেলায় নারীদের নেতৃত্বে রাখার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে দল।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়াব। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা এই সংখ্যা ৩৩ শতাংশে নিয়ে যাব।’ দলীয় প্রধানের সেই প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ হয়নি। উপরন্তু বিএনপির গঠনতন্ত্রেও ‘২০২০ সালের মধ্যে সব কমিটিতে মহিলা সদস্য সংখ্যা শতকরা ৩৩ ভাগে উন্নীত করতে হবে’-এমন প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তার কাছাকাছিও পৌঁছা যায়নি। যদিও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিলেও রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও)-এর ৯০বি ধারায় রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয়সহ সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষণ ও এসব পদ পূরণের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত দেওয়া আছে। ইতোমধ্যে ওই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। বিএনপিসহ কেউই নির্দিষ্ট সময়ে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এ লক্ষ্য অর্জন নিবন্ধন পাওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল। যদিও সম্প্রতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা হয়েছে কিনা-সে তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে ইসি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি; যা দলের হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে। চিঠির জবাবের বিষয়ে হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার পর গত শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া দলটির এক নেতা জানান, সমাজের বড় অংশ এখন নারী, সেখানে তাদের বাদ দিয়ে রাজনীতি করা মানে বড় একটি জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়া। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কমিটিগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ৬৪০ জন। এর মধ্যে নারী রয়েছেন ৭১ জন। সে হিসাবে বিএনপিতে নারী নেতৃত্ব রয়েছে ১১.০৯ শতাংশ। স্থায়ী কমিটির ১৯ জন সদস্যের মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়া একমাত্র নারী সদস্য সেলিমা রহমান। ৮২ জনের উপদেষ্টামণ্ডলীতে ছয়জন নারী সদস্য রয়েছেন। সাংগঠনিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং সম্পাদকমণ্ডলী, সহসম্পাদকমণ্ডলীর সংখ্যা ২০৯ জন। এই পদগুলোতে নারী রয়েছেন ২০ জন। নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৯৪ হলেও নারী রয়েছে মাত্র ৪৩ জন।

নারী নেতৃত্ব কীভাবে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে এ বিষয়ে বিএনপির দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক যুগান্তরকে বলেন, গত বছর সব জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, কতজন নারী নেতৃত্ব রয়েছেন তা জানাতে। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছিল। একইভাবে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের চিঠি দেওয়া হয়। আর ২০১৪ সাল থেকে যেসব নারী উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর নির্বাচন করেছেন তাদের তালিকাও করতে বলা হয়। ৬৪টি জেলার তথ্য কেন্দ্রে জমাও হয়েছে। কিন্তু এরপর এ নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব চায় বিএনপি

সাংগঠনিক জেলাগুলোতে চিঠি * কমিটিতে কমপক্ষে ৫ জন করে নারী নেত্রী রাখার নির্দেশ
 তারিকুল ইসলাম 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চায় দলটি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক জেলাগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে কমপক্ষে ৫ জন করে নারী নেত্রী রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, এ নিয়ে কাজ চলছে। আমাদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল তো এখনো করতে পারিনি। অনেক সাংগঠনিক জেলায় আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে, উপজেলা কমিটিগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে-সেগুলোতে ৫ জন করে মহিলা নেত্রী রাখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ৩৩ শতাংশে চলে যাব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একমাত্র নারী সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি সব সময় নারীবান্ধব দল। এখন আমাদের দলে প্রায় ১৪ শতাংশ নারী রয়েছে। হামলা-মামলা, কোভিড ইত্যাদি কারণে হয়তো ৩৩ শতাংশে আনতে পারিনি। তবে চেষ্টা করছি। ২০ শতাংশ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিএনপির অলরেডি নির্দেশ আছে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নারীদের কমিটিতে রাখতে হবে। সব জেলা-উপজেলায় নারীদের নেতৃত্বে রাখার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে দল।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়াব। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা এই সংখ্যা ৩৩ শতাংশে নিয়ে যাব।’ দলীয় প্রধানের সেই প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ হয়নি। উপরন্তু বিএনপির গঠনতন্ত্রেও ‘২০২০ সালের মধ্যে সব কমিটিতে মহিলা সদস্য সংখ্যা শতকরা ৩৩ ভাগে উন্নীত করতে হবে’-এমন প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তার কাছাকাছিও পৌঁছা যায়নি। যদিও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিলেও রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও)-এর ৯০বি ধারায় রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয়সহ সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষণ ও এসব পদ পূরণের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত দেওয়া আছে। ইতোমধ্যে ওই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। বিএনপিসহ কেউই নির্দিষ্ট সময়ে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এ লক্ষ্য অর্জন নিবন্ধন পাওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল। যদিও সম্প্রতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা হয়েছে কিনা-সে তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে ইসি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি; যা দলের হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে। চিঠির জবাবের বিষয়ে হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার পর গত শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া দলটির এক নেতা জানান, সমাজের বড় অংশ এখন নারী, সেখানে তাদের বাদ দিয়ে রাজনীতি করা মানে বড় একটি জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়া। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কমিটিগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ৬৪০ জন। এর মধ্যে নারী রয়েছেন ৭১ জন। সে হিসাবে বিএনপিতে নারী নেতৃত্ব রয়েছে ১১.০৯ শতাংশ। স্থায়ী কমিটির ১৯ জন সদস্যের মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়া একমাত্র নারী সদস্য সেলিমা রহমান। ৮২ জনের উপদেষ্টামণ্ডলীতে ছয়জন নারী সদস্য রয়েছেন। সাংগঠনিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং সম্পাদকমণ্ডলী, সহসম্পাদকমণ্ডলীর সংখ্যা ২০৯ জন। এই পদগুলোতে নারী রয়েছেন ২০ জন। নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৯৪ হলেও নারী রয়েছে মাত্র ৪৩ জন।

নারী নেতৃত্ব কীভাবে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে এ বিষয়ে বিএনপির দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক যুগান্তরকে বলেন, গত বছর সব জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, কতজন নারী নেতৃত্ব রয়েছেন তা জানাতে। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছিল। একইভাবে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের চিঠি দেওয়া হয়। আর ২০১৪ সাল থেকে যেসব নারী উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর নির্বাচন করেছেন তাদের তালিকাও করতে বলা হয়। ৬৪টি জেলার তথ্য কেন্দ্রে জমাও হয়েছে। কিন্তু এরপর এ নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন