কুষ্টিয়ায় হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু
jugantor
কুষ্টিয়ায় হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

  এ এম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ জারি হলেও তা তেমন কাজে আসেনি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডকেও করোনা ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শহর থেকে প্রায় প্রতিটি গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এটা ভারতীয় ডেলটা প্রকৃতির মনে হচ্ছে। কারণ আইসোলেশন ওয়ার্ডে এর আগে রোগীদের এটেনডেন্টরা কখনো আক্রান্ত হননি। কিন্তু এখন হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা জেলায় কঠোর লকডাউনের পরামর্শ দিয়ে এলেও করোনা প্রতিরোধ কমিটি তা আমলে নেয়নি।

বৃহস্পতিবার জেলায় ৩৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫৬ জনের। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। শনাক্তের হার ৪০ শতাংশের ওপরে। আগের দিন বুধবার ২৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মঙ্গলবার ২৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ৯৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

জানা গেছে, জুনের শুরু থেকে কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ১২ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। শুক্রবার সেই বিধিনিষেধ শেষ হয়েছে। তবে এই এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ ছিল শুধুই কাগজেকলমে, মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গণমাধ্যম কর্মী নুরুল কাদের বলেন, শহরে দুই-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও শহরের প্রবেশমুখে কিছু গাড়ি আটকে দেওয়া ছাড়া আর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। শহরের ব্যবসায়ী এম জেড সাঈদী বলেন, শহরে বিধিনিষেধ বলে তেমন কিছুই ছিল না, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলে। শহরজুড়েই যানজট ছিল। কেউ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দুইদিনে তিনজন চিকিৎসক আক্রান্ত হলেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। করোনা ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ছিল ৭৪। বৃহস্পতিবার সার্জিক্যাল ওয়ার্ডকেও করোনা ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এতে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১০০ তে উন্নীত হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে ৮৪ জন পজিটিভ ও ৩০ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। চিকিৎসকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড ঘোষণা ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, জেলায় কঠোর লকডাউনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু

 এ এম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ জারি হলেও তা তেমন কাজে আসেনি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডকেও করোনা ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শহর থেকে প্রায় প্রতিটি গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এটা ভারতীয় ডেলটা প্রকৃতির মনে হচ্ছে। কারণ আইসোলেশন ওয়ার্ডে এর আগে রোগীদের এটেনডেন্টরা কখনো আক্রান্ত হননি। কিন্তু এখন হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা জেলায় কঠোর লকডাউনের পরামর্শ দিয়ে এলেও করোনা প্রতিরোধ কমিটি তা আমলে নেয়নি।

বৃহস্পতিবার জেলায় ৩৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫৬ জনের। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। শনাক্তের হার ৪০ শতাংশের ওপরে। আগের দিন বুধবার ২৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মঙ্গলবার ২৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ৯৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

জানা গেছে, জুনের শুরু থেকে কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ১২ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। শুক্রবার সেই বিধিনিষেধ শেষ হয়েছে। তবে এই এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ ছিল শুধুই কাগজেকলমে, মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গণমাধ্যম কর্মী নুরুল কাদের বলেন, শহরে দুই-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও শহরের প্রবেশমুখে কিছু গাড়ি আটকে দেওয়া ছাড়া আর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। শহরের ব্যবসায়ী এম জেড সাঈদী বলেন, শহরে বিধিনিষেধ বলে তেমন কিছুই ছিল না, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলে। শহরজুড়েই যানজট ছিল। কেউ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দুইদিনে তিনজন চিকিৎসক আক্রান্ত হলেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। করোনা ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ছিল ৭৪। বৃহস্পতিবার সার্জিক্যাল ওয়ার্ডকেও করোনা ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এতে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১০০ তে উন্নীত হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে ৮৪ জন পজিটিভ ও ৩০ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। চিকিৎসকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড ঘোষণা ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, জেলায় কঠোর লকডাউনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন