ঢামেকের কাছে বকেয়া বিল চায় ৩০ হোটেল
jugantor
ঢামেকের কাছে বকেয়া বিল চায় ৩০ হোটেল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিন সেবাদানকারী ৩০টি আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ করেনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। বকেয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন হোটেলের মালিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়। এতে বিহার কো-চেয়ারম্যান মো. খালেদ উর রহমান বলেন, গত বছরের মার্চে সরকারের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের সময় সিদ্ধান্ত হয় চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীদের হোটেলে কোয়ারেন্টিনের। পরে সরকার আমাদের হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর আমরা সব হোটেলে যোগাযোগ করি, যাতে করোনায় সেবা দেওয়া চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে পারি। এতে হোটেল মালিকরা এগিয়ে আসেন।

খালেদ বলেন, গত বছরের জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই চার মাস তাদের জন্য ৩০টি হোটেলে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য ঢামেক হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি হয় ১০ দিন পরপর আমাদের বিল সাবমিট করা হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে আমাদের বিল পরিশোধ করা হবে। তখন দেশের একটি দুঃসময় ছিল, তখন আমরা হোটেল মালিকরা সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। লকডাউনের কারণে যখন সবকিছু বন্ধ ছিল, তখন আমরা হোটেল কর্মচারীদের বাড়ি থেকে আবার হোটেলে নিয়ে আসি। নতুন করে কিছু নিয়োগও দেই। তখন আমরা করোনাযোদ্ধা হিসাবে তাদের সেবা দেই। কিন্তু আমরা বিল পাইনি।

খালেদ আরও বলেন, লকডাউনের কারণে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট বন্ধ, এজন্য ফরেন গেস্ট নির্ভর আমাদের ব্যবসা বন্ধের পথে। স্টাফদের বেতন দিতে পারছি না। হোটেলের ইউটিলিটি বিল দিতে পারছি না, তারাও নোটিশ দিচ্ছে, সব সার্ভিস ডিসকানেক্ট করে দিচ্ছে। ৩০ জুনের মধ্যে বিল না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।

বিহার কো-চেয়ারম্যান বলেন, গত বছরের জুন থেকে আগস্ট এই চার মাসের বিল বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শুধু জুন মাসের বিলটা আমরা পেয়েছি। বাকি তিন মাসের প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিল পাইনি। ১১ মাস ধরে এই বিলের জন্য ঘুরছি। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মানববন্ধনে বিহার সহ-সভাপতি এটিএম সাইদুল আলম বলেন, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের আর কোনো উপায় নেই এখানে মানববন্ধনে দাঁড়ানো ছাড়া। বিদেশি গেস্ট না আসার কারণে আমাদের হোটেল ব্যবসা খুবই বিপদগ্রস্ত।

মানববন্ধন শেষে তারা ঢামেক পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন। ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, গত বছরের কিছু বিল নিয়ে অডিট আপত্তির কারণে তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিলগুলো খতিয়ে দেখছেন। তিনি হোটেল মালিকদের যত দ্রুত সম্ভব বিল পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

ঢামেকের কাছে বকেয়া বিল চায় ৩০ হোটেল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিন সেবাদানকারী ৩০টি আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ করেনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। বকেয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন হোটেলের মালিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়। এতে বিহার কো-চেয়ারম্যান মো. খালেদ উর রহমান বলেন, গত বছরের মার্চে সরকারের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের সময় সিদ্ধান্ত হয় চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীদের হোটেলে কোয়ারেন্টিনের। পরে সরকার আমাদের হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর আমরা সব হোটেলে যোগাযোগ করি, যাতে করোনায় সেবা দেওয়া চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে পারি। এতে হোটেল মালিকরা এগিয়ে আসেন।

খালেদ বলেন, গত বছরের জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই চার মাস তাদের জন্য ৩০টি হোটেলে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য ঢামেক হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি হয় ১০ দিন পরপর আমাদের বিল সাবমিট করা হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে আমাদের বিল পরিশোধ করা হবে। তখন দেশের একটি দুঃসময় ছিল, তখন আমরা হোটেল মালিকরা সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। লকডাউনের কারণে যখন সবকিছু বন্ধ ছিল, তখন আমরা হোটেল কর্মচারীদের বাড়ি থেকে আবার হোটেলে নিয়ে আসি। নতুন করে কিছু নিয়োগও দেই। তখন আমরা করোনাযোদ্ধা হিসাবে তাদের সেবা দেই। কিন্তু আমরা বিল পাইনি।

খালেদ আরও বলেন, লকডাউনের কারণে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট বন্ধ, এজন্য ফরেন গেস্ট নির্ভর আমাদের ব্যবসা বন্ধের পথে। স্টাফদের বেতন দিতে পারছি না। হোটেলের ইউটিলিটি বিল দিতে পারছি না, তারাও নোটিশ দিচ্ছে, সব সার্ভিস ডিসকানেক্ট করে দিচ্ছে। ৩০ জুনের মধ্যে বিল না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।

বিহার কো-চেয়ারম্যান বলেন, গত বছরের জুন থেকে আগস্ট এই চার মাসের বিল বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শুধু জুন মাসের বিলটা আমরা পেয়েছি। বাকি তিন মাসের প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিল পাইনি। ১১ মাস ধরে এই বিলের জন্য ঘুরছি। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মানববন্ধনে বিহার সহ-সভাপতি এটিএম সাইদুল আলম বলেন, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের আর কোনো উপায় নেই এখানে মানববন্ধনে দাঁড়ানো ছাড়া। বিদেশি গেস্ট না আসার কারণে আমাদের হোটেল ব্যবসা খুবই বিপদগ্রস্ত।

মানববন্ধন শেষে তারা ঢামেক পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন। ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, গত বছরের কিছু বিল নিয়ে অডিট আপত্তির কারণে তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিলগুলো খতিয়ে দেখছেন। তিনি হোটেল মালিকদের যত দ্রুত সম্ভব বিল পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন