সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা না দিলে টাকা ফেরত দেবে: অর্থমন্ত্রী
jugantor
সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা না দিলে টাকা ফেরত দেবে: অর্থমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট যথাসময়ে করোনার টিকা দিতে না পারলে টাকা ফেরত দেবে। এটা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেখভাল করবে। চুক্তি অনুযায়ী কতদিন সময় নিয়েছিল সেটি দেখতে হবে। তাদেরও (ভারত) সেখানে টিকা প্রয়োজন। সেসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্যই এটা ঠিক, তারা ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেবেই।

ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয় এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় গেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা চলমান। এ পর্যায়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি দুটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে এক হাজার এক কোটি টাকা ব্যয়ের ১৫টি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা জানতে চান ৫ থেকে ১০ টাকার সার্জিক্যাল মাস্ক ৩৫৬ টাকায় কেনা হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির কাছে ধরা পড়েছে। এগুলো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে যেভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় তেমনিভাবে তাদের ক্রয় করার সুযোগও আছে। তারা নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে কিনতে পারে, সেই লিমিট যখন পার হয়ে যাবে, তখন আমাদের কমিটিতে আসবে। এগুলো তদারক করা হবে। কালো টাকা সাদা করার বর্তমান সুযোগ আগামী অর্থবছরে অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ২৯ জুন অর্থবিল পাশ হওয়ার সময় এ বিষয়ে জানা যাবে। নতুন অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন এবং সামনের অর্থবছরে পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ অনেক, বহুবিধ। নাই বলব না। তবে, আমরা চ্যালেঞ্জকে সবসময় সুযোগ হিসাবে চিন্তা করি। ইতিহাস থেকে দেখেছি, যখন চ্যালেঞ্জ আসে, তখন অনেক সুযোগও আসে।

করোনা মহামারির মধ্যে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আয় কম থাকলেও ১১ মাসে তা ১৭ শতাংশ বেড়েছে। আর রপ্তানি এ সময়ে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে রিজার্ভ প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনগুলোতে ভালো করব আশা করি।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, করোনার প্রভাব কাটাতে সংকোচন নয়, সম্প্রসারণমূলক নীতি নিতে হবে। তার আগেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা ও আর্থিক নীতি নিতে হবে। আমাদের আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছয় দশমিক দুই শতাংশ, যা আমেরিকার ১৮ শতাংশ, ভারতের ১৩ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, জাপানের ১২ দশমিক নয় শতাংশ, চীনের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও ভিয়েতনামের ছয় দশমিক দুই শতাংশ। এখন সব দেশই ঘাটতি বাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা না দিলে টাকা ফেরত দেবে: অর্থমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট যথাসময়ে করোনার টিকা দিতে না পারলে টাকা ফেরত দেবে। এটা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেখভাল করবে। চুক্তি অনুযায়ী কতদিন সময় নিয়েছিল সেটি দেখতে হবে। তাদেরও (ভারত) সেখানে টিকা প্রয়োজন। সেসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্যই এটা ঠিক, তারা ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেবেই।

ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয় এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় গেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা চলমান। এ পর্যায়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি দুটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে এক হাজার এক কোটি টাকা ব্যয়ের ১৫টি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা জানতে চান ৫ থেকে ১০ টাকার সার্জিক্যাল মাস্ক ৩৫৬ টাকায় কেনা হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির কাছে ধরা পড়েছে। এগুলো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে যেভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় তেমনিভাবে তাদের ক্রয় করার সুযোগও আছে। তারা নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে কিনতে পারে, সেই লিমিট যখন পার হয়ে যাবে, তখন আমাদের কমিটিতে আসবে। এগুলো তদারক করা হবে। কালো টাকা সাদা করার বর্তমান সুযোগ আগামী অর্থবছরে অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ২৯ জুন অর্থবিল পাশ হওয়ার সময় এ বিষয়ে জানা যাবে। নতুন অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন এবং সামনের অর্থবছরে পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ অনেক, বহুবিধ। নাই বলব না। তবে, আমরা চ্যালেঞ্জকে সবসময় সুযোগ হিসাবে চিন্তা করি। ইতিহাস থেকে দেখেছি, যখন চ্যালেঞ্জ আসে, তখন অনেক সুযোগও আসে।

করোনা মহামারির মধ্যে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আয় কম থাকলেও ১১ মাসে তা ১৭ শতাংশ বেড়েছে। আর রপ্তানি এ সময়ে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে রিজার্ভ প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনগুলোতে ভালো করব আশা করি।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, করোনার প্রভাব কাটাতে সংকোচন নয়, সম্প্রসারণমূলক নীতি নিতে হবে। তার আগেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা ও আর্থিক নীতি নিতে হবে। আমাদের আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছয় দশমিক দুই শতাংশ, যা আমেরিকার ১৮ শতাংশ, ভারতের ১৩ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, জাপানের ১২ দশমিক নয় শতাংশ, চীনের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও ভিয়েতনামের ছয় দশমিক দুই শতাংশ। এখন সব দেশই ঘাটতি বাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন