সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলামের দুই ভাই ধরাছোঁয়ার বাইরে
jugantor
চট্টগ্রামের বার্মা কলোনি
সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলামের দুই ভাই ধরাছোঁয়ার বাইরে
প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের খাতায় পলাতক

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বার্মা কলোনির সন্ত্রাসী ও ১৮ মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল গ্রেফতার হলেও তার দুই ভাই সবুজ ও সামশু ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এলাকায় খুন, মারামারি, দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেখানে তারা রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ডজন ডজন মামলা থাকার পরও তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা নতুন নতুন অপকর্মও করছেন। অথচ পুলিশের খাতায় তারা পলাতক।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার সন্ত্রাসী তালিকায় সাইফুল, সবুজ ও সামশুর নাম রয়েছে। এর মধ্যে সবুজের বিরুদ্ধে খুন ও মারামারিসহ ২১টি মামলা আছে। সামশুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১২টি মামলা আছে। ডজন ডজন মামলা থাকার পরও তারা এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নতুন নতুন অপকর্মও তারা করছেন। অথচ পুলিশের খাতায় দুই ভাই পলাতক।

জানা গেছে, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বার্মা কলোনি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বসবাসকারী বেশির ভাগই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এ কারণে এটি বার্মা কলোনি হিসাবে পরিচিত। এখানে সাইফুলের গোটা পরিবার বাস করে। দুই ভাইকে নিয়ে সাইফুল এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। লোকজনকে তারা আতঙ্কের মধ্যে রেখেছেন। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে কথাও বলতে পারে না। বার্মা কলোনির সরকারি জমি তারা বিভিন্ন সময় মানুষের কাছে বিক্রিও করেছেন। এছাড়া সেখানে বসবাসকারীদের মাসে মাসে চাঁদা দিতে হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, সাইফুল ও তার অপর দুই ভাই সবুজ ও সামশু সরকারি জমি দখল করে বিক্রি করে। কেউ ভবন নির্মাণ করলে তাদের চাঁদা দিতে হয়। নয়তো তাদের কাছ থেকে চড়া দামে ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী নিতে হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী যুগান্তরকে বলেন, ১৯৬৩ সালের দিকে বার্মা (মিয়ানমার) থেকে সাইফুলের বাবা নুরুল আলম চট্টগ্রাম এসেছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। সাইফুল ও তার দুই ভাই শুধু বার্মা কলোনিতে নয়; পাশের আমীন কলোনি, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কটি এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছেন। কেউ ভবন নির্মাণ করলে তাদের চাঁদা দিতে হয়। এর বাইরে একজনের জমি অন্যজনকে দখল পাইয়ে দেওয়া, কিংবা একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করাসহ নানা অপকর্মে তারা লিপ্ত। চসিক নির্বাচনের দিন সাইফুল ও তার ভাইয়েরা বেশ কয়েকজনকে কুপিয়েছে। দুই মাসে সাইফুল অন্তত চারবার গ্রেফতার হলেও বারবার জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। ১৬ জুন রাতে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাইফুল গ্রেফতার হন। এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি গেটের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, তিনটি কার্তুজ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং সৃষ্টিসহ তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

চট্টগ্রামের বার্মা কলোনি

সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলামের দুই ভাই ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের খাতায় পলাতক
 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বার্মা কলোনির সন্ত্রাসী ও ১৮ মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল গ্রেফতার হলেও তার দুই ভাই সবুজ ও সামশু ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এলাকায় খুন, মারামারি, দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেখানে তারা রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ডজন ডজন মামলা থাকার পরও তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা নতুন নতুন অপকর্মও করছেন। অথচ পুলিশের খাতায় তারা পলাতক।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার সন্ত্রাসী তালিকায় সাইফুল, সবুজ ও সামশুর নাম রয়েছে। এর মধ্যে সবুজের বিরুদ্ধে খুন ও মারামারিসহ ২১টি মামলা আছে। সামশুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১২টি মামলা আছে। ডজন ডজন মামলা থাকার পরও তারা এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নতুন নতুন অপকর্মও তারা করছেন। অথচ পুলিশের খাতায় দুই ভাই পলাতক।

জানা গেছে, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বার্মা কলোনি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বসবাসকারী বেশির ভাগই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এ কারণে এটি বার্মা কলোনি হিসাবে পরিচিত। এখানে সাইফুলের গোটা পরিবার বাস করে। দুই ভাইকে নিয়ে সাইফুল এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। লোকজনকে তারা আতঙ্কের মধ্যে রেখেছেন। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে কথাও বলতে পারে না। বার্মা কলোনির সরকারি জমি তারা বিভিন্ন সময় মানুষের কাছে বিক্রিও করেছেন। এছাড়া সেখানে বসবাসকারীদের মাসে মাসে চাঁদা দিতে হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, সাইফুল ও তার অপর দুই ভাই সবুজ ও সামশু সরকারি জমি দখল করে বিক্রি করে। কেউ ভবন নির্মাণ করলে তাদের চাঁদা দিতে হয়। নয়তো তাদের কাছ থেকে চড়া দামে ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী নিতে হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী যুগান্তরকে বলেন, ১৯৬৩ সালের দিকে বার্মা (মিয়ানমার) থেকে সাইফুলের বাবা নুরুল আলম চট্টগ্রাম এসেছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। সাইফুল ও তার দুই ভাই শুধু বার্মা কলোনিতে নয়; পাশের আমীন কলোনি, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কটি এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছেন। কেউ ভবন নির্মাণ করলে তাদের চাঁদা দিতে হয়। এর বাইরে একজনের জমি অন্যজনকে দখল পাইয়ে দেওয়া, কিংবা একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করাসহ নানা অপকর্মে তারা লিপ্ত। চসিক নির্বাচনের দিন সাইফুল ও তার ভাইয়েরা বেশ কয়েকজনকে কুপিয়েছে। দুই মাসে সাইফুল অন্তত চারবার গ্রেফতার হলেও বারবার জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। ১৬ জুন রাতে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাইফুল গ্রেফতার হন। এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি গেটের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, তিনটি কার্তুজ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং সৃষ্টিসহ তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন